টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অভিনন্দন তুরস্কের সুলতান

wচট্টগ্রাম, ০২  নভেম্বর (সিটিজি টাইমস)::  দেশের একাংশ এবং আন্তর্জাতিক কিছু বৈরি গণমাধ্যম তাকে ‘একনায়ক’ বলে গালমন্দ করে থাকে। অথচ তার দেশেই অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।

তিনি রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান- তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

এক সময় তিনি রাস্তায় লেবু বিক্রি করতেন। তিনিই এখন আধুনিক তুরস্কের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা। সমর্থকরা তাকে দেশের রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখে থাকেন।

রবিবার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে এরদোগান প্রতিষ্ঠিত জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট এবং ৫৫০ আসনের মধ্যে ৩১৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করায় তার ক্ষমতা আরো সংহত হয়েছে।

ধর্মপরায়ণ তবে ক্যারিশমেটিক এরদোগান দেশটির প্রতিষ্ঠাতা মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের পর সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শাসক।

‘সুলতান’ হিসেবে খ্যাত এরদোগান এক দশকে তুরস্কের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধির জন্য বিশ্বব্যাপী নন্দিত।

সমালোচকদের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি একনায়ক নই, এটা আমার রক্তে নেই।’

তুরস্কের গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এবং ধর্মপরায়ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে তার সৃদঢ় সমর্থন রয়েছে, যারা তার শাসনে উন্নতি লাভ করেছেন।

তুরস্কে কয়েক দশকের ঘনঘন সামরিক অভ্যুত্থান এবং দুর্বল জোট সরকারের পর স্থিতিশীল সরকার উপহার দেয়ার জন্য এরদোগানের প্রশংসা করা হয়।

তিনি শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর লাগাম টেনে ধরেছেন। নতুন ব্রিজ, বিমানবন্দর অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি এক সময়ের তলাবিহীন তুরস্ককে শক্তিশালী বাজারে পরিণত করেছেন। তার শাসনামলে সাধারণ তুর্কিদের আয় তিনগুণ বেড়েছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরেছেন তিনি।

বসফরাস প্রণালীর নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথ এবং নতুন হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন এরদোগান। ৬১ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ে বিশ্বের বৃহত্তম প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ তৈরি করেছেন তিনি।

কয়েদি থেকে ক্ষমতায়
ইস্তাম্বুলের পার্শ্ববর্তী কাসিমপাশায় জন্ম নেয়া এরদোগানের বাবা ছিলেন একজন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা।

কিশোর বয়সে রাস্তায় রুটি এবং লেবু বিক্রি করতেন এরদোগান।

তরুণ বয়সে ইসলামিক ইয়ুথ সংগঠনে যোগদান করেন তিনি। এ সংগঠনটি তুরস্কের কট্টর সেক্যুলার নীতির বিরোধিতা করে। তুরস্কের ক্ষমতাধর জেনারেলরা মসজিদ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিশাল ব্যবধান তৈরি করেন।

এক সময়ে আধা পেশাদার হিসেবে ফুটবল খেলোয়াড় এবং ব্যবসায় শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রিধারী এরদোগান ১৯৯৪ সালে ইস্তাম্বুলের মেয়র নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি দেড় কোটি লোকের এ শহরটির ট্রাফিক জাম এবং বায়ু দূষণ রোধে ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

যখন তার ইসলামঘেঁষা দলকে নিষিদ্ধ করা হয় তখন বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এ সময় একটি ইসলামী কবিতা পাঠ করেন।

সেই কবিতাটি ছিল এরকম- ‘মসজিদ আমাদের ব্যারাক, গম্বুজ আমাদের হেলমেট, মিনার আমাদের বেয়নেট এবং ঈমানদাররা আমাদের সৈনিক।’

এই কবিতার মধ্যে ধর্মীয় উসকানির গন্ধ পায় সেক্যুলার শাসকরা।

তবে এরদোগান বারবারই এ কবিতা আবৃত্তি করেন।

২০০১ সালে এরদোগান এবং তার সহযোগী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল ইসলামঘেঁষা জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) গঠন করেন। পরের বছরের নির্বাচনে দলটি ভূমিধস বিজয় অর্জন করে। এরপর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই জয় পেয়েছে একেপি।

দুই ছেলে আর দুই মেয়ের বাবা ৬১ বছর বয়সী এরদোগান বলেছেন, ‘একেপি আমার পঞ্চম সন্তান।’

সাম্প্রতিক দুটি নির্বাচনে দেশবাপী বিশাল বিশাল নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি বিরামহীন অংশ নেন। অসুস্থতাও তাকে থামাতে পারে না। নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই হয়তো স্থানীয় কোনো ফুটবল খেলায় মেতে ওঠেন তিনি।

তুরস্ককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করতে দেশে ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ককে সদস্যপদ দিতে গড়িমসি করায় ক্ষুব্ধ এরদোগান বলেন, ইইউর সদস্যপদের জন্য তুরস্ক অনাদিকাল অপেক্ষা করবে না।

সাম্প্রতিক সময়ে এরদোগান তুরস্কে সেক্যুলারদের প্রবর্তিত হিজাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছেন। মদ বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন তিনি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছেলেমেয়েদের সহ-অবস্থান নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

এরদোগান বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না যে ইসলামিক সংস্কৃতি এবং গণতন্ত্র একত্রে চলতে পারে না।’

মতামত