টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে পূজায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব’ ছড়ানোর আশঙ্কা

চট্টগ্রাম, ১৮ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব’ ছড়িয়ে দুর্গাপূজার সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন চট্টগ্রামের হিন্দু নেতারা।

দুর্গাপূজা শুরুর আগে রোববার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা শাখার এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে পূজা কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে একই ধরনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এ কে এম হাফিজ আক্তার।

কয়েক বছর আগে কক্সবাজারের রামুতে ফেইসবুকের মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে বৌদ্ধ বসতিতে হামলার মতো ঘটনা চট্টগ্রামে ঘটানো হতে পারে বলে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রামের সভাপতি শ্যামল কুমার পালিত বলেন, “সোশাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে অ্প্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হতে পারে। সুযোগসন্ধানীরা ফেইসবুকে বিতর্কিত কিছু পোস্ট করে এ কাজ করতে পারে।

“এজন্য প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি পূজার সঙ্গে জড়িতদেরও সজাগ থাকতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্তও ছিলেন। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর।

এবার দুর্গাপূজায় প্রতিমা বিসর্জন হবে শুক্রবার। সেদিন মুসলিম সম্প্রদায়ের জুমার নামাজ রয়েছে।

এবার পূজার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ সতর্কতা নিয়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে চট্টগ্রামে বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি মোতায়েনের বিষয়ে শ্যামল পালিত বলেন, “আমরা কোনো দাবি জানাইনি। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করায় নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজিবি মোতায়েন করেছে।”

চট্টগ্রামের রাউজান, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা স্পর্শকাতর বলে প্রশাসনকে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

“হাটহাজারী হেফাজত অধ্যুষিত এলাকা। লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালীতে যুদ্ধাপরাধী দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় ঘোষণার পর তাণ্ডব চালানো হয়। আরেক যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায়কে ঘিরে রাউজান ও ফটিকছড়িতে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেই আমরা শঙ্কা প্রকাশ করেছি,” বলেন শ্যামল পালিত।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার দেব। উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সাবেক সভাপতি রণজিত কুমার চৌধুরী ও দিলীপ কুমার চৌধুরী এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিতাই প্রসাদ ঘোষ ও চন্দন বিশ্বাস।

বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে পূজা উপলক্ষে পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা।

সংবাদ সম্মেলনে উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক চন্দন দে বলেন, “বিশেষ একটি রায়কে ঘিরে ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা আছে বলে প্রশাসনকে জানিয়েছি। প্রশাসন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।”

বিজিবি মোতায়েনকে পর্যাপ্ত মনে করলেও পরিকল্পিত কোনো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা ঠেকাতে আরও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

আগামী ১৯ অক্টোবর শুরু হবে বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।

এ বছর চট্টগ্রাম জেলা ও নগরীতে ব্যক্তিগত ও সার্বজনীন মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৪৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এর মধ্যে নগরীতে ৩২৫টি ও ১৪টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৬১৮টি সার্বজনীন মণ্ডপের পাশাপাশি ২২২টি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পূজামণ্ডপ রয়েছে।

মতামত