টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে সাগরের নিয়ন্ত্রক ওরা ৪১জন!

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

বঙ্গোপসাগরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জলদস্যুরা। মাছ ধরতে যাওয়া ফিশিং বোটে প্রতিদিন ডাকাতি, গুলি, মারধর ও লুটপাট করে চলছে তারা। এছাড়া মাঝে মাঝে চাঁদা আদায়ের দাবিতে অপহরণ করা হয় মাঝি-মাল্লাদের। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া চ্যানেলে দিনে রাতে ডাকাতদলের এসব তাণ্ডবের  শিকার হচ্ছে বহু ফিশিং বোট। ফলে বোট মালিক ও মাঝি-মাল্লাদের জন্য সাগরে দস্যুতা আতঙ্ক ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। এরপরও জেলেদের নিরাপত্তা ও জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বাহিনী কোস্টগার্ড’র ঘুম ভাঙ্গেনি বলে অভিযোগ বোট মালিকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোনাদিয়ার দুর্ধর্ষ জলদস্যু জাম্বু বাহিনী, সরওয়ার বতইল্যা বাহিনী ও জলদস্যু সম্রাট নাগু মেম্বারের ছেলে রাকিব বাহিনীর নেতৃত্বে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, হাটখালী, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ডাকাতরা সংঘবদ্ধ হয়ে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এদিকে সাগরে দস্যুতায় জড়িত লোকদের ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান করে জেলা ফিশিংবোট মালিকদের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া জলদস্যুদের তালিকায়ও এদের অনেকের নাম রয়েছে। দুই তালিকা থেকে ৪১ জনের নাম পাওয়া গেছে। এরাই সাগরের রাজা হিসেবে পরিচিত বলে বোট মালিক ও জেলেরা জানায়।

তারা হলো- চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাসিন্না ডাকাত,রবি বাহিনীর প্রধান রবি, কর্ণফুলির ইয়াছিনের ছেলে আহমদ নবী, মহেশখালীর সোনাদিয়ার নাগু মেম্বারের ছেলে রাকিব, বাহাদুর মিয়ার ছেলে সরওয়ার বতইল্যা, মো. ছমদের ছেলে জাহাঙ্গীর, বদি আলমের ছেলে আঞ্জু মিয়া, নুরুল ইসলামের ছেলে বক্কর, শহরের নুনিয়ারছরার নজরুল ইসলামের ছেলে ফারুক, সোনাদিয়ার ফরুখ আহমদের ছেলে রুহুল আমিন, এখলাছ মিয়ার ছেলে মোর্কারম জাম্বু, কালা মিয়ার ছেলে শফি, একে ফজলুল হকের ছেলে সাইফুল, মোজাফ্ফর আহমদের ছেলে মোস্তফা আলীর ছেলে সুমন, বদি আলমের ছেলে (আঞ্জুর ভাই) নাগু-২, শফিক (অজ্ঞাত পিতা), মৃত কাসিম আলীর ছেলে সিরাজ (বর্তমানে শহরের চরপাড়ার বাসিন্দা), মহেশখালীর ঘটিভাঙার আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল মোনাফ, কালারমারছড়ারা শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর, পূর্ব ঘোনারপাড়ার মোজাহের মিয়ার ছেলে আব্দুস সবুর ও আব্দুল গফুর, পুটিবিলার ইউসুফ আলীর ছেলে সামশুল মাঝি, মাতারবাড়ীর শিমুল বাহিনীর প্রশান শিমুল, রাহঘাটের জয়নাল প্রকাশ জয়নাল ডাকাত, কুতুবদিয়ার রমিজ ডাকাতের ভাই ইউনুছ, সহযোগি কাউছার, দিদার প্রকাশ কানান দিদার (পিতা অজ্ঞাত), এখলাস মিয়ার ছেলে মকসুদ, আনোয়ার পাশার ছেলে সাদ্দাম, রহমত আলীর ছেলে আবুল কালাম, দক্ষিণ ধুরুং এর সর্দার বাদল, উত্তর ধুরুং এর সাহেদ, আকবর, বলীঘাটের বাদশা, লেমসীখালীর রুহুল কাদের, ছালেহ আহমদ, দরবারঘাটের রুবেল বাহিনীর রুবেল, চুলাপাড়ার আবুল কাসেম আবুইয়া, পেকুয়ার রাজাখালীর সেলিম বাহিনীর প্রধান সেলিম।

জেলা ফিশিংবোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান জানান, ডাকাতির কারণে জেলেরা সাগরে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছেন। সংঘবদ্ধ দস্যুরা প্রতিনিয়তই ডাকাতি, লুট ও অপহরণ অব্যাহত রেখেছে। গত এক বছরে ৬৩ মাঝিমাল্লাসহ ২১ ফিশিংবোট অপহরণ হয়েছে। ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে ৬৩ মাঝিমাল্লা। এছাড়া গত ৫ বছরে জলদস্যুদের হাতে ২০০’শ জনের অধিক মাঝি-মাল্লা প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি বলেন, ডাকাতি বন্ধে আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। চিহ্নিত ডাকাতদলের তালিকা ইতোমধ্যে প্রশাসনের কাছে জমা দেয়া হয়েছে।

কোস্টগার্ডের কক্সবাজার কন্টিজেন্টের কমান্ডার নান্নু মিয়ার জানান, পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জামাদির অভাবে স্থলভাগ থেকে ৭ কিলোমিটারের বাইরে তারা যেতে পারেননা। সম্বল বলতে আছে একটি মাত্র কাঠের বোট, যেটি দিয়ে সাগরে অভিযানে নামা অনেকটা দুরুহ ব্যাপার। এরপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, সাগরে দস্যুতা রোধে ২৭ অক্টোবর দুপুরে ফিশিংবোট মালিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। বৈঠকে জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে গভীর সাগরে নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশের সমন্বয়ে যৌথ অপারেশনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে জলদস্যুতা উদ্বেগজনকহারে বেড়েছে। এলাকা ভিক্তিক জলদস্যুদের তালিকা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। মহেশখালী, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়াসহ সব পয়েন্ট ঝুঁকিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বোট মালিকদের সমন্বয়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

মতামত