টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি: মওদুদ

চট্টগ্রাম, ০৭  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  বিএনপি স্থানীয় নির্বাচনে সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেবে না বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি সম্ভব নির্বাচনে অংশ নেবে। চেয়ারপারসন দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

শনিবার সকালে ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির সংলাপের আহ্বান সরকারি দলের পক্ষ থেকে নাকচ করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ বলেন, “সরকার সাড়া না দিলেও বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বান অব্যাহত থাকবে।”

সম্প্রতি লন্ডনে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। তিনি সরকারকে সংলাপে বসারও আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে তার এ আহ্বানকে বরাবরের মতো নাকচ করে দিয়েছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী।

ক্ষমতার বাইরে থাকার পরও প্রতিবছর বেশ ঘটা করেই বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করে বিএনপি। এতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকেন। তবে এবার তাতে ব্যত্যয় ঘটেছে। দেড় মাসের মতো দেশের বাইরে আছেন খালেদা জিয়া। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে তেমন আয়োজনও দেখা যায়নি।

তবে চেয়ারপারসন দেশে না থাকলেও শনিবার দলের প্রতিষ্ঠাতার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মীদের বেশ উপস্থিতি ছিল।

মওদুদ বলেন, “দেশে এখন রাজনীতি নেই। গণতন্ত্র নেই। যেটুকু আছে, তাও নিয়ন্ত্রিত।”

স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কি না এমন প্রশ্নে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “সরকারকে ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর এই নির্বাচনে তো সরকার পরিবর্তন হবে না। এ ছাড়া বিএনপি স্থানীয় সব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। চেয়ারপারসন দেশে ফিরলে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খুব সম্ভবত বিএনপি এই নির্বাচনে যাবে।”

খালেদা জিয়া কবে নাগাদ দেশে ফিরবেন এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, “খুব শিগগির চেয়ারপারসন দেশে ফিরবেন।”

মওদুদ বলেন, “দেশে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলার চেতনা এখন ভূলুণ্ঠিত। যে গণতন্ত্র আমরা চর্চা করতাম সে গণতন্ত্র নেই বললেই চলে। এই হারানো গণতন্ত্র ফিরে পেতেই আমরা আন্দোলন করছি। সামনের দিনে এ আন্দোলন আরো জোরদার করা হবে এবং আন্দোলন চলবে।”

৭ নভেম্বর প্রসঙ্গে মওদুদ বলেন, “এই দিনেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছিলেন। তাই এ দিনটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী,চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু,যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দীন খোকন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, যুববিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-দপ্তর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, আব্দুল লতিফ জনি, শামীমুর রহামান শামীমসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মতামত