টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানে ভাতিজার হাতে ফুফু খুন : দেড়মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

লাশ দেখে জ্ঞান হারালো একমাত্র ছেলে মুবিন

এস.এম. ই্উসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

Raozan-murder-postmortem-piচট্টগ্রাম, ০৬ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলীতে খুন হওয়ার দেড়মাস পর বৃদ্ধা নুর আয়েশার লাশ ময়না তদন্ত, ডিএনএ টেস্ট ও সুরতহাল রিপোর্টের জন্যে ৬ নভেম্বর শুক্রবার কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠিয়েছে থানা পুলিশ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপজেলা ভুমি অফিসার দীপক কুমার রায়ের উপস্থিতিতে কদলপুর ইউনিয়নের লস্কর উজির দিঘীর পাড়ের কবরস্থ্না থেকে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তপাড়ায় শাহদুল্লাহ কাজী বাড়িতে কথিত আপন ভাতিজা শেখ কামাল ও তার অজ্ঞাত সহযোগির হাতে খুন হওয়া নুর আয়শার লাশ তোলে থানা পুলিশের একটি টিম।

এসময় প্রশাসনের অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর, এসআই নুরুন্নবী, এসআই মনসুর আলী, পাহাড়তলী ইউপি চেয়ারম্যান রুকন উদ্দিন।

শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে লাশ উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ৫ সদস্যের একটি দল কবর কুড়ে লাশ তোলে আনে। এসময় এলাকার শত শত উৎসুখ মানুষ কবরস্থানের আশপাশে ভীড় জমিয়ে ফেলে। নিহতের ছেলে মো. মুবিন মায়ের লাশ কুড়ে তোলার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে সাংবাদিকদের বলেন, খুনি যেই হোক আমি আমার মায়ের খুনির ফাঁসি চাই।

তাকে তার স্ত্রীর এ খুনের পিছনে জড়িত থাকতে পারে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেও যদি একাজে জড়িত থাকে তাহলে তারও শাস্তি চান বলে তিনি জানান। এক পর্যায়ে মুবিন দেড়মাস পরেও মায়ের অক্ষত লাশ কবর থেকে তোলে আনার পর দেখতে পেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে জানা গেছে।

ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই নুরুন্নবী জানান, নিহত বৃদ্ধা নুর আয়েশা ময়না তদন্তসহ সকল আইনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্যে লাশ উত্তোলন করে নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট দীপক কুমার রায়ের নেতৃত্বে আমরা লাশ উত্তোলন করে মর্গে পাঠিয়েছি। ময়না তদন্ত শেষে ঘটনার আসল রহস্যের বিস্তারিত বেরিয়া আসবে।

উল্লেখ্য যে, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে নিজ ঘরে খুন হন নুর আয়েশা। এ হত্যার বিষয়টি তার পুত্রবধূ কুসুম আকতার প্রায় ২৪ দিন গোপন রাখার পর ১৬ অক্টোবর বিষয়টি নিহতের পুত্র মুবিনের স্ত্রী কুসুম আকতার গোপন রহস্য ফাঁস করেন এবং খুনের প্রত্যক্ষদর্শি হিসেবে আদালতে বর্ণনা দেন। কুসুম আকতারের মতে নিহতের ভাতিজা শেখ কামাল ও তার অপর এক সহযোগি এই পূর্ব ক্রোধের জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটায়। তবে অনেকে এ ঘটনার সাথে কুসুম আকতারও জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করে আসছে। এদিকে ঘটনা ফাঁস হওয়ার প্রায় ১৫ দিনের মাথায় চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছ থেকে নিহত নুর আয়েশার লাশটি কবর থেকে উত্তোলনের জন্যে অনুমতি মেলে।

এ প্রসঙ্গে পাহাড়তলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুকন উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি খুবই র্মমান্তিক। অনেক কষ্টে নিহত নুর আয়শা একমাত্র ছেলে মুবিনকে জিয়ের কাজ করে মানুষ করেছে। মুবিন যখন মানুষ হয়ে কুয়েত গিয়ে টাকা কড়ি কামায় করে মাকে সুখে রাখবে তখনই ঘাতকের হাতে নুর আয়শার প্রাণ গেল। এ ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেন তিনিও।

মতামত