টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশ ঘটছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির

চট্টগ্রাম, ০৬ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশ ঘটছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির। বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ মধ্যবিত্ত।

অব্যাহতভাবে এ হার বেড়েই চলেছে। ২০৩৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

বিআইডিএসের এক বছরের গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশবিষয়ক এক সেমিনারে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন।

যদিও মধ্যবিত্ত শ্রেণি নির্ধারণে সর্বজনস্বীকৃত কোনো সংজ্ঞা নেই। সাধারণত কারো দৈনিক আয় দুই থেকে তিন ডলার হলে সে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। এই আয় তিন ডলার থেকে চার ডলারের মধ্যে হলে ওই ব্যক্তি উচ্চ মধ্যবিত্তের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ড. বিনায়ক সেন বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে যেখানে ৯ শতাংশ জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত ছিল এখন তা ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৫ কোটি ৯৫ লাখ। সে হিসেবে দেশের ৩ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ এখন মধ্যবিত্ত।

গবেষণায় বলা হয়, ২০২৫ সালে মধ্যবিত্তের হার হবে ২৫ শতাংশ হবে। আর ২০৩৩ সালে ৩৩ শতাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবেন।

তিনি বলেন, ভারতে বর্তমানে মধ্যবিত্ত শ্রেণি ২৪.১ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়ায় সামগ্রিকভাবে এ হার ২৫.৮ শতাংশ। অপর দিকে চীনে ৬১.৮ শতাংশ।

তিনি জানান, এখন বড় ধরনের আন্দোলনকার্যক্রম শুধু শ্রমিক শ্রেণির ওপর নির্ভর করে না বরং মধ্যবিত্ত শ্রেণির অংশগ্রহণের ওপরও তা নির্ভর করে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী এখন আর শুধু চাকরিনির্ভর নয়। তাদের এক-পঞ্চমাংশ এখন পেশায় ব্যবসায়ী। রেমিটেন্স আয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমিকা একবারেই কম থাকায় গ্রামীণ আয়-বৈষম্য কিছুটা বেড়ে যাচ্ছে বলে উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মধ্যবিত্ত সম্পর্কে আমাদের তথ্য জানা দরকার। মধ্যবিত্ত যত শক্তিশালী হবে অর্থনীতি ততই টেকসই হবে। এ জন্য সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অবস্থার পরিবর্তন করে ওপরের ধাপে নিতে সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যে ভিন্নতা রয়েছে। তাই এলাকাভিত্তিক প্রকল্প হাতে নিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে উন্নীত করতে আমাদের এখনো অনেক কাজ করতে হবে। এখনো আমরা বেদে জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করতে পারিনি। তাদের মূল স্রোতে আনতে পারিনি।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কে এ এস মুরশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন প্রমুখ।

মতামত