টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে বাসায় গ্যাসের হাহাকার

gassচট্টগ্রাম, ০৫  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জ্বলছেনা রান্নার চুলা। বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। সংকটে কয়েক’শ শিল্প কারখানা। এই সপ্তাহে এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিকলবাহা বিদ্যূত কেন্দ্রে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।  কর্নফুলী গ্যাস ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী (কেজিডিসিএল)  বলছে গত সপ্তাহের তুলনায় হঠাৎ করে চট্টগ্রামে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম দেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এক সপ্তাহ থেকেই চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন, ঝাউতলা, বাকলিয়া, জামালখান, রহমতগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ নেই। এছাড়া কিছু কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ থাকলেও চাপ ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।

গ্যাস-সঙ্কটের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। এ কারণে রান্নাবান্না হচ্ছে না। তাই অনেকে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন।

এছাড়া নগরীর বেশীরভাগ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেই। যেসব স্টেশনে গ্যাস আছে সেখানে গ্যাসের জন্য লম্বা গাড়ির লাইন চোখে পড়েছে। গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়ানো এসব গাড়ির চালকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে।

অক্সিজেন এলাকার বাসিন্দা আবদুল করিম জানান, ‘ভোরে চুলায় দেশলাই দিয়ে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চুলা জ্বালানো যায়নি।’

বুধবার চট্টগ্রামে জাতীয গ্রীড থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে ২৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট কম। গত সপ্তাহে গড়ে ২৮০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ পাওয়া গেছে বলে কেজিডিসিএল সুত্রে জানাগেছে।

কেজিডিসিএল এর জেনারেল ম্যানেজার প্রশাসন ফিরোজ খান জানান, “সম্ভবত গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন কমে যাওয়াতে  চট্টগ্রামে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে, তাছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রের গ্রাহকদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়াতে চট্টগ্রামে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”

কেজিডিসিএল সূত্রে জানাগেছে, জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে শিকলবাহা পিকিং পাওয়ার প্লান্টে গত সোমবার থেকে  গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে, এই কেন্দ্রে সর্বশেষ ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হতো। একই সাথে কেজিডিসিএলের অপর বড় গ্রাহক কর্নফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানী কাফকোতেও স রবরাহ হ্রাস করা হয়েছে। বহুজাতিক এই প্রতিষ্ঠানটিতে ৫৯মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে এখন ৪০মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে, কেজিডিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার  প্রকৌশল খোন্দকার মতিউর রহমান বলেছেন, “আবাসিক ও শিল্প খাতের গ্রাহকদের চাহিদা পূরন করার চেষ্টা চলছে, অনেক এলাকায় রেশনিং করা হচ্ছে।

মতামত