টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডে ২০ দলীয় জোট জড়িত!

20-dolio-jotচট্টগ্রাম, ২৬ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে নতুন-নতুন তথ্য বের হয়ে আসেছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন—চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২০ দলীয় জোট জড়িত। তাদের ধারণা, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিকভাবে সরকারকে চাপে ফেলতেই বিদেশি নাগরিকদের হত্যা করা হয়েছে।

তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে কোনও রাজনৈতিক দলের নেতারা জড়িত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া জানান, একটি পেশাদার বাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এখনই এভাবে বলতে পারেন না। তবে কারা দেশকে অশান্ত করে সুবিধা নিতে চায়, তাদের সম্পর্কে সবাই জানেন। তিনি বলেন, বছরের শুরুতে দীর্ঘ তিনমাস কথিত আন্দোলন-অবরোধের নামে যারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, জালাও-পোড়াও করে নাশকতা চালিয়েছে, তাভেল্লা সিজার হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ নিয়ে বিষয়টি জনসম্মুখে নিয়ে আসা হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেফতারকৃতরা তাদের জানিয়েছেন, একজন বড় ভাইয়ের পরিকল্পনা-নির্দেশেই তারা ইতালির নাগরিক তাভেল্লা সিজারকে হত্যা করেছে। এটা কোনও টার্গেট-কিলিং ছিল না। বড় ভাই বলেছেন, একজন বিদেশিকে হত্যা করতে হবে। তাই, ওই সময়ে যে বিদেশি তাদের সামনে দিয়ে যেতেন, তাকেই তারা হত্যা করতে হতো। এমন নির্দেশ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন তাভেল্লাকে হত্যা করে খুনিরা।

নির্দেশদাতা কথিত সেই বড় ভাই সম্পর্কে তথ্যও পেয়েছেন বলেও জানান কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, সেই বড় ভাইয়ের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলে, এর পেছনে আর কারা জড়িত, তাদের সম্পর্কেও জানা যাবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাভেল্লা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃতরা। কথিত বড় ভাইয়ের নির্দেশ ও টাকার লোভে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আন্তর্জাতিকভাবে সরকারকে চাপে ফেলতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরে অপরাধীদের আড়াল করতে সাজানো হয়েছে ‘আইএস’ নাটক।

কমিশনার আরও জানান, গ্রেফতারকৃত মিনহাজুল আরিফিন রাসেল ও রাসেল চৌধুরী হত্যা ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া, তামজিদ আহমেদ রুবেল স্থানীয়ভাবে ঠাণ্ডামাথার খুনি হিসেবে পরিচিত। মোটর সাইকেল সরবরাহকারী শাখাওয়াত হোসেন শরিফ এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, তাভেল্লা সিজার হত্যাকাণ্ডে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর কোনও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। সাইট ইন্টেলিজেন্স নামের যে সাইটে আইএস-এর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছে, তারও কোনও সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মনিরুল জানান, যেসব সাইটে আইএস-এর সংবাদ ও তথ্য থাকে এবং আইএস যেসব সাইটে নিজেদের কর্মকাণ্ডের তথ্য ও ছবি প্রকাশ করে, সেসব সাইট ও লিংকে তাভেল্লা হত্যার কোনও তথ্য তারা পাননি। সাইট ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক রিটা কার্ৎজকে মেইল করে এ বিষয়ে তথ্য চাইলেও তিনি কোনও সাড়া দেননি।

ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া আরও বলেন, পুরান ঢাকার হোসনি দালানে বোমা হামলা ও পুলিশ হত্যাকাণ্ড ও রংপুরে জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যাকাণ্ড ভিন্ন ভিন্ন গ্রুপ ঘটিয়েছে। তবে একই উদ্দেশ্য এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তারা নতুন করে ঢেলে সাজিয়েছেন। কূটনৈতিক এলাকায় কেউ অপরাধ করার দুই মিনিটের মধ্যেই তারা পুরো এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হবেন। দেশকে অস্থিতিশীল করার সব চক্রান্ত তারা নস্যাৎ করে চক্রান্তকারীদের প্রতিহত করতে পারবেন বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের ৯০ নম্বর রোডের গভর্নর হাউজের দক্ষিণের দেয়াল ঘেঁষা ফুটপাতে তাভেল্লা সিজারকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।- বাংলা ট্রিবিউন

মতামত