টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সচল হচ্ছে কস্তুরাঘাট

costoraghat pic-1_1

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
অবশেষে সচল হচ্ছে কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী কস্তুরাঘাট জেটি। দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকার পর কক্সবাজার-মহেশখালী-কুতুবদিয়া নৌ-রুটের এই জেটি সচলের উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার পৌরসভা। এ জন্য পৌরসভার রাজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই খাল খনন, সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণসহ আনুসাঙ্গিক কাজ শুরু হবে।

কক্সবাজার পৌরসভা সুত্রে জানা গেছে, কস্তুরাঘাটের রাস্তার দুই পাশে যে খাল রয়েছে, তা খনন করে ৩০ ফুট পশস্ত ও ১০ ফুট গভীর করা হবে। এ জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমান কাঠের তৈরী নড়বড়ে জেটি ভেঙে বাঁকখালী নদীতে ৭০০ ফুট ড্রেজিং করা হবে, যেন মূল সড়কেই সরাসরি নৌ-যান ভিড়তে পারে। জেটিঘাটে নির্মাণ করা হবে উন্নতমানের ‘পার্কিংপ্লেস।’ এ জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৮৮ লাখ টাকা। সবমিলিয়ে দুইটি ভিন্ন টেন্ডারে কস্তুরাঘাট জেটি সচল করতে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে পৌরসভা।

কক্সবাজার পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, নানা জটিলতায় জেলার ঐতিহ্যবাহী কস্তুরাঘাট জেটি অচল হয়ে পড়ে। এ কারণে দ্বীপের মানুষের অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। কস্তুরাঘাট সচল করতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, কস্তুরাঘাট জেটিকে আধুনিক ও উন্নতমানের করতে সব ধরণের চেষ্টা করা হবে।

সুত্র মতে, দীর্ঘকাল ধরে কক্সবাজার-মহেশখালী-কুতুবদিয়া নৌ-রুটের কক্সবাজার পয়েন্টের একমাত্র ঘাট ছিল কস্তুরাঘাট। এ ঘাট দিয়েই তিন অঞ্চলসহ বিপুল সংখ্যক লোকজনের যোগাযোগ। পরিচালিত হয় দ্বীপাঞ্চলের মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য। তাছাড়া সাগরে মাছ ধরার নৌকার মাঝি-মাল্লাদের যোগাযোগে মাধ্যম ছিল এ ঘাটটি।

কিন্তু নৌ-চলাচলের রাস্তার দ্ইুপাশ দখল করে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে নাব্যতা হারিয়ে ফেলে খর¯্রােতা বাঁকখালী নদী। দখলদারের থাবায় ভরাট হয়ে গেছে নদীর দু’কূল। সংকুচিত হয়ে পড়ে যোগাযোগ সুবিধা। যার কারণে ঘাটের সাথে সড়কের একটা দূরত্ব তৈরি হয়।

অভিযোগ ছিল, ঘাটে নৌ-যানের ব্যবসা নিয়ে মহেশখালী পৌরসভার মেয়র মুকছুদ মিয়া ও পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. আনচারুল করিমের দ্বন্দ্ব তৈরী হয়। তাদের কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে মহেশখালী-কক্সবাজার নৌ-রুটে চলাচলকারী বোট মালিকরা। এতেকরে ৬ নং জেটিঘাটকেন্দ্রীক যোগাযোগ বেড়ে গেলে ‘কস্তুরাঘাট’ নির্জীব থাকে দীর্ঘ দিন।

মূলত কস্তুরাঘাট নিয়ে দু’পক্ষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কোন্দলে পড়ে অচল হয় কস্তুরাঘাট। যার ফলশ্রুতিতে এ নৌ-ঘাটটি ঐতিহ্য হারানোর পাশাপাশি যাত্রীরা পড়ে চরম দুর্ভোগে।

ঐতিহ্যবাহী কস্তুরাঘাট জেটি অচল হয়ে পড়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, নৌ-যান সংকট। সময় মতো বোট না পাওয়ায় এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে যাত্রীরা। অচল হয়ে পড়ে কস্তুরাঘাট কেন্দ্রীক ব্যবসা বাণিজ্য। তবে কৌশলে ‘কস্তুরাঘাট’ অচল রাখা হয় বলে অনেকের অভিমত।

এ দিকে জেলার ঐতিহ্যগাথা এই জেটিটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেয়ায় কক্সবাজার পৌর মেয়র সরওয়ার কামালকে সাধুবাদ জানিয়েছে জেলাবাসী। বিশেষকরে দ্বীপাঞ্চলের অনেকেই কস্তুরাঘাট সংস্কারের পরিকল্পনার খবর পেয়ে পৌর মেয়রের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা এ প্রতিবেদককে জানান।

মতামত