টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের ভাতিজার হাতে ফুফু খুন: কবর থেকে তোলা হবে ফুফুর লাশ

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

raozan-pic-madarচট্টগ্রাম, ১৮  অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  রাউজানে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তপাড়ায় শাহদুল্লাহ কাজী বাড়িতে আপন ভাতিজার হাতে ফুফু খুনের ঘটনায় শনিবার রাতে হত্যা মামলা হয়েছে। নিহত নুর আয়েশার একমাত্র ছেলে মো. মুবিন বাদী হয়ে ঘাতক তার মামাতো ভাই শেখ কামাল ও অপর অজ্ঞাত সহযোগীকে আসামীকে এই মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহতের লাশ কবর থেকে তোলা হবে ময়না তদন্তের জন্যে। অপরদিকে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর থেকে এলাকা ছাড়া হয়েছে ঘাতক শেখ কামাল ও তার অজ্ঞাত সহযোগি। অন্যদিকে শুক্রবার উক্ত ঘটনা জানাজানির পর ওই রাতেই নিহতের পুত্রবধূ কুসুম আকতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় আটক রাখা হয়। তবে বার বার চেষ্ঠা করা হলেও শ্বাশুরি হত্যার প্রত্যক্ষদর্শি নিহতের পুত্রবধূ কুসুম এই হত্যাকান্ডের মূল কারন সম্পর্কে প্রকৃত কোন তথ্য পুলিশকে এখনো বলছেনা। হত্যার বর্ণনা সম্পর্কেও সে নানা সময় নানা রকম কথা বার্তা বলছে।

শুক্রবার এলাকার শত শত লোকের সামনে এবং পরক্ষণে সাংবাদিকদেরকে সে শ্বাশুরি হত্যার একই রকম বর্ণনা দিলেও শনিবার পুলিশকে গড়মিল বর্ণনা দিচ্ছে। শুক্রবার সে বলেছিল এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের বলেছিল ২১ সেপ্টেমর তার শ্বাশুরিকে শেখ কামাল গলা টিপে মেরেছিল। তখন তার মুখ চেপে ধরেছিল আরেক অজ্ঞাত ব্যক্তি। কিন্ত শনিবার রাত ১০টার দিকে রাউজান থানা ওসি প্রদীপ কুমার দাশের রুমে সে সাংবাদিকদের সামনে বলেন শেখ কামাল তার শ্বাশুরিকে ধরে রাখে এবং অজ্ঞাত ব্যক্তিটি গলাটিপে ধরে শ্বাশুরিকে ধরে হত্যা করে। আরেক পর্যায়ে বলেন তারা শেখ কামাল ও তার সহযোগি দুজনেই শ্বাশুরিকে মারেন। অপর এক পর্যায়ে পুত্রবধূ কুসুম বলেন আমি ঘুমে ছিলাম, হঠাৎ শ্বাশুরির চিৎকার শুনে উঠে মোবাইল টচে দেখতে পাই শেখ কামাল ও তার সহযোগি তার শ্বাশুরিকে গলা টিপে হত্যা করছে। পুলিশের অপর এক প্রশ্নে সে বলেন শেখ কামাল আমাকে নাকে চেপে ধরে একজাতীয় পদার্থ দিয়ে অজ্ঞান করে, তবে আমি অজ্ঞান হলেও দেখেছি, তারা দুজনে শ্বাশুরিকে হত্যা করেছে।

ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সামনে শনিবার রাতে এই ভিন্ন ভিন্ন কথা এই ঘটনায় তার ব্যাপারেও সন্দেহ সৃষ্ঠি হচ্ছে। তবে শ্বাশুরি হত্যার কারন সম্পর্কে একটি ক্লু দিয়েছে কুসুম। সে পুলিশকে বলেছে আমার ছোট বোনের নাজমা আকতার কলির সাথে সম্পর্ক ছিল শেখ কামালের। তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিল শেখ কামাল। বিয়ে করতে বাধা দেয় আমার শ্বাশুরি। একবছর আগে কদলপুরে বিয়ে হয়ে যায় আমার বোনের। এরপর শেখ কামাল আত্মহত্যার চেষ্ঠা করেছিল। এজন্যে আমার শ্বাশুরির উপর ক্ষুব্দ হয় শেখ কামাল। এজন্যে হয়তো এই ঘটনা করতে পারে শেখ কামাল। এব্যাপারে রাউজান থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন ওই মহিলা অর্থ্যাৎ নিহতের পুত্রবধূ কুসুম একেক সময় একেক কথা বলছে। তবে মামলা নেয়া হয়েছে দুইজনের বিরুদ্ধে। একজন ঘাতক শেখ কামাল ও আরেকজন ওই অজ্ঞাত ব্যক্তি। তবে ঘটনার সংশ্লিষ্ঠতা পাওয়া গেলে পুত্রবধূ কুসুমও আসামী হতে পারে পরবর্তিতে।

এদিকে এলাকাবাসীর ধারনা নুর আয়েশার পুত্র কুসুমের সাথে শেখ কামালের কোন অপকর্ম দেখে ফেলায় নুর আয়েশাকে শেখ কামাল ও তার সহযোগি মেরে ফেলে। তবে পুত্রবধূ কুসুম তা অস্বীকার করে বলেন আমার সাথে নয়, আমার বোন নাজমা আকতার কলির সাথেই শেখ কামালের সম্পর্ক ছিল। এব্যাপারে নিহতের একমাত্র পুত্র মুবিন বলেন ‘শেখ কামালের সাথে আমার শালীর সম্পর্ক থাকার কথা আমার স্ত্রী আমাকে বলেছিল। তবে আমার মাকে কেন খুন করা হলো তা স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় আমি বিচার চাই, সেখানে যদি আমার স্ত্রীও যদি অপরাধী হয়ে থাকে, তাহলে তার বিচারও চাই। রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, এই ঘটনায় লাশ তোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর ময়না তদন্ত হবে।

মতামত