টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ঈদ পূজা ও উৎসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে হিজড়া বাহিনী

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

hijraচট্টগ্রাম, ১৯  অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): ঈদ পূজা ও উৎসব অনুষ্ঠানকে ঘিরে নগরী ও রাউজানসহ বিভিন্ন উপজেলায় দাপিয়ে বেড়ায় হিজড়া বাহিনী। বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নামে বিভক্ত হয়ে অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সর্বত্র চাঁদাবাজিতে মেতে উঠে তারা। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই রাউজানের বিভিন্ন বিপনী বিতানেও তারা হুমড়ি খেয়ে চাঁদাবাজিতে নেমে পড়তে দেখা যায়। এ ছাড়া শিশু নাচানোর নাম করে পরিবারের কাছ থেকে জোর করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। ইদানীং তাদের মাত্রাতিরিক্ত অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।

তারা বলছেন, হিজড়াদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, যে কারণে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। পক্ষান্তরে, বিপদে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। জানাগেছে হিজড়ারা প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে। পুলিশও ভয় পায় হিজড়াদের। কেননা প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যায় না। উপরন্তু কখনো কোনো হিজড়াকে আটক করলে তাদের বাহিনীর সদস্যরা ছুটে আসে। তারা থানা ঘেরাও করে, ভাঙচুর চালায়, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। সে কারণে কেউ থানায় এলে পুলিশ মীমাংসা করে ফেলার পরামর্শ দেয়।

সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি থেকে হিজড়াদের টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে হিজড়াদের টাকা তোলার এই রীতি চলে আসছে।

মানুষও সাধ্যমতো তাদের টাকা ও বিভিন্ন মালামাল দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু গত কয়েক বছর হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। পাল্টে গেছে তাদের টাকা চাওয়ার ধরনও। আগের দিনের সেই টাকা তোলা এখন চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে। তারা ১০ টাকার কম চাঁদা দিলে ব্যসায়ীদের নানাভাবে হেনস্থা করছে।

নোয়াপাড়া পথেরহাটের এক ব্যাংক ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, হিজড়ারা অন্যান্য স্থান থেকে ১০/২০ টাকা নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও ব্যাংক থেকে শত টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা না দিলে নানা অঙ্গ ভঙ্গিতে বিব্রত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে তারা।

অনেক ভুক্তভুগি মানুষ বলেছেন রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে মানুষকে টাকার জন্য নাজেহাল করছে। চাঁদার জন্য মানুষকে জিম্মি করে ফেলা হচ্ছে।

ঈদ পুজা উৎসবে তাদের উৎপাত অনেক বেড়ে যায়। হিজড়াদের কাজে কেউ বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হচ্ছে। প্রকাশ্যেই কাপড়-চোপড় খুলে ফেলছে। বিশেষ ভঙ্গিতে হাততালি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে উপজেলার নোয়াপাড়া পথেরহাটের ভারত্বেশরী প্লাজায়। এ মার্কেটের ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ আগে একদল উশৃঙ্খ হিজড়া আমাদের মার্কেটে এসে জড়ো হয়ে বিভিন্ন দোকান থেকে গণহারে টাকা দাবী করে। তাদের দাবী অনুযায়ী দু এক ব্যবসায়ী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে হিজড়ারা নিজেদের কাপড় চোপড় খুলে কয়েক ব্যবসায়ীকে জড়িয়ে ধরে। গাঁয়ে নখের আচড় লাগিয়ে দেয়। হিজড়াদের এ আচরণে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের পিটুনি দিলে মার্কেট ত্যাগ করতে বাধ্য হয় হিজড়ার দল।

নোয়াপাড়া পথেরহাটের আমির মার্কেটের প্রবীণ ব্যবসায়য় বেঙ্গল ইলেক্ট্রনিক্সের মালিক শাহজালাল বলেন, হিজড়ারা সারা বছরই চাঁদা আদায় করে। হিজড়াদের টাকায় বিষয়টিকে অনেকে স্বাভাবিক মনে করে থাকেন। এটি নিয়ে প্রশাসনে কেউ অভিযোগ করতে যায়না। কিন্তু যাদের কাছ থেকে চাঁদা নেয়া হচ্ছে তারা বুঝতে পারেন এর যন্ত্রণা কী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। তিনি আরো বলেন,প্রতি সপ্তাহে হিজড়ারা দল বেধে বাজারে চাঁদা নিতে আসে। দোকান বা ব্যবসায়ের ধরন বুঝে ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকে। টাকা দিতে না চাইলে বা একটু নেগেটিভ ধরনের কথা বললেই ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্য করে ওঠে। গালিগালাজ ও অভিশাপ দিতেও বাদ দেয় না।

উল্লেখ্য, হিজড়াদের চাঁদাবাজির মধ্যে নবজাতক শিশু নাচানো অন্যতম। আগে হিজড়ারা শিশু নাচালে পরিবারের সদস্যরা সামর্থ্য অনুযায়ী যে টাকা দিতেন হিজড়ারাই তাই নিয়ে যেত। কিন্তু কয়েক বছর ধরে তাদের অত্যাচার বেড়ে গেছে। শিশু নাচানোর নাম করে ১০ হাজার থেকে শুরু ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।

মিনু ও রানী নামের হিজড়া বলেন, আমাদেরও বাঁচার অধিকার আছে। দেশে বা সমাজের কোথাও আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। আমারা তাহলে কী করব। চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, হিজড়ারা চাঁদাবাজি করে না। এ ব্যাপারে জানতে হিজড়া নেতা সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কথা বলেননি।

তাদের দাবিকৃত টাকা না দিলে শিশুটিকে জিম্মি করা হচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ডে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ছে। কিন্তু টাকা না দেয়া পর্যন্ত শিশুটিকে মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেয় না তারা। এ দিকে বুকের মানিককে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাবা-মা হিজড়াদের অনৈতিক দাবি পূরণ করছে। অনেক সময় এসব বিষয় নিয়ে এলাকাবাসী ও হিজড়াদের সাথে প্রথমে বাগবিতণ্ডা পরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

জানা গেছে, হিজড়াদের কয়েকটি সংগঠন রয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে চরম দ্বন্দ । মাঝে মধ্যে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে চাঁদা আদায়ের এলাকা ভাগ করা নিয়েই দ্বন্দ-সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো ঝামেলা ছাড়া অর্থ উপার্জনের জন্য অনেকে হিজড়া না হয়েও হিজড়া সেজে চাঁদাবাজি করছেন। পুরুষ ও পতিতারাও হিজড়া সংগঠনে ঢুকে পড়েছে। সাজগোজ করে তারা হিজড়া হয়ে যায়। এমন কয়েকজন ভুয়া হিজড়াকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছিল নগরীতে।

মতামত