টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফটিকছড়ি কলেজে প্রশ্নপত্র নিয়ে সমালোচনার ঝড় !

মীর মাহফুজ আনাম
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি 

fatickchari-clg-question-paচট্টগ্রাম, ০৪  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: ফটিকছড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেনীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরী নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে উপজেলা জুড়ে। শুধু সমালোচনা নয়, এ নিয়ে ফটিকছড়ি থানায় অভিযোগ পর্যন্ত দায়ের করেছেন ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন। ফটিকছড়ি কলেজের সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা শিক্ষককে শোকজ করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে ওই কলেজের একাদশ শ্রেনীর প্রথম সাময়িক পরীক্ষার ‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি’ প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রশ্নের মধ্যে উদ্দীপকমূলক বাক্য লেখা হয়। যা লেখা ছিল তা নিুরুপ-‘‘কিছুদিন আগে ফটিকছড়ি কলেজে ১ম বর্ষের ছাত্রদের সাথে ২য় বর্ষের ছাত্রদের প্রচন্ড সংঘর্ষ লেগে যায় । কারণ ছিল সামান্য। কিন্তু সামান্য কারণ হলেও ছাত্ররা রক্তপাত সহ কলেজের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে । এতে বিচলিত হয়ে মেধাবী ছাত্র ওমর প্রত্যেক বর্ষের ছাত্রদের নিয়ে একটি সৎসংঘ গঠন করে। এ সংঘের উদ্দেশ্য ছিল কলেজের মধ্যে শান্তি -শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মারামারি বন্ধ করা ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা বিধান করা।’’

এর পরে চারটি প্রশ্ন করা হয়, (ক) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) কত বছর বয়েসে নবুয়ত লাভ করেন ? (খ) হস্তির বৎসর বলতে কি বুঝ ? (গ) উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠিত বইয়ের কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্য পাওয়া যায় ? ব্যাখ্যা কর। বর্তমান সমাজের অন্যায় অবিচার দূরীকরণে উক্ত সংঘঠনের তাৎপর্য তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে বিশ্লেষন কর।

ওই উদ্দীপক মূলত সম্প্রতি ফটিকছড়ি কলেজে ছাত্রলীগের দু‘গ্রুপের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে রচনা করা হয়। ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আলী সিকদার শুভ বলেন, ‘এখানে উল্লেখ করা হয় ফটিকছড়ি কলেজে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। যা সম্পূর্ণ ভুয়া একটি তথ্য। এছাড়া কলেজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে ওমর নামক একজনের নাম উল্লেখ করা, একটি সংগঠন গঠনের উল্লেখ করে যে উদ্দীপক বাক্য তৈরী করা হয়েছে তা মূলত কলেজ ছাত্রলীগকে হেয় প্রতিপণ্য করার উদ্দেশ্যে তৈরী করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।’

ফটিকছড়ি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জামাল বলেন, ‘এ বিষয়টি আমরা অধ্যক্ষ ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে জানিয়েছি। সাংসদের পরামর্শে আমরা থানায় অভিয্গো দায়ের করেছি।’

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম বলেন, এধরণের বিষয় প্রশ্নপত্রে নিয়ে আসা উচিৎ হয়নি। প্রশ্নকর্তা সহকারী অধ্যাপক মমতাজ শিরিনকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি নিজেও অনুতপ্ত।’

মতামত