টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সাগরে ফের দস্যুদের তান্ডব, তিন মাঝিমাল্লা গুলিবিদ্ধ

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
বঙ্গোপসাগরে ফের জলদস্যুদের তান্ডবের শিকার হয়েছে কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার মমতাজ আহমদের মালিকানাধীন এফভি সাগর-২ নামে আরো একটি মাছধরার ট্রলার।

বুধবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলি পয়েন্ট থেকে অন্তত ১০-১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে।

এ সময় জলদস্যুদের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে তিন মাঝিমাল্লা গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

তারা হলো-কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল কুলিয়াপাড়া এলাকার খোরশেদ আলম, মনজুর আলম ও বাঁশখালী এলাকার জসিম উদ্দিন।

মাঝ সাগর থেকে গুলিবিদ্ধ তিন মাঝিমাল্লাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করেছে সাগরে মাছ ধরতে আসা পটুয়াখালী জেলার মহিপুরের অরেকটি ফিশিংবোট।

তারা বর্তমানে মহিপুর এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান ডাকাতির শিকার বোট মালিক মমতাজ আহমদ।

তিনি বলেন, ২০-৩০ জনের স্বশস্ত্র ডাকাত অতর্কিত গুলিবর্ষণ করতে করতে তার বোটের উপর উঠে পড়ে। এরপর মাছ, জালসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে ডাকাতদল।

এ সময় ডাকাতদলের ছোঁড়া গুলিতে তিনজন মারাতœক আহত হয়। এদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া ডাকাতদলের বেপরোয়া মারধরে আহত হয়েছে আরো অন্তত দশজন মাঝিমাল্লা।

তাদের নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

তবে এরা সবাই কূলে ফিরে এসেছে বলে জানান কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ।

তিনি জানান, শাগর শান্ত থাকায় সোনাদিয়া, কুতুবদিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন এলাকার জলদস্যুরা বেপরোয়া ডাকাতি চালাচ্ছে। প্রতিনিয়তই লুট করছে আহরিত মাছসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। ডাকাতদলের বেপরোয়া গুলিবর্ষণ ও মারধরে আহত হয়ে ফিরে আসছে মাঝিমাল্লারা।

এদিকে গত দুই দিন ধরে সাগরে অব্যাহত রয়েছে দস্যুতা ও লুন্ঠন। কোন মতেই থামছেনা জলদস্যুদের তান্ডবলিলা। সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়তই ডাকাতির শিকার হচ্ছে ফিশিংবোটগুলো।

২০ অক্টোবর মঙ্গলবার বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়া চ্যানেল থেকে অস্ত্রের মুখে ‘এফবি ভাই ভাই’ নামে একটি ফিশিংবোটসহ ওই বোটের চালক শাকের মাঝিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা।

এর একদিন পর ২১ অক্টোবর বুধবার ‘এফভি নাসের’ ও ‘এফভি সুরুজ জামাল’ নামের আরো দু’টি ফিশিংবোট দস্যুতার শিকার হয়।

এ সময় জলদস্যুদের ছোঁড়া গুলিতে তিন মাঝিমাল্লা গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়। লুট করে নিয়ে যায় মাছসহ ট্রলারের বিভিন্ন সরঞ্জাম। এ সময় আহতরা বর্তমানে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে।

বোট মালিক ও মাঝিমাল্লারা জানায়, সাগরে প্রতিদিন ডাকাতির শিকার হচ্ছে মাছ ধরার ট্রলারগুলো। এরপরও ঘুমভাঙ্গেনি জেলেদের নিরাপত্তা ও জলদস্যু নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বাহিনী কোস্টগার্ড’র।

তাদের মতে, সোনাদিয়ার দুর্ধর্ষ জলদস্যু জাম্বু বাহিনী, সরওয়ার বতইল্যা বাহিনী ও জলদস্যু সম্রাট নাগু মেম্বারের ছেলে নকিব বাহিনী এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বে বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, হাটখালী, চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার দস্যুরা সোনাদিয়া চ্যানেলে জড়ো হয়েছে।

এ বাহিনীতে রয়েছে- সোনাদিয়া এলাকার শাব্বির ডাকাত, আব্দুল মোনাফ, মোবারক, আনজু, জাহাঙ্গীর, বক্কর, সাদ্দাম, আবুল কালাম, আব্দুল বারি, শফি ডাকাত, কুতুবজোম নয়াপাড়া এলাকার ফরিদুল আলম প্রকাশ লেং ফরিদসহ অন্তত অর্ধশত জলদস্যু। তারাই পুরো সাগর নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিনিয়তই চালাচ্ছে দস্যুতা ও লুটপাট।

কক্সবাজার কোস্টগার্ড স্টেশনের পিটি অফিসার নান্নু মিয়া বলেন, সাগরে দস্যুতা আতঙ্ক ও উদ্বেগের। গত দুইদিন ধরে বেপরোয়া দস্যুতার কথা শুনেছি। সাগরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে জলদস্যুতা বন্ধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে নৌ-বাহিনীর সহযোগিতা দরকার।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত