টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় দেশ আজ শিক্ষিত বেকারের বোঝা বহন করছে

উত্তর জেলা ছাত্রসেনার বিশাল কর্মী সম্মেলনে বক্তারা

2চট্টগ্রাম, ০১ নভেম্বর (সিটিজি টাইমস):: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার উদ্যোগে বিভিন্ন দাবিতে কর্মী সম্মেলন ও ছাত্র সমাবেশ আজ ৩১ অক্টোবর শনিবার দুপুরে নগরীর মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত হয়। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার আলোকে কর্মমুখী শিক্ষা প্রণয়ন, উত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাকে সরকারি করা, শিক্ষার নামে অবাধ বাণিজ্য রোধ, প্রশ্নফাঁস বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি এবং ছাত্র রাজনীতির নামে শিক্ষাঙ্গনে চলা অপরাজনীতির বন্ধ করার দাবিতে অনুষ্ঠিত এ বিশাল ছাত্র সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উত্তর জেলা ছাত্রসেনার সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ আমান উল্লাহ আমান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ছাত্ররাজনীতির নামে চলছে আজ অপরাজনীতি ও অবক্ষয়পুষ্ট নীতিহীনতার রাজনীতি। ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল অতীত ভুলে বড় ছাত্র সংগঠনগুলো নিজস্ব স্বার্থ ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অপরাজনীতিতে নিজেদের সঁপে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক সুষ্ঠু ধারার সহাবস্থানপূর্ণ ছাত্র রাজনীতির পথ রুদ্ধ করে আসছে সরকারি আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনগুলো। বক্তারা বলেন, দেশে গড়ে শিক্ষিতের হার বাড়লেও শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। কর্মমুখী কারিগরি ও নৈতিক শিক্ষার অভাবে শিক্ষিত ছাত্র সমাজ আজ জাতির ঘাড়ে জগদ্দল বোঝা হিসেবে চেপে আছে। তথ্য প্রযুক্তির প্রসার ঘটায় ইন্টারনেট ও ফেসবুকের ব্যবহার করে ছাত্র সমাজ জ্ঞানের শক্তিতে উজ্জীবিত হবার সুযোগ পেলেও তারা এই সুযোগের অপব্যবহার করছে। ফলে তাদের শিক্ষাজীবনে মারাত্মক ছেদ পড়ছে। স্বাভাবিক পড়াশোনার কর্মঘণ্টা কেড়ে নিচ্ছে ইন্টারনেট-ফেসবুক। তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহারের এই প্রবণতা থেকে ছাত্র সমাজকে বেরিয়ে এনে আদর্শিক জীবনের পাঠ দিতে হবে। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান। উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য পীরে তরিকত আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা (মজিআ)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আবু সুফিয়ান খান আবেদী আলকাদেরী, ইসলামী ফ্রন্টের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা আবুল কাশেম নুরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ, ইসলামী ফ্রন্টের বিভাগীয় সাংগঠনিক সচিব কাজী মাওলানা মুহাম্মদ সোলায়মান চৌধুরী, উত্তর জেলা ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতি অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ তৈয়ব আলী, উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক পীরজাদা মাওলানা মুহাম্মদ গোলামুর রহমান আশরফ শাহ, অধ্যাপক আবু তালেব বেলাল, রাজনীতিবিদ মুহাম্মদ এনামুল হক ছিদ্দিকী। প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা কেন্দ্রীয় পরিষদের সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল। সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি আহবায়ক মুহাম্মদ আবু মুছা ও সদস্য সচিব মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী সম্মেলন সঞ্চালনায় ছিলেন। উদ্বোধক আল্লামা সৈয়দ মছিহুদ্দৌলা বলেন, আদর্শ ও নৈতিকতাই ছাত্র সমাজের প্রধান গুণ-বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। শিক্ষার নামে ও ছাত্র রাজনীতির নামে ছাত্র সমাজের অবাধ স্বেচ্ছাচারী জীবন মেনে নেওয়া যায় না। ছাত্রসেনা ছাত্র সমাজের নৈতিকতার উন্নয়নের পাশাপাশি তাদেরকে আদর্শনিষ্ঠ হিসেবে গড়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচেছ। প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আল্লামা এম এ মান্নান বলেন, দেশে আজ সব ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকটহয়ে উঠেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের চারটি উপজেলায় সরকারি কলেজ রয়েছে। পটিয়ায় দুইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও আছে। অথচ সকল সরকারের আমলে চট্টগ্রামের মন্ত্রী-এমপিদের অধিকাংশই থাকে উত্তর চট্টগ্রামের। দুঃখজনক যে, উত্তর চট্টগ্রামের কোনো উপজেলায় একটি সরকারি কলেজও নেই। এটা বড় বৈষম্যের নজির। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ জাকের হোসাইন, মুহাম্মদ নাঈম উল ইসলাম, মাস্টার মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, সৈয়দ মুহাম্মদ হোসেন, নাসির উদ্দিন মাহমুদ, ইয়াছিন হোসাইন হায়দরী, মুহাম্মদ ফজলুল করিম তালুকদার, আ ব ম খোরশিদ আলম খান, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, ইসলামী যুবসেনা নেতা মুহাম্মদ আকতার হোসেন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আকতার হোসেন, আমান উল্লাহ আমান সমরকন্দি, মাওলানা এনাম রেজা, মুহাম্মদ শাকুর মিয়া, মুহাম্মদ শফিউল আলম, মাওলানা আশরাফুল আলম, আব্দুল করিম সেলিম, হাবিবুল মোস্তফা ছিদ্দিকী, মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রসেনার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, আজিম উদ্দিন আহমেদ, এম.এ. মনসুর, মীর মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ জাবেদ, এইচ.এম. শহিদুল্লাহ, মুহাম্মদ আলমগীর, এড. ইকবাল হাসান, মুহাম্মদ নুরুল্লাহ রায়হান খান, মুহাম্মদ শাহজাহান, নিজামুল করিম সুজন, আবুল কালাম আজাদ, ইমরান হোসেন তুষার, মুহাম্মদ ইশতিয়াক রেজা, মুহাম্মদ শাহাদাত তানভীর, কাজী কামরুল হাসান শামীম, হোসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, মফিজুর রহমান, ইলিয়াছ রেজা, আব্দুর রহমান, আজাদ রানা, মুহাম্মদ জয়নাল, মুহাম্মদ মামুন। বিশেষ অতিথি আন্তর্জাতিক বক্তা মাওলানা আবু সুফিয়ান আবেদী আলকাদেরী বলেন, সুন্নি মতাদর্শের আলোকে ছাত্র সমাজের চারিত্রিক উন্নতি ঘটানো ও মুক্তির পথ দেখানোই ছাত্রসেনার লক্ষ্য। মাওলানা স উ ম আবদুস সামাদ বলেন, দেশে আজ সুস্থধারার ছাত্র রাজনীতি নেই। ছাত্র রাজনীতিকে সঠিক গন্তব্যে ফেরাতে ছাত্রসেনা বুদ্ধিবৃত্তিক ও আদর্শিকভাবে সক্রিয় রয়েছে। প্রধান বক্তা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তি ও ক্যাডারনির্ভর ছাত্র রাজনীতির বিপরীতে আদর্শ ও জ্ঞানের মশাল নিয়ে ছাত্র সমাজকে আলোর পথ দেখাচ্ছে ছাত্রসেনা। সভাপতির বক্তব্যে ছাত্রনেতা আমান উল্লাহ আমান বলেন, উত্তর চট্টগ্রামের মানুষ প্রতিটি সরকারের আমলে শিক্ষা ক্ষেত্রে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে। অথচ এখানে মন্ত্রী-এমপির অভাব নেই। তারা এলাকার মানুষের জন্য কি করছে একদিন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে কর্মমুখী শিক্ষা প্রণয়ন এবং উত্তর চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসাকে সরকারি করার দাবি বাস্তবায়নে সরকারি পদক্ষেপ কামনা করেন। সমাবেশ শেষে ছাত্র সমাজের অংশগ্রহণে বিশাল র‌্যালি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। ছাত্র সমাবেশে ছাত্রসেনার নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ছাত্র জনতা অংশগ্রহণ করেন।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মতামত