টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দীপন হত্যায় মুফতি মারুফ আটক!

চট্টগ্রাম, ০৫  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):  জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার ঘটনায় মুফতি জাহিদ হাসান মারুফ নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টার দিকে তাকে ফেনীর ফুলগাজী থানার উত্তর তারাকুচা গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ঢাকায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হলেও তদন্তে সংশ্লিষ্ট কোনও কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করেননি।

ফেনী জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বুধবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয় থেকে টেলিফোনে ফুলগাজী থানা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়, ‘আপনাদের থানা এলাকায় একটি অভিযান চালানো হবে।’ তবে ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিজের কোনও নাম-পরিচয় জানাননি থানা কর্তৃপক্ষকে।

ফুলগাজী থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুফতি জাহিদ হাসান মারুফকে রাজধানীর আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনের প্রকাশক দীপন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ তাদের জানিয়েছেন। পরে বিষয়টি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় বলেও জানান থানা পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

মুফতি মারুফের বাবা মুফতি হাবিব উল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩টার দিকে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তার বাড়ি ও মাদ্রাসায় অভিযান চালায়। গোয়েন্দারা তাকে জানিয়েছেন, তার ছেলের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা ও দীপন হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে মুফতি হাবিব উল্লার দাবী তার ছেলে এসব কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়।

মুফতি হাবিব বলেন, নিজের মাদ্রাসা থেকেই তার ছেলে মারুফ প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে পরে ছাগলনাইয়া মাদ্রাসা থেকে দাওরা (টাইটেল) পাশ করেন। এরপর চট্টগ্রামের পটিয়া মাদ্রাসা থেকে ইসলামি আইন শাস্ত্রে (মুফতি) দুই বছরের পড়ালেখা করেন। সেখান থেকে আবার গ্রামের বাড়িতে এসে নিজের মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তার মাদ্রাসাটি প্রাথমিক পর্যায়ের। আটটি ক্লাস রয়েছে মাদ্রাসাটিতে। জঙ্গিবাদকে মারুফ ঘৃণা করেন বলেও জানান তিনি।

মুফতি মারুফের বিষয়টি তিনি স্থানীয় আমজাদ হাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইব্রাহিমসহ স্থানীয় নেতাদের জানিয়েছেন। চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিষয়টি মারুফের বাবার কাছ থেকে অবহিত হয়েছেন বলে জানান।

গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, প্রযুক্তির সহায়তা ও বিশ্বস্ত সোর্সের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা মুফতি মারুফকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে এর মালিক ফয়সল আরেফিন দীপনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন প্রায় একই সময়ে লালমাটিয়ায় প্রকাশনা সংস্থা শুদ্ধস্বরের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে মালিক আহমেদুর রশিদ টুটুলসহ তিনজনকে গুরুতর আহত করে।

ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর আনসার আল ইসলাম নামের একটি জঙ্গি সংগঠন প্রকাশক দীপন হত্যার দায় স্বীকার করে ফেসবুক ও টুইটারে বার্তা আপলোড করে। দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমেও তারা ই-মেইলে বার্তা পাঠায়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, টুইট ও ফেসবুক বার্তা আপলোড করা হয় ঢাকার ওয়ারি ও যাত্রাবাড়ি এলাকা থেকে। পরে সেখান থেকে তারা চট্টগ্রাম ও সিলেটের পথে চলে যায় বলে ধারণা তাদের।-বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত