টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে রেল লাইনে ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধ বাজার! ঘটছে দুর্ঘটনা

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Rel-Line-Bazar-Phoচট্টগ্রাম, ২৫ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের মিরসরাইয়ের বারইয়ারহাট পৌরসভা অংশে অবৈধ দখলে চলে গেছে রেললাইন ঘেঁষা বিশাল এলাকা। রেল লাইনের আশ-পাশের জায়গা দখলের পাশা-পাশি আপ ও ডাউন লাইনের মাঝে জায়গায় কাঁচা তরকারির বাজার বসানো হয়েছে। এতে করে একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। বারইয়ারহাট পৌরসভা, রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, বাজার ইজারাদার ও সরকারী দলের স্থানীয় কয়েক নেতা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিদিন টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ গত ২১ অক্টোবর বেলা ১১টায় লাতু মিয়া নামের এক বৃদ্ধ ট্রেনে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলে নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বারইয়ারহাট রেললাইনে অবৈধভাবে বসা কাঁচা বাজার থেকে বাজার করার সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে লাতু মিয়া। এসময় শরীর দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। গত কয়েক মাস পূর্বে একই স্থানে আরো একজন বাজার করার সময় ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রেল লাইনের দুই পাশে বাজার বসার পাশাপাশি লাইনের মাঝে অবস্থিত জায়গায় কাঁচা বাজার বসানো হয়েছে। মানুষ প্রতিদিন সকাল বিকাল সেখান থেকে বাজার করছে। হটাৎ রেল আসলে এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করে মানুষ। এসময় দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। একাধিক ব্যবসায়ীর কথা বলে জানা গেছে, পৌরসভায় নির্মাণ করা কাঁচা বাজারের ২য় তলার শেড বেশি টাকায় জামানত চাওয়ার কারণে তারা সেখানে ব্যবসা করতে পারছেনা। এ বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান পৌরসভার মেয়র তাহের ভূঁইয়া। তবে একটি সূত্র জানায়, কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ীরা পৌরসভা থেকে নেয়া কাঁচা বাজারে শেড অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে নিজেরা রেল লাইনের মাঝে এসে ব্যবসা করছে। এজন্য প্রতিদিন প্রতিজন ব্যবসায়ীরা বাজার ইজারাদারকে ২০ টাকা, বারইয়ারহাট রেল ক্রসিংয়ের গেইটম্যান ২০ টাকা ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একটি সিন্ডিকেট ২০ টাকা করে দেয়। বাজার উন্নয়ন কমিটি একাধিকবার রেল লাইনের মাঝ থেকে বাজার তুলে দেয়ার সীদ্ধান্ত নিলেও স্থানীয় কিছু সরকার দলীয় কয়েক নেতার প্রভাবের কারণে তা সম্বভ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে রেলক্রসিংয়ের গেইটম্যান ছাবের আহম্মদ অনেক সময় টাকার জন্য বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের বিভিন্ন গাড়ি পার হওয়ার পূর্বে রেল না আসলেও ইচ্ছা করে গেইট বন্ধ করে দেন। পরে গাড়ি চালক কিছু টাকা ধরিয়ে দিলে ক্রসিংয়ের গেইট খুলে দেয়। এছাড়া ক্রসিংয়ের পাশে বসানো একটি চড়পটির দোকান থেকে সে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান,আমরা প্রতি দোকানের ব্যবসায়ীরা ২ লাখ হতে ৩ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে মাসিক নিদিষ্ট ভাড়া, পৗরকর দিয়ে ব্যবসায় করছি। রেললাইনের দু পাশে ও মাঝে জায়গা দখল করে বাজার গড়ে তুলায় আমাদের ব্যবসা বানিজ্য ক্ষতি হচ্ছে।তারা অবিলম্বে রেললাইনের ওই অবৈধ উচ্ছেদের দাবি জানান।

বারইয়ারহাট কাঁচা বাজারের ইজারাদার মোহাম্মদ আজিজ বলেন, আমার ইজারা নেয়া কাঁচা বাজারের মধ্যে রেল লাইনের মাঝে বসা ব্যবসায়ীরা নেই। তাদের সেখানে বসতে নিষেধ করলেও তারা শুনেনা। প্রতি ব্যবসায়ীর থেকে দৈনিক টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, তারা সেখানে শাক-সবজি বিক্রি করে মাঝে মধ্যে ১০ থেকে ২০ টাকা করে দেয়।

এ ব্যাপারে বাজার উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ বলেন, বাজার কমিটির পক্ষ থেকে একাধিকবার রেল লাইনের আশ-পাশের অবৈধ বাজার তুলে দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষ ও কিছু রাজনৈতিক নেতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো বলেন, এই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা থেকে বাজার না তুললে আরো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ব্যাপারে বারইয়ারহাট রেল ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেইটম্যান ছাবের আহম্মদ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টোল (টাকা) নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি কেন টাকা নেব, আমার উপরের লোকজন রয়েছে। তারা কত টাকা করে নেয় এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।

রেললাইনের দু পাশে অবৈধ বাজার সর্ম্পকে চিনকী আস্তানা রেল ষ্টেশনের সহকারী মাষ্টার ছিদ্দিকুর রহমান বারইয়ারহাট পৌরসভায় রেললাইনের উপর গড়ে উঠা ভ্রাম্যমাণ বাজার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের প্রদক্ষেপ নিয়ে ও ব্যর্থ হয়েছে। ইজারাদাররা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতা জড়িত বলে অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে বারইয়ারহাট পৌরসভার মেয়র আবু তাহের ভূঁইয়া বলেন, রেল লাইনের আশ-পাশ থেকে অবৈধভাবে বসা ব্যবসায়ীদেরকে উচ্ছেদ করতে পৌরসভা থেকে একাধিবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী তাদের (অবৈধভাবে বসা ব্যবসায়ীদের) শেল্টার দেয়ার কারণে উচ্ছেদ করা যাচ্ছেনা। ব্যবসায়ীদের সেখান থেকে সরিয়ে নিতে কাঁচা বাজারের শেডে ২য় তলায় দোকানঘর নির্মাণ করেছি। সেখানে ব্যবসায়ীরা না গিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রেল লাইনের পাশে বসে ব্যবসা করছে। তারপরও আমরা স্থানীয় প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও গনমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে এ ব্যাপারে প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

মতামত