টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আলোর পথে ফিরছেন এমএনপির ৭৮ সদস্য

এস.এম ইসমাইল হাসান
আলীকদম প্রতিনিধি 

images-২চট্টগ্রাম, ০৪  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  আজ পাহাড়ে বর্ণাঢ্য অুুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে আলোর পথে ফিরছেন পাহাড়ে জনবীজন অতিষ্ঠ করে তোলা ম্রো ন্যাশনাল পার্টির (এমএনপি) ৭৮ জন সশস্ত্র সদস্য। এর আগে তাদের হাতে থাকা অস্ত্রগুলো বাংলাাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে জমা দিয়ে দেয় তারা। আজ বৃহস্পতিবার বান্দরবানের লামা, আলীকদম, থানচির ৭৮ জন সদস্য আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা বাজার নামক এলাকায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যম দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে। আর এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল শফিকুর রহমান,বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহাম্মেদ চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জানাগেছে, এমএনপির দুইটি গ্রপের মোট ৭৮ সদস্য ৬০টির মতো অস্ত্র জমা দিয়েছে। এসব অস্ত্রের বেশির ভাগই স্থানীয়ভাবে তৈরি। অস্ত্রগুলো দিয়ে এমএনপির সদস্যরা বান্দরবানে লামা, আলীকদম ও থানছি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও অপহরণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাত এ সন্ত্রাসী সংগঠনটি।

অনুসন্থানে জানাযায়, ২০১০ সালের শেষের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র উপজাতিতের মধ্যে ম্রো সম্প্রদায়ের বিপথগামী বেশ কিছু ম্রো যুবক নিয়ে মেনরুং ম্রো নামের এক ব্যক্তি এমএনডিপি (ম্র্রো ন্যাশনাল ডিফেন্স পার্টি) সংগঠনটি গড়ে তোলে। প্রথম দিকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের কথা বলা হলেও পরে এর সদস্যরা বিপথগামী হয়ে পড়েন। অপহরণ, অপরহণ করে মুক্তিপণ আদায়, হত্যা, গুম, চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে সংগঠনটির সদস্যরা। এমনকি অস্ত্র কেনাবেচায়ও জড়িয়ে পড়ে অনেক সদস্য। এলাকায় আধিপত্ত বিস্তার নিয়ে সংগঠনটির সদস্যরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়লে তাদের মধ্যে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ জনের মতো নিহত হয়েছে বলে ম্রো নেতারা দাবী করেন। এ ছাড়া মুক্তিপণের জন্যও বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী সংগঠনটির সশন্ত্র সদস্যদের হাতে নিহত হয়। বান্দরবানের পাশের মিয়ানমারেও ম্রোদের রাজনৈতিক সংগঠন এমএনপি রয়েছে। অনেকটা একই আদলে বান্দরবানের ম্রো যুবকেরা এমএনপি সংগঠনটি গড়া হয়।

সরকারি একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানাগেছে, গত বছরের প্রথম দিকে সন্ত্রাসী এ সংগঠনটির সদস্যরা বেপরোয়া হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী বান্দরবানের আলীকদম ও থানছি উপজেলায় ব্যাপক অভিযান চালায়। বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, আর্থিক সঙ্কট, নিজ জনগোষ্ঠীর সদস্যদের অসহযোগিতাসহ নানামুখী টানাপড়েনে সংগঠনটির সদস্যরা আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছে। আলীকদম-থানছির একাধিক ম্র্রো নেতার সাথে আলাপ করে জানাগেছে, সংগঠনটির মেনরুং গ্রুপের ৬৪ জন ও লুহুপ গ্রুপের ১8 সদস্য আত্মসমর্পণ করছে। তারা ৬০টির মতো স্থানীয় তৈরী অস্ত্রও জমা দিয়েছে। সংগঠনটির অপতৎপরতায় খোদ ম্রো জনগোষ্ঠীর সদস্যরা অতিষ্ট হয়ে উঠে। কেউই চাননি তাদের সন্তানরা বিপথগামী হোক। পরে ম্রোদের সামাজিক সংগঠন ম্রো সোস্যাল কাউন্সিল বিপথগামী যুবকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। দুই থেকে তিন মাস ধরে আলাপ-আলোচনার পর এমএনডিপির দুইটি গ্রুপের সদস্যরাই আত্মসমর্পণে রাজি হয়। এ জন্য ম্র্রো সোস্যাল কাউন্সিলের নেতাদের নানাভাবে সংগঠনটির সদস্যদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়ছে। এদিকে আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের পরে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানাগেছে। সরকারের পক্ষ থেকে পুনর্বাসনের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বিপথগামী এসব ম্রো যুবক স্বাভাবিক জীবনে ফিরি আসায় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান একটি অস্থির পরিস্থিতির অবসান হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

স্থানীয়রা জানান, বান্দরবানের আলোচিত ম্রো নেতা রাংলাই ম্রো, খামলাই ম্রো, জেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক সদস্য সিংইয়ং ম্রো, অংপ্রু ম্রোরাে, অ্যাডভোকেট মাংইয়ং ম্রোসহ ম্রো সোস্যাল কাউন্সিলের নেতারা আত্মসমর্পণে সহযোগিতা করেছেন।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত