টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

‘কোস্টগার্ডের হাতেই ৫ হাজার মাঝিমাল্লা নির্যাতিত’

coast---

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
গত পাঁচ বছরে ‘কোস্টগার্ডের হাতেই অন্তত ৫ হাজার মাঝিমাল্লা নির্যাতিত’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ফিশিংবোট মালিক ও মাঝিমাল্লারা। এ কারণে কোস্টগার্ডের কক্সবাজার কন্টিজেন্ট আর দরকার নেই বলেও মন্তব্য তাদের।

জেলা বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ অভিযোগ করে জানান, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে কক্সবাজারে কোস্টগার্ড নিয়োগ করে সরকার।

৫ বছর পার হলো, এ সময়ের মধ্যে তারা একটিও সফলতা দেখাতে পারেনি। জলদস্যু দমনে কোস্টগার্ড সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

এরকম কোস্টগার্ড কক্সবাজারে দরকার নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, কোস্টগার্ডের হাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার মাঝিমাল্লা নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েছেন। তল্লাসির নামে বিভিন্ন সময় ঘটেছে মাছ লুটের ঘটনাও। তাদের সাথে গভীর খাতির রয়েছে চিহ্নিত কিছু দালালের। যে পরিমাণ সেবা দেয়নি তার চেয়ে বেশী ক্ষতি করেছে কোস্টগার্ড।

বিভিন্ন নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বোট মালিক সমিতি নেতা মোস্তাক আহমদ বলেন, বছর খানেক আগে চকরিয়ার মনির মাঝি নামের এক ব্যক্তিকে অমানুষিক নির্যাতন করে কোস্টগার্ড। তাদের পিঠুনিতে একটি কানও ছিড়ে যায় মনির মাঝির। বর্তমানেও তিনি অসুস্থ।

এ সময় তিনি ছলিম মাঝি, আব্দুল খালেক মাঝি, হাবিব মাঝি, শুক্কুর মাঝি, আবুল কালাম মাঝিসহ অন্তত ২০ জনের নাম বলেন তিনি। যারা কোস্টগার্ডের নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েছিলেন।

একই অভিযোগ ফিশিংবোট মালিক ফজল করিমের। তিনি বলেন, আমরা কোস্টগার্ডের কোন সেবা পাচ্ছিনা। দস্যুতা দমনে তাদের সফলতা বলতে কিছুই নেই।

এ দিকে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যদের তান্ডবলিলা থামছেনা। অব্যাহত রয়েছে দস্যুতা। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ডাকাতির শিকার হচ্ছে ফিশিংবোটগুলো। মাছের বদলে রক্তাক্ত দেহে ঘরে ফিরছে জেলেরা। গত সপ্তাহে তিন মাঝিমাল্লা গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত জেলে। জলদস্যুরা লুট করেছে অন্তত পাঁচ লাখ টাকার মাছ।

এরপরও জীবন বাঁচানোর তাগিদে সাগরে নামছে জেলেরা। কিন্তু চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে জেলে সম্প্রদায়ের জীবন। লুটের শিকার হচ্ছে মাঝিমাল্লাদের সহায় সম্বল। মাঝ সাগরে কমান্ডো স্টাইলে গিয়ে জলদস্যুরা লুট করছে জেলেদের আহরিত মাছ। নিয়ে যাচ্ছে ফিশিংবোটসহ মূল্যবান মালামাল। ইঞ্জিন খোলে নিয়ে অনেক ফিশিংবোট মাঝ সাগরে বিকল করে দিচ্ছে জলদস্যুরা। অপহরণ করে নিয়ে যাচ্ছে জেলে-মাঝিমাল্লাদের। দাবী করছে মুক্তিপণ। স্বর্বস্ব হারাচ্ছে বোট মালিকরা। এসব বন্ধে কোস্টগার্ডের কোন ভূমিকায় সন্তুষ্ট হতে পারছে বোট মালিকরা। উল্টো তাদের হাতেই

তথ্য মতে, ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া চ্যানেল থেকে অস্ত্রের মুখে ‘এফবি ভাই ভাই’ নামে একটি ফিশিংবোটসহ শাকের মাঝিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। সেদিন থেকে ওই বোট নিয়েই গণডাকাতি চালাচ্ছে জলদস্যুরা। শুক্রবার দিবাগত রাতে মাঝিসহ অপহৃত ফিশিংবোটটি কুমিল্লার হাতিয়ায় উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর নামে এক জলদস্যুকে আটক করেছে হাতিয়া থানা পুলিশ।

একইভাবে ২১ অক্টোবর বুধবার ‘এফভি নাসের’ ও ‘এফভি সুরুজ জামাল’ নামের আরো দু’টি ফিশিংবোট দস্যুতার শিকার হয়। কক্সবাজার শহরের কলাতলি পয়েন্ট থেকে অন্তত ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জলদস্যুদের ছোঁড়া গুলিতে তিন মাঝিমাল্লা গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়। লুট করে নিয়ে যায় মাছসহ ট্রলারের বিভিন্ন সরঞ্জাম।

একইভাবে সোমবার দিবাগত রাতে কক্সবাজারের আরো তিনটি ফিশিংবোট পটুয়াখালীতে লুট হয়েছে। গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জেলে।
এ সময় বাবুল নামের এক মাঝিকেও অপহরণ করে নিয়ে গেছে জলদস্যুরা।

বোট মালিক ও মাঝিমাল্লারা জানায়, সাগরে প্রতিদিন ডাকাতির শিকার হচ্ছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো। এরপরও ঘুমভাঙ্গেনি জেলেদের নিরাপত্তা ও জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বাহিনী কোস্টগার্ড’র। বরং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে মাছ লুট ও মাঝিমাল্লা নির্যাতনের।

তাদের মতে, সোনাদিয়ার দুর্ধর্ষ জলদস্যু জাম্বু বাহিনী, সরওয়ার বতইল্যা বাহিনী ও জলদস্যু সম্রাট নাগু মেম্বারের ছেলে নকিব বাহিনী এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, হাটখালী, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার দস্যুরা সোনাদিয়া চ্যানেলে জড়ো হয়েছে।

এ বাহিনীতে রয়েছে- সোনাদিয়া এলাকার শাব্বির ডাকাত, আব্দুল মোনাফ, মোবারক, আনজু, জাহাঙ্গীর, বক্কর, সাদ্দাম, আবুল কালাম, আব্দুল বারি, শফি ডাকাত, কুতুবজোম নয়াপাড়া এলাকার ফরিদুল আলমপ্রকাশ লেং ফরিদসহ অন্তত অর্ধশত জলদস্যু। তারাই পুরো সাগর নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিনিয়তই চালাচ্ছে দস্যুতা ও লুটপাট।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার কোস্টগার্ড স্টেশনের পিটি অফিসার নান্নু মিয়া বলেন, সাগরে দস্যুতা আতঙ্ক ও উদ্বেগের। দস্যুতা বন্ধে যৌথ অভিযান জরুরী। এ জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি দরকার। যৌথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে জলদস্যুতা বন্ধ করা সম্ভব। তবে বোট মালিক ও মাঝিমাল্লাদের অভিযোগ প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন বলেন, সাগরে দস্যুতা রোধে মঙ্গলবার দুপুরে ফিশিংবোট মালিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। এখানে বেশকিছু করণীয় ঠিক করা হয়েছে।

মতামত