টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দাবি পূরণ না হলে লাগাতার কর্মসূচী: চবি ছাত্রলীগ

IMG_4746চট্টগ্রাম, ০৩  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রাণের স্পন্দন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে দাবি করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সংঘর্ষকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয় বলে জানান চবি ছাত্রলীগ।

একই সাথে পুলিশের বিরুদ্ধে হলে প্রবেশ করে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ এনে ছাত্রলীগ ১০ নভেম্বরের মধ্যে চবি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরনের দাবি জানিয়ে বলেছে তা না হলে তারা আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরীর চেরাগী পাহাড় এলাকার প্রিয়া কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন চবি ছাত্রলীগ নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে একই টেবিলে উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রলীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন টিপু ও সাধারণ সম্পাদক এইচ এম ফজলে রাব্বী সুজন। সোমবার ক্যাম্পাসে ভর্তিচ্ছুকদের অভিনন্দন জানাতে গিয়ে তাদের অনুসারীদের মধ্যে ক্যাম্পাসে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পরদিনই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হলেন এই দুই নেতা। এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন সভাপিত আলমগীর হোসেন টিপু।

সোমবারের ঘটনায় যারা পুলিশের ওপর হামলা করেছে কিংবা সংঘাত সৃষ্টির অপতৎপরতা চালিয়েছে তাদের ছাড় দেয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘর্ষে যারা জড়িত ছিলো তারা চবি ছাত্রলীগের কেউ নয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, পুলিশ ভর্তিচ্ছকু সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে। পুলিশ বাহিনী শুধু মারধরে সীমাবদ্ধ থাকেনি তারা ব্যাপক লুটপাটও চালিয়েছে। পুলিশ হলের প্রতিটি কক্ষে ঢুকে ছাত্র, ভর্তি পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা ছিনতাই করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের যোগসূত্রে পুলিশ দুই হলের অন্তত ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে।

তিনি দাবি করেন, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদে পুলিশ আবাসিক হলে হামলা চালিয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালীন পুলিশের হস্তক্ষেপ মেনে নেয়া যায়। কিন্তু সংঘর্ষ থামার দেড় ঘন্টা পর পুলিশ হলে হামলা চালিয়েছে।

চবি ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা জামাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী কিছু লোক তাদের নিজ স্বার্থ হাসিলের স্বার্থে চবি ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ তৈরির পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতাতেই রবিবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ যখন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা করছিলো, তখনই বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের নির্দেশে পুলিশ আমানত ও শাহজালাল হলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

পুলিশের হামলায় দুই আবাসিক হলে থাকা প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে দাবি করে ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে পুলিশের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা, পুলিশের ‘লুটকৃত’ দশ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে । দাবি পূরন না হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে লাগাতার কর্মসূচি দেয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে চবি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন বলেন, চবি ছাত্রলীগের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। আমরা ঐক্যবদ্ধ। তার প্রমাণ এই সংবাদ সম্মেলন। আমি ও সভাপতি একই সাথে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছি।

তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনাটি ছাত্রলীগ ঘটায়নি। ক্যাম্পাসে ঘাপটি মেরে থাকা শিবির কর্মীরাই ওই ঘটনা ঘটায়।

মতামত