টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩ শতাধিক

চট্টগ্রাম, ২৬ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক ব্যক্তির নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

সোমবার ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান,কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের পাশাপাশি বাংলাদেশেও শক্তিশালী এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিলো আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো বলছে, বিস্তৃত এলাকার টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পেতে দেরি হচ্ছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তরের (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় ৩টা ৯ মিনিটে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের জারম থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ পশ্চিমে, ভূপৃষ্ঠের ২১২ কিলোমিটার গভীরে। ওই এলাকার কাছেই পাকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্ত।

আফগানিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের প্রাদেশিক প্রধান আবদুল রাজ্জাক জিনদার বরাত দিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পের মধ্যে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তালোকান শহরের একটি স্কুল থেকে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মৃত্যু হয় ১২ ছাত্রীর। আর পূর্বাঞ্চলীয় নাগরহার প্রদেশে সাতজন, নূরিস্তানে দুজন এবং কুনার প্রদেশে তিনজন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়। তবে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম বলছে আফগানিস্তানে নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে।। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে অন্তত ৩৫ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভূমিকম্পে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ভয়ানকভাবে কেঁপে উঠলেও সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় আফগান সীমান্তবর্তী জেলাগুলো।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাকিস্তানে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে অন্যান্য সূত্রগুলো বলছে, পাকিস্তানে এই ভূমিকম্পে কমপক্ষে দুই’শ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পেশোয়ার শহরসহ খাইবার পাখতুনখওয়া প্রদেশ এবং কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় এলাকাগুলোতে নিহত হয়েছে ১২১ জন। পাঞ্জাবে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আজাদ কাশ্মীরে নিহত হয়েছে একজন। আর তিনজনের মৃত্যু হয়েছে গিলজিত বালতিস্তানে।

চিত্রল প্রদেশের পুলিশ প্রধান শাহ জাহানকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, সেখানে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

“টেলিফোন যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় আমরা যোগাযোগ করতে পারছি না। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আমরা আশঙ্কা করছি,” বলেন তিনি।

পেশাওয়ারেও একজন নিহত হয়েছেন। সেখানে অন্তত দেড়শ মানুষ আহত অবস্থায় লেডি রিডিং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বাদখাশন প্রদেশের গভর্নর সালাহ উবাইদুল্লাহ আবিদ জানান, তার এলাকায় অন্তত চারশ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

দুলুনিতে ভারতের বিভিন্ন শহরেও মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে অনেক স্কুল ও অফিস থেকে লোকজনকে বের করে আনা হয়।

বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্প শুরু হলে দিল্লির মেট্রো রেল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এক টুইটে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিরূপণের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

“পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ যেখানে যে সহায়তা প্রয়োজন, তা দিতে আমরা প্রস্তুত আছি,” বলা হয় মোদির টুইটে।

নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রায় ৬ মাস পর এ ভূমিকম্প হল। নেপালে এপ্রিলের ওই ভূমিকম্প এবং তৎপরবর্তী কম্পনে ৯ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত