টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নিজেদের নিরাপত্তার প্রয়োজনে গুলি করবে পুলিশ

pulisচট্টগ্রাম, ০৪  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  একের পর চেকপোস্টে হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন পুলিশ প্রশাসন। এ নিয়ে বুধবার পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা দফায়-দফায় বৈঠক করেছেন। ওইসব বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুলিশ সদর দফতর থেকে সারাদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চেকপোস্টগুলোয় পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্বৃত্তদের অতর্কিত হামলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সারাদেশে পুলিশ সদস্যদের প্রতি বেশ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। হামলার মুখোমুখি হলে প্রয়োজনে পুলিশ ও র‌্যাবকে গুলি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দফায়-দফায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, দায়িত্বপালনের সময় উদাসীনতা পরিহার করে প্রতিটি মুহূর্তে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর পুলিশ সদর দফতর থেকে সারাদেশে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি যে নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেই নির্দেশনা মানতে বুধবার আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও যেকোনও মুহূর্তে প্রয়োজনে অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, দায়িত্ব পালনের সময় নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। তল্লাশির সময় কমপক্ষে একজন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে অস্ত্র চালানোর প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। রাস্তার মাঝখানে গাড়ি না থামিয়ে, এক পাশে নিয়ে তল্লাশি করতে বলা হয়েছে। কোনও যানবাহন ও ব্যক্তি পুলিশের সিগন্যাল না মেনে চলে গেলে ধাওয়া না করে পরবর্তী চেকপোস্ট বা থানাকে অবহিত করতে বলা হয়।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাস, রেল, নৌ-টার্মিনাল, বিনোদনকেন্দ্র, বিদেশি নাগরিকদের অফিস ও বাসভবনে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলে সেগুলো চিহ্নিত করে সেটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদারের ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়াও সাদা পোশাকে ক্যামেরা হাতে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়।

বুধবার সকালে আশুলিয়ার নবীনগর-কালিয়াকৈর মহাসড়কের বাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছের একটি চেকপোস্টে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ব্লগার ও প্রকাশকদের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই আশুলিয়ায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা হয়েছে। সবগুলো হামলার ধরনই এক জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, জঙ্গি ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নস্যাৎ করতেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজি মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা পরিকল্পিত। এটি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর হামলা। একইসঙ্গে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কোনও গাফিলতি ছিলো কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি। যখন দুর্বৃত্তরা কনস্টেবল মুকুল ও নুরে আলমের ওপর হামলা চালায়, তখন অন্য তিন পুলিশ সদস্য কোনও প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করে পাশের শালবনে পালিয়ে যায়। নিহত পুলিশ কনস্টেবলের নাম মুকুল হোসেন। তিনি বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শহিদুল ইসলামের ছেলে।

গত ২২ অক্টোবর গাবতলীতে পুলিশ সদস্য ইব্রাহিম মোল্লাকে হত্যার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া রাজধানীর সব ডিসি ও ওসিদের নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন। চেকপোস্টগুলোয় তল্লাশির সময় একজনকে অস্ত্র তাক করে প্রস্তুতি নিয়ে থাকতেও নির্দেশনা দেন।

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় জীবন ও জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনে সন্ত্রাসীদের ওপর গুলি ছুড়বে পুলিশ। তিনি বলেন, নিরীহ মানুষ হত্যা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর যারা হামলা করার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাষ্ট্রের শক্তির সঙ্গে এসব করে পার পাওয়া যাবে না।-বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত