টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পাথর সংকটে অনিশ্চয়তার মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Dhaka-Ctg-Rod-Photচট্টগ্রাম, ২৬  অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চারলেন প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হলেও বিভিন্ন সমস্যার কারণে তা ঠিক সময়ে শেষ করা যাচ্ছেনা। গত কয়েক মাস আগে থেকে সৃষ্ট পাথর সংকট এখনো সমাধান না হওয়ায় এখনো অনিশ্চয়তার পথে সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর এবারের দেয়া টাইমলাইনও।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রকল্পাধিন চার লেনের চট্টগ্রামের সিটি গেইট থেকে ঢাকার দাউদকান্দি পর্যন্ত ১৯২ কিলোমিটারের পুরোটাই শেষ ঢালাই দেয়া বাকী। এছাড়া বর্ষায় ক্ষতিগ্রস্থ বিভিন্ন অংশ ও অসমাপ্ত কিছু অংশ ও বাকী। পাথরের অভাবে যা থেমে আছে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই। অনেক অংশে সংস্কার কাজের ধীর গতির জন্য দীর্ঘদিন ধরে এক লেন দিয়েই চলছে দুই লেন এর গাড়ী। ফলে মহাসড়কে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ সড়কে যাতায়াত করা হাজার হাজার যাত্রীকে।

জানা গেছে, ভারতের জাফলং থেকে যেসব ভোল্ডার পাথর আসতো তা ভারত সরকার বন্ধ করে দেয়ায় এই সংকট তীব্র আকার ধারন করে। তবে সম্প্রতি চাঁপাই নবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ সীমান্ত দিয়ে কিছু পাথর ক্রয় করে আনার সুযোগ সৃষ্টি হলে ও অধিক মূল্য ও প্রয়োজনের তুলনায় পাথর অনেক কম আনতে পারায় ঠিকাদাররা অনাগ্রহ প্রকাশ করছে বাকী কাজে। আর সিনো হাইড্রো তো সরকার অগ্রীম টাকা না দিলে এতো চড়া মূল্যে পাথর আনবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে বলে একটি সূত্রে নিশ্চিত করে।

তবে এই বিষয়ে চার লেন প্রকল্পের মিরসরাই অংশের ঠিকাদার রেজা কনষ্ট্রাকশনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী রবিউল হোসেন বলেন, নির্মান কাজে আমাদের সুনাম রক্ষা করার জন্য আমরা চড়া মূল্য দিয়ে হলে ও এখানকার প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে চাই। তাই ইতিমধ্যে ধূমঘাট অংশ থেকে আমরা ফাইনাল লেয়ার ঢালাইয়ের কাজ শুরু ও করে দিয়েছি। কারন ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়ক সহ অন্যান্য কয়েকটি বড় কাজ আমরা পেয়েছি। কিন্তু এভাবে পাথরের অভাব থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো ফোর লেন কি সম্ভব ? জানতে চাইলে প্রকৌশলী রবিউল হোসেন বলেন। পাথর না পেলে ও পাথরের চড়া মূল্যেও ও পরিবর্তন না হলে কোনভাবেই ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে আমি মনে করি।

তবে এই বিষয়ে চট্টগ্রাম অংশের চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, আমার অংশের ধূমঘাট পর্যন্ত ৬৬ কিলোমিটারের কাজ প্রায় শেষের দিকে । কুমিরা, বড়দারোগারহাটের দক্ষিণে সহ কিছু স্থানে বাকি চার লেনের কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। কিন্তু পাথর না পেলে কিভাবে শেষ করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন হ্যাঁ আমরা যেভাবেই হোক সোনা মসজিদ থেকে বেশী দামেই পাথর সংগ্রহের চেষ্টা করছি।

জানা যায়, পাথর সংকটে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করর্পোরেশন লিমিটেডের নির্মাণাধীন প্যাকেজ-২, প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ-৫-এর অগ্রগতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তাদের প্যাকেজভুক্ত মহাসড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬৩ কিলোমিটার। এর আওতায় কুমিল্লা বাইপাস সংলগ্ন এলাকা, ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় কাজ প্রায় বন্ধ। মন্থর গতির এ তিন প্যাকেজের কাজে গতি আনতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তাগিদ দিয়ে কোন ফল পাচ্ছে না চার লেন বিভাগ। এতে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চার লেনের মূল কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের মেঘালয়ের কোয়ারি এলাকায় পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির উচ্চ আদালত। এতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে তামাবিল দিয়ে ভারতের পাথর রফতানি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া শুল্ক বাড়িয়ে দেয়ায় অন্যান্য বন্দর দিয়েও পাথর আসছে না। ফলে মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় এপ্রিল থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন প্যাকেজের।

আবার বিকল্প উৎস হিসেবে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনি থেকে উত্তোলিত পাথর ব্যবহারে উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে মধ্যপাড়ার সরবরাহ সক্ষমতা অনেক কম। পাশাপাশি পাথরের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পাথর সংকটের কারণে ফোর লেন প্রকল্পের কয়েকটি সেতুর নির্মাণকাজও থেমে আছে। এর মধ্যে ফেনী বাইপাস অংশের লালপুল, লেমুয়া, মহুরী ও ধুমঘাট সেতুর অবশিষ্টাংশ। একই কারণে থেমে আছে চট্টগ্রাম রেলওভার পাস ও কুমিল্লা মিয়াবাজার সেতুর কাজও।

সংশ্লিষ্ট বলছেন, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করার লক্ষ্যে বিকল্প উপায়ে পাথর সংগ্রহ জরুরী হয়ে পড়েছে। এজন্য মধ্যপাড়ার পাথর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের উপযোগী কিনা, তা যাচাইয়ে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সবুজ সংকেত পাওয়া যায়নি। নির্মাণকাজের স্পেসিফিকেশন (নির্দেশনা) অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুকূল হলে ওই পাথর ব্যবহার করা যাবে। তবে সোনামসজিদ হয়ে আসা পাথরগুলো যথাযথ মানের হলে ও সেখানে পর্যাপ্ত পাথর নেই।

এ বিষয়ে চার লেন প্রকল্পের পরিচালক হাসান ইবনে আলম বলেন, পাথর ঘাটতি নিরসনে বিকল্প উৎস হিসেবে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা থেকে উত্তোলিত পাথর ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে মধ্যপাড়ার পাথর পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত