টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আপনাকে কারা ঈর্ষা করে জানুন সেটা ফেসবুক থেকেই

facebookচট্টগ্রাম, ২৮ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  ফেসবুক, বর্তমান দুনিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। টুইটার, গুগল প্লাস থেকে ফেসবুকের বেশী জনপ্রিয়তার কারন এতে দু’মুখী যোগাযোগ করা সম্ভব। 

আর আমাদের বাংলাদেশে তো ফেসবুকের জনপ্রিয়তা এখন ঈর্ষনীয় অবস্থায় পৌঁছে গেছে। তাই ফেসবুককে কাজে লাগিয়ে আপনিও জেনে নিতে পারেন কারা আপনাকে ঈর্ষা করে।

বঙ্গবন্ধু তার আতœজীবনীমুলক বইয়ে একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন, সেটি হল পরশ্রীকাতরতা বা ঈর্ষা। তিনি বলেছেন, এমন শব্দ শুধু বাংলা ভাষাতেই আছে। অন্য কোন দেশে ঠিক এ রকম শব্দ খুজে পাওয়া যাবে না। পরশ্রীকাতরতা হল অন্যের সাফল্য দেখে মন খারাপ করা এবং তার পতন চাওয়া। আর ঈর্ষা হল নিজের থেকে কেউ বেশী ভাল করলে বা নিজে যা করতে পারেনি তা অন্য কেউ করলে নিজের মধ্যে খারাপ লাগা।

মানুষ যেহেতু এখন অনেক বেশী ব্যস্ত, তাই সবসময় হয়ত সম্ভব হয়না সবার সাথে সরাসরি নিজেকে শেয়ার করার। এখন এ কাজটি করা হয় ফেসবুককে ব্যবহার করে। আপনার সাফল্য, দু:খ, অভিমান কিংবা অসফলতার বিষয়টি আপনি হয়ত ফেসবুকেই সবার সাথে ভাগাভাগি করে নেন। যারা আপনার পোষ্টে নেতিবাচক মন্তব্য করে আপনি হয়ত ধরে নেন তারা আপনার ভাল চায় না কিংবা আপনার শক্রু। কিন্তু আপনি কি জানেন, যারা আপনার পোষ্টে লাইক, কমেন্টস করছে না তাদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশী লুকিয়ে আছে আপনাকে ঈর্ষা করে এমন ব্যক্তি।

কিভাবে বুঝবেন কে আপনাকে ঈর্ষা করে:
বিষয়টি বোঝার জন্য আপনাকে লম্বা একটি সময়ের ফেসবুক অ্যাক্টিভিটি খুব ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হবে। আমি নিজে বিষয়টি নিয়ে ব্রেকিংনিউজে লেখার আগে শতাধিক ফেসবুকধারীদের সাথে কথা বলেছি এবং ছোট্ট একটি সমীক্ষা করেছি। তাতেই ঈর্ষাকারীকে ধরার বেশ কিছু পদ্ধিত বের হয়ে এসেছে।

বেশীর ভাগ সময় দেখা যাবে, যে আপনাকে ঈর্ষা করে সে আপনার হতাশামুলক কিংবা দু:খ ভরা পোষ্টে অবশ্যই লাইক দিবে বা মন্তব্য করবে। কিন্তু আপনার সফলতার কিংবা সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিকর এমন কোন পোষ্ট বা ছবিতে লাইক বা মন্তব্য করা থেকে দুরে থাকবে।

খুব ভালভাবে যদি লক্ষ্য রাখেন তা হলে দেখবেন, আপনার দারুন সফলতার কোন খবর যা আপনার সামাজিক মর্যাদা বর্তমান থেকে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে, এমন পোষ্ট বা ছবিতে সবচেয়ে বেশী লাইক বা কমেন্টস পাবেন স্বল্প পরিচিত মানুষের কাছ থেকে। তাদের কাছ থেকে সবচেয়ে উৎসাহব্যাঞ্জক মন্তব্যও আপনি পাবেন। তবে সেই পোষ্টে হয়ত খুঁজে পাবেন না আপনার খুব পরিচিত বা আপনার সমসাময়িক স্ট্যাটাসের কোন বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতজনকে।

ঠিক এর উল্টোটা কিন্তু ঘটবে আপনি যদি নিজের জীবন নিয়ে কিংবা কর্মজীবন নিয়ে হতাশামুলক পোষ্ট দেন। দেখবেন আপনার খুব কাছের লোকজন তখন আপনাকে সান্তনা দিচ্ছে, সাহস যোগাচ্ছে। আর কিছুটা দুরের বন্ধুরা হয়ত কারন জানতে চাইবে।

আমাদের বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় যা দেখা যায় তা হল, কোন মানুষের মধ্যে ঈর্ষা বোধ কাজ করে শুধুমাত্র তার খুব কাছের এবং একই সামাজিক মর্যাদাধারী কোন ব্যক্তির যদি তার থেকে বেশী উত্থান ঘটে।

বাস্তব জীবনে বিষয়টি ধরা বা বোঝা একটু কঠিনই বটে। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে বিষয়টি ধরা একেবারেই সোজা। তবে তার আগে সততার সাথে নিজেকেও যে একাবার যাচাই করে নিতে হবে।চোঁখ বুজে একবার চিন্তা করুন তো,এই ব্যাপারটি আপনার ক্ষেত্রে কখন ঘটে আর কোন কোন মানুষের জন্য ঘটে।

ফেসবুক ঈর্ষা নিয়ে কয়েকটি জরিপের তথ্য
জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজি সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূলত নিজেদের সুসময়ের স্মৃতিগুলো প্রকাশ এবং অন্যদের সঙ্গে বিনিময় করেন।তাই সামাজিক যোগাযোগের অনলাইন মাধ্যম ফেসবুকের বন্ধুদের ঈর্ষা করবেন না। বরং সেখানে নতুন ও পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের স্মৃতি ও তথ্য আদান-প্রদান করুন। কারও সঙ্গে নিজেকে তুলনা করতে গেলে আপনার মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মনোবিজ্ঞানী এসব সুপারিশ করেছেন।

স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচটিসি কর্তৃক পরিচালিত এক জরিপে জানা গেছে,৫২ শতাংশ ব্যক্তি স্বীকার করেছেন তারা বন্ধুদের ঈর্ষাণ্বিত করার জন্য ফেসবুকে আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট করেন।

মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহারকারীদের মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারের ফলে অন্য ব্যবহারকারীর প্রতি ঈর্ষা বা হিংসার জন্ম নিলে তা থেকে বিষণ্নতাবোধের জন্ম হতে পারে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত