টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাঙ্গামাটিতে অপহৃত পর্যটকদের নিয়ে অনিশ্চয়তায় পরিবার

চট্টগ্রাম, ২০ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  “একটা মানুষ ঘুরতে যেয়ে হারিয়ে যাবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি না বলে জানান রাঙ্গামাটি থেকে অপহৃত জাকির মুন্নার স্ত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা।

এদিকে স্বামীর অপেক্ষায় গত ১৭ দিন ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তিনি। কিন্তু তার স্বামী কোথায় এবং কীভাবে আছেন কোন খবরই তিনি পাচ্ছেন না।

জাকির মুন্না, আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের এবং মাংসাই ম্রোকে গত ৩রা অক্টোবর রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলা থেকে অপহরণ করা হয়। কিন্তু এরপর মুক্তিপণ দাবির কিছু উড়ো খবর ছাড়া নির্ভরযোগ্য কোন সংবাদ পায়নি তাদের পরিবার।

“রাত হলেই আমাদের দুই বাচ্চা কান্নাকাটি করে যে আব্বু আসছে না কেন? গতকাল রাতেও ছোট মেয়েটা কান্নাকাটি করে বলছিল আব্বু কোথায়, কেন আসছে না” বলেন ফাতেমা তুজ জোহরা।

ভ্রমণপিপাসু জাকির মুন্না পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে গিয়েছেন অনেকবার। পাহাড়ি পথে ট্রেকিংয়ের জন্য তার সাথে অনেক বন্ধু-বান্ধব ঘুরে বেরিয়েছেন বান্দরবনের দুর্গম পাহাড়ে। কিন্তু এর আগে প্রতিবারই ভালোভাবে ফিরে এলেও এবার এখনো তার ফেরা হয়নি।

জাকির মুন্নার সাথে এবার ট্রেকিংয়ে গিয়েছিলেন আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের। সম্প্রতি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সান্ধ্যকালীন এমবিএ সম্পন্ন করেছেন।

মি. জুবায়েরের বাবা আব্দুর রব খান বলছেন, এখনো পর্যন্ত তারা যা সংবাদ পেয়েছেন তা মূলত: বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে। এর পাশাপাশি তারা সেখানকার সেনাবাহিনীর সাথেও যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু এখনো নিশ্চিতভাবে কোন খবর পাননি।

তিনি বলছেন, পরিবারের মেজো ছেলেকে নিয়ে তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।

ঢাকা থেকে যাওয়া এ দুজন পর্যটকের সাথে গাইড হিসেবে ছিলেন মাংসাই ম্রো। এ দুজনের সাথে তিনিও অপহৃত হন। তবে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বান্দরবানের স্থানীয় সাংবাদিকেরা জানাচ্ছেন, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি সেখানে অভিযান চালাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা এবং অপহৃতদের উদ্ধারে চলছে তাদের এই অভিযান। কিন্তু দুর্গম এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হওয়ায় এসম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হচ্ছে না।

অপহৃত দুজনের খোঁজে বেশ কিছুদিন বান্দরবানে অবস্থান করেছেন জাকির মুন্নার বন্ধু আরাফাত ইসলাম। তিনি বলছেন, এর আগে আরাকান লিবারেশন পার্টি তাদের অপহরণ করেছে এবং মুক্তিপণ দাবি করেছে স্থানীয়ভাবে এমন একটি খবর পেলেও এর নির্ভরযোগ্যতা তারা পাননি। এখন সেনা অভিযানের মাধ্যমেই তাদের উদ্ধারের আশা করছেন।

এদিকে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকরা অপহৃত হবার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের উদ্ধারের জন্য প্রচারণা চালিয়ে আসছে অপহৃতদের বন্ধু-বান্ধব এবং পর্যটকদের বিভিন্ন সংগঠন। এই দাবিতে ঢাকায় কিছুদিন আগে তারা একটি মানববন্ধনও করে।

জাকির মুন্না এবং আব্দুল্লাহ জুবায়েরের পরিবার বলছে, তারাও আশায় আছেন খুব দ্রুতই তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত