টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাই পৌরসভা: আওয়ামী লীগ বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

এম মাঈন উদ্দিন 
মিরসরাই প্রতিনিধি 

bnp-albdচট্টগ্রাম, ০৩  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস): মিরসরাই পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে দেশের দুই প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন একাধিক প্রার্থী। এখন নাগরিকদের চেয়ে দলের হাইকমান্ড এবং তৃণমূল নেতাদের মন মজাতে প্রাণন্ত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উভয় দলের প্রার্থীরা।

পৌরসভা পরিচিতি:
২০০১ সালে তৃতীয় শ্রেণি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত মিরসরাই পৌরসভা বর্তমানে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। হয়েছে নিজস্ব ভবন ও একাধিক পৌর মার্কেট। ১০.৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের মিরসরাই পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১০ হাজারেরও বেশি। হালনাগাত যুক্ত হলে প্রায় ১১ হাজার ভোটার এবারের নির্বাচনে ভোট প্রদান করবে। তবে দ্বিতীয় শ্রেণির এই পৌর সভায় গড়ে ওঠেনি উন্নত সড়ক (যোগাযোগ ব্যবস্থা), টেকশই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বাস্তবায়ন হয়নি নগরায়নের পরিকল্পনা। তবে চলতি বছর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয় এই পৌরসভাকে মাষ্টার প্ল্যানের আওতায় আনে। তবে এটি গেজেট আকারে এখনো পাশ হয়নি। এছাড়া এটি উত্তর চট্টগ্রামের সবচে অবহেলিত একটি মফস্বল শহর। যাতে নেই শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্ক, পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট, নেই কোন সরকারি হাসপাতাল, নেই টার্মিনাল। বর্তমানে মিরসরাই পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম শাহজাহান।

এখানকার নাগরিকদের বক্তব্য, বিগত দিনের কর্মকান্ডকে বিবেচনায় রেখে এবারের নির্বাচনে ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হয় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই পৌরসভা মুখথুবড়ে পড়ে থাকবে।

আওয়ামী লীগ:
এবারের পৌর নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচজন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠঘাট চষে বেড়াচ্ছেন। আর বিএনপি থেকেও রয়েছেন পাঁচ জন। তাঁরা সকলেই হাইকমান্ডের পাশাপাশি দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতকর্মীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ থেকে যে পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে তাদের সকলেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। জনগণের হিসেব বাদ দিলে দলের মধ্যে এদের চারজনের অবস্থান খুব সুদৃঢ়। মনোনয়নের লড়াইয়ে সফল হওয়া অনেক কঠিন হবে। দলের বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানিয়েছে নির্বাচনী মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলে মধ্যে কোন্দল দানাবেধে উঠতে পারে তাই প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূল কাউন্সিলের বিকল্প নেই।

এখানে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান সদস্য এম শাহজাহান, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ দৌলা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, সাবেক ছাত্রনেতা শহীদুন্নবী ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ হুমায়ুন।

তাঁদের অধিকাংশই দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন এবং দলের প্রতি আস্থা রেখে দলের যেকোন সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বর্তমান পৌর মেয়র এম শাহজাহান বলেন, ‘দল থেকে মনোনয়ন চাইবো এবং আমার বিশ্বাস দল এবারো আমাকেই মনোনয়ন দিবে।’

বিএনপি:
বর্তমান পরিস্থিতিতে মিরসরাই পৌর বিএনপিতেও দলীয় সমর্থন আশা করছেন একাধিক প্রার্থী। কেউ কেউ গোপনে দলের কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। সেক্ষেত্রের দলের ভেতরের কোন্দল প্রতিনিয়ত নানা সমস্যার জন্ম দেয়। তুবও একাধিক প্রার্থী দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

তারা হলেন চট্টগ্রাম উত্তরজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক মিরসরাই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতিকুল ইসলাম লতিফি, পৌর বিএনপির আহবায়ক ফকির আহম্মদ, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম পারভেজ এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন চৌধুরী সুজন।

তারা সকলেই দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন।

আতিকুল ইসলাম লতিফি বলেন, ‘মানুষ এখন ‘দলকানা’ দলের সিদ্ধান্তের বাহিরে গিয়ে ভোট করার পরিবেশ নেই। দল যদি মনোনয়ন দেয় তাহলে প্রতিদ্বন্ধিতা করবো।’

ফকির আহম্মদের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি এব্যাপারে কোন বক্তব্য দেননি।

রফিকুল ইসলাম পারভেজ বলেন, ‘ দীর্ঘদিন ধরে দলের নেতা-কর্মীদের সুখে দুঃখে রয়েছি। দুঃসময়ে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। আমার বিশ্বাস দল আমাকে সমর্থন দেবে। তারপরও যেহেতু নিজেও দলের প্রতিনিধিত্ব করছি সেহেতু অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ করবো। দল যে সিদ্ধান্ত দিবে তা মেনে নেব। ’

এদিকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলরদের পাশাপাশি অনেক নতুন মুখ আসার সম্ভ্যাবনা রয়েছে। এরাও দলীয় সমর্থন পেতে তদবীর চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিএনপির চেয়ে আওয়ামীলীগের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী বেশি থাকায় দলীয় সমর্থন দিতে বেকায়দায় পড়তে পারেন দলের নীতি নির্ধারণী নেতৃবৃন্দ।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, এখানো দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। মাননীয় মন্ত্রী ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে প্রার্থী মনোনয়ন করবে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান (সাময়িক বরখাস্তকৃত) নুরুল আমিন বলেন, আমাদের দল যদি স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। দলের নেতৃবৃন্দ আলোচনা করে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন দেয়া হবে। এক্ষেত্রে দলের দূর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকা নেতাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত