টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঘরের মাঠে স্বপ্নে বিভোর চট্টগ্রাম আবাহনী

চট্টগ্রাম, ৩০ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):: এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের এক নম্বর গেটের দিকটায় ‍উৎসুখ যুবকের জটলা। খানিক দূরে কয়েকজন মধ্যবয়সী কী নিয়ে যেন আলোচনা করছেন। দূর থেকে ‘জাহিদ’ শব্দটা কানে এল। বুঝতে বাকী রইল না তাদের আলোচনার বিষয়বস্তু কী। পুরো চট্টগ্রাম জুড়ে এখন এই অবস্থা। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ নিয়ে বুঁদ হয়ে আছে শহরের ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। স্থানীয় আবাহনী লিমিটেড ফাইনালে ওঠায় টুর্নামেন্ট নিয়ে মানুষের আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় শিরোপা নিজেদের করে নিতে মাঠে নামবে দুই দল। চট্টগ্রাম আবাহনী-কিংফিশার ইস্ট বেঙ্গল। 

কলকাতার এই দলটির বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছিল চট্টগ্রাম আবাহনী। ওই ম্যাচের পর থেকেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে শফিকুল ইসলাম মানিকের ছেলেরা। সামনে যারা পড়েছে, তারাই বিধ্বস্ত হয়েছে। দলটির এমন সাফল্যের পেছনে অনেকখানি অবদান উইঙ্গার জাহিদের। এক ম্যাচে তো একাই করেছেন তিন গোল।

সেমিফাইনালে গোল না পেলেও ত্রাস ছড়িয়েছেন। গোল করিয়েছেন। আজও তার দিকে তাকিয়ে থাকবে চট্টগ্রাম।

ইস্ট বেঙ্গল এই টুর্নামেন্টে তাদের সেরা দল নিয়ে আসতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আইএসএল খেলছেন। অবাক করার বিষয় সেই দল নিয়েই এখন অব্ধি অপরাজিত বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের ছেলেরা। ঐতিহ্যের দিক থেকেও অনেকটা এগিয়ে ওপার বাংলার এই দলটি। তিন তিনটি বিদেশি টুর্নামেন্ট জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। ১৯৯৩ সালে নেপালের ‘ডব্লিউএআই ডব্লিউএআই কাপ’, ২০০৩ এ ‘এলজি এশিয়ান ক্লাব কাপ’ এবং ২০০৪ এ ‘সান মিগুয়াল কাপে’র ট্রফি জেতে দলটি। ১৯৯৪ সালে ঢাকায় আয়োজিত ‘বিটিসি কাপ’ অবশ্য জেতা হয়নি তাদের। এবার সুযোগ থাকছে সেই আক্ষেপ দূর করার।

ইস্ট বেঙ্গল আজ অনেকটা পিছিয়ে থাকবে মাঠটা চট্টগ্রামের বলে। সেমিফাইনালে প্রতিদিন ২০ হাজারের বেশি দর্শক মাঠে এসেছে। আজও সেই ধারা বজায় থাকবে। বরং দর্শকস্রোত সামলাতে হিমশিম খেতে হবে বলে ধারণা করছেন আয়োজকরা।

প্রথম ম্যাচে জাহিদদের হারালেও ফাইনালকে সম্পূর্ণ অন্যরকম বলছে অতিথি দল। কোচ বিশ্বজিৎ গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ওদের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জিতেছি ঠিকই, কিন্তু ফাইনালের পরিবেশ ভিন্ন রকম হবে। কেননা প্রথম ম্যাচের আবাহনী আর এই আবাহনীতে অনেক তফাত। দলটি এখন অনেক পরিপূর্ণ।’

স্বাগতিক কোচ মানিক সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ফিরতে ফিরতে বললেন, ‘শেষ ম্যাচ পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলাম। আছি। আশা করি বাকী উদ্দেশ্যটাও সফল হবে।’

মানিকের ‘বাকী উদ্দেশ্যে’টা কী?

হয়তো মুচকি হাসছেন। ভাবছেন, ‘এও কী বলে দিতে হয়!’

মতামত