টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

যুগে যুগে ইয়াজিদিদের পতন ঘটবে সত্যান্বেষীরা মাথা উঁচু করে বাঁচবে

জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের ৪র্থ দিনে (রোববার) বক্তারা

f1চট্টগ্রাম, ১৮  অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে ৩০তম ১০ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের ৪র্থ দিনে হাজারো দ্বীনদার জনতার অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠেছে। শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে আজ রোববারের মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন আল আমিন বারীয়া দরবার শরিফের পীরে তরিকত মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা বারী (ম.জিআ.)। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, আহলে বায়তে রাসূলকে (দ.) অবমাননা ও অমর্যাদা করে ইয়াজিদ ইতিহাসে ঘৃণার পাত্র হয়েছে। সে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। আজ কেউ ইয়াজিদের নাম পর্যন্ত মুখে নিতে ঘৃণা করে। অথচ হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) সেদিনের আত্মত্যাগ, দ্বীন ও সত্য প্রতিষ্ঠায় আপসহীন ভূমিকার কথা যুগে যুগে মানুষ তাঁদের স্মরণ করবে। উপাচার্য আরো বলেন, যুগে যুগে দুরাচার মিথ্যার ধ্বজাধারী ইয়াজিদিদের পতন ঘটবে। আর আহলে বায়েতপ্রেমী সত্যান্বেষী মুসলমানরা মিথ্যা ও পথভ্রষ্টতার বিপরীতে ইসলামের শান্তির পতাকা নিয়ে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকবে।

শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, জমিয়াতুল ফালাহর খতিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দীন আল কাদেরী (ম.জি.আ) স্বাগত বক্তব্যে বলেন, কারবালা ময়দানে নবী পরিবারের পূত পবিত্র সদস্যদের মহান আত্মত্যাগ বৃথা যায় নি। বরং কারবালার ঘটনার পর থেকে মুমূর্ষু সংকটাপন্ন ইসলামের স্বকীয়তা সমুজ্জ্বল হয়েছে। হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) আমাদের ঈমানি চেতনার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ১০দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন এবং প্রতিদিন মাহফিলে শরিক হয়ে ঈমান আক্বিদাকে মজবুত করছেন-সকলের প্রতি তিনি মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আলহাজ্ব সূূফি মিজানুর রহমান বলেন, সূফি সাধকরাই আমাদের আধ্যাত্মিক পথের দিশারী। দেশে দেশে সূফি সাধকরাই ইসলাম প্রচার করেছেন। রাজা-বাদশাহদের মাধ্যমে আমরা ইসলাম পাইনি। জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে আয়োজিত ৩০ বছর ধরে শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের মাধ্যমে মুসলিম জাতি সঠিক ঈমান আক্বিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রেরণা খুঁজে পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা সৈয়দ বদরুদ্দোজা বারী বলেন, জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে মহরম মাসে ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিল ইসলামী সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এ জন্য জমিয়াতুল ফালাহ এবং এর খতিব উস্তাজুল উলামা অধ্যক্ষ আল্øামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আল কাদেরী ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন। মাহফিলে অতিথি ছিলেন, চবি রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. আ ন ম মুনির আহমদ চৌধুরী, বোয়ালখালী হাওলা দরবার শরীফের শাহজাদা মাওলানা মুহাম্মদ নঈমুল কুদ্দুস আকবরী, পটিয়া শাহচাঁন্দ আউলিয়া দরবার শরীফের শাহজাদা মাওলানা সৈয়দ নুরুল কবির আল কাদেরী, বাংলাদেশ শীপব্রেকার্স এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী, রতনপুর স্টীলের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাকসুদুর রহমান ও শিল্পপতি আরঙ্গজেব বাহাদুর। ইয়াজিদ সম্পর্কে শরীয়তের ফায়সালা বিষয়ে আলোচনা করেন আল্লামা মুহাম্মদ আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন। সংকটাপন্ন মুসলিম বিশ্বে আহলে বায়তের আদর্শের অপরিহার্যতা বিষয়ে আলোচনা করেন চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এ এস এম বোরহান উদ্দিন। কোরান মজিদ থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ক্বারী শাইখ আহমাদ বিন ইউসুফ আল আজহারী (মিশর)। হামদ ও নাতে রাসূল (স.) পরিবেশন করেন পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক নাত খাঁ হাসান বিন খুরশিদ। মাহফিল সঞ্চালনায় ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাওলানা মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ। মাহফিলে শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের কর্মকর্তা, সদস্য, বিশিষ্ট উলামায়ে কেরাম ও পদস্থ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। www.sunnatemadina41.com -এ ওয়েব সাইটে প্রতিদিনের মাহফিল সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে। মাহফিলে ১২তম শাহাদাতে কারবালা স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

আলোচক আল্লামা আবু তালেব মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করাই শাহাদাতে কারবালার শিক্ষা। যাঁরা আহলে বায়তে রাসূলকে (দ.) ভালোবাসবে তারা দুনিয়া-আখিরাতে কল্যাণ ও নাজাত পাবেন।

ড. এ এস এম বোরহান উদ্দিন বলেন, হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক। মুসলমানরা আজ আহলে বায়তে রাসূলের (দ.) প্রদর্শিত ইসলামের শান্তিবাদী অহিংস নীতি থেকে অপসৃত হওয়ায় দুনিয়া জুড়ে তারা মার খাচ্ছে। এই দুরাবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আহলে বায়তে রাসূলকে (দ.) সুদৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। সালাত-সালাম পরিবেশন শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম মিল্লাতের সমৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত পরিচালনা করেন অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালালুদ্দিন আলকাদেরী (ম.জি.আ.)।

আগামীকাল ৬ মহররম মঙ্গলবার থেকে ১০ মহর্রম শনিবার পর্যন্ত ৫ দিন বড় প্রজেক্টরে মহিলাদের তকরির শোনার মসজিদ কমপ্লেক্সের নিচ তলায় আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। ১০দিনব্যাপী এ মাহফিল চলবে ২৪ অক্টোবর শনিবার পর্যন্ত । প্রতিদিনের মাহফিলে সবাইকে অংশগ্রহণের জন্য জমিয়াতুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদের খতিব, শাহাদাতে কারবালা মাহফিল পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরস এর সদস্য অধ্যক্ষ আল্লামা মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন আলকাদেরী (মজিআ) অনুরোধ জানিয়েছেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি

মতামত