টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত চীন, ওয়াশিংটনকে বেইজিংয়ের হুঁশিয়ারি

woচট্টগ্রাম, ২৯ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  চীনের দাবিকৃত বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে ভবিষ্যতে মার্কিন নৌবাহিনীর যে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বেইজিং ‘প্রয়োজনী সব’ পদক্ষেপ নেবে বলে বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

চীনের নবনির্মিত কৃত্রিম দ্বীপের ১২ নটিক্যাল মাইলে (২২ কিলোমিটার) সীমার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার চলে আসার পর কর্নেল ইয়াং ইউজুন এ হুঁশিয়ারি দিলেন।

ওই দ্বীপকে চীনের সার্বভৌম এলাকার মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মঙ্গলবার মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ল্যাসেন চীন সাগরে চলাচলকালে বেইজিং কোনো শক্তিপ্রয়োগের চেষ্টা করেনি। তবে গতানুগতিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে।

‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানাব অব্যাহতভাবে ভুলপথে পা বাড়াবেন না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যদি এটা অব্যাহত রাখে আমরা প্রয়োজন অনুসারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেব,’ বলছিলেন ইয়াং।

চীন কার্যত পুরো দক্ষিণ চীন সাগরকে তার নিজের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে যা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে তার প্রতিবেশী পাঁচটি দেশ।

ইয়াং বলেন, ইউএসএস ল্যাসেন চীনের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করেছে।

চীনের এই ডেস্ট্রয়ারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য বেইজিং দুটি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠায় বলে জানান ইয়াং।

‘যুদ্ধ চাইলে তৈরি’
এদিকে বেইজিংয়ের তরফে স্পষ্টই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আমেরিকার বিরুদ্ধে যে কোনো সময়ে যে কোনো রকম যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত চীন।

কোনো চীনা কূটনীতিক বা বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তরের কোনো প্রথম সারির নেতা এ কথা না বললেও, বেজিংয়ের সরকার পরিচালিত সংবাদপত্র ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর সম্পাদকীয়তে বৃহস্পতিবার এই কথাই লেখা হয়েছে।

বেইজিংয়ের বানানো কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জে আরো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার পাঠানো হচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছিল পেন্টাগন। বলা হয়েছিল, ওই মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলিতে রাখা হচ্ছে টহলদারি বিমান। যেগুলি ওই ডেস্ট্রয়ারগুলি থেকে উড়ে গিয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে বেইজিংয়ের বানানো কৃত্রিম দ্বীপপুঞ্জে সুবি ও মিসচিফ রিজের মাঝামাঝি ও লাগোয়া এলাকাগুলির ওপর নজরদারি চালাবে।

যেহেতু চীন ওই এলাকায় মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস-ল্যাসেন’ ঢুকে পড়ার পর আরো নৌবহর পাঠানো শুরু করেছে, তাই ওই মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্রও রাখা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছিল পেন্টাগন। যুক্তরাষ্ট্র এ-ও জানিয়েছিল, শিগগিরই আরো যে কয়েকটি মার্কিন রণতরী পাঠানো হচ্ছে দক্ষিণ চীন সাগরে, তাতে আরো বেশি সংখ্যায় রাখা হবে টোমাহক ক্ষেপণাস্ত্র।

এরপর আজ চীনের সরকার পরিচালিত ‘গ্লোবাল টাইমস’ সংবাদপত্রের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, ‘ওয়াশিংটনের সঙ্গে আমাদের (চীনের) বিষয়টার ফয়সালা করতে হবে খুব বুদ্ধি করে। আবার যুদ্ধের মতো চরম পরিণতির জন্যও আমাদের তৈরি থাকতে হবে। এটা করলেই হোয়াইট হাউসকে বোঝানো সম্ভব হবে, আগ বাড়িয়ে দক্ষিণ চীন সাগরে কোনো যুদ্ধে নামার ইচ্ছা নেই বেইজিংয়ের। তবে আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো সময়েই যুদ্ধে নামতে ভয় পায় না চীন।’

এদিকে সেনাবাহিনীর দৈনিক ‘পিপলস রিপাবলিকান আর্মি ডেইলি’র প্রথম পাতার সম্পাদকীয়তে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকা এইভাবেই যে কোনো জায়গায় যুদ্ধ শুরু করে। তবে আমেরিকা যেন দক্ষিণ চীন সাগরকে আরো একটা আফগানিস্তান বা ইরাক বলে মনে না করে!’

সূত্র: এপি, এএফপি

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত