টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাউজানের ফুফুকে গলা টিপে হত্যা: ২৪ দিন পর ঘটনা ফাঁস

এস.এম. ইউসুফ উদ্দিন
রাউজান প্রতিনিধি 

raozan-pic-madarচট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): রাউজানে আপন ভাতিজা তার ফুফুকে গলাটিপে হত্যা করেছে। আর এই ঘটনা নিহতের পুত্রবধূ ও ঘাতকরা প্রায় ২৪ দিন গোপন রেখেছিল। শুধু তাই নয়, হত্যার পর সারারাত যাপন করে ভোর পর্যন্ত অবস্থান করছিল ওই ঘাতক ও তার সহযোগি। অবশেষে ঘটনার প্রায় ২৪ দিন পর গতকাল শুক্রবার ঘটনাটি জনসমক্ষে স্বীকার করে নিহতের পুত্রবধূ নিজেই। ঘটনা প্রকাশের পরপরই ঘাতক পালিয়েছে। উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের ঊনসত্তপাড়ায় এই লোহমর্ষ ঘটনা ঘটে। পরকীয়ার সম্পর্কের জের হিসেবে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী সন্দেহ করছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করলেও কি কারনে তার শ্বাশুরিকে হত্যা করা হয়েছে তার বলছেননা নিহতের পুত্রবধূ।

নিহত বৃদ্ধ নুর আয়েশা (৬৫) পাহাড়তলী শেখপাড়ার আবু মোহাম্মদেও স্ত্রী। তবে নুর আয়শা তার ছেলেকে নিয়ে ঊনসত্তরপাড়া গ্রামের শাহদুল্লাহ কাজী বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। তার ঘাতক শাহদুল্লাহ কাজী বাড়ির মো. হানিফের পুত্র শেখ কামাল (২৩)।

নিহত বৃদ্ধার একমাত্র ছেলে কুয়েত প্রবাসী মো. মুবিন বলেন ‘গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে আমার এক আত্মীয় আমাকে ফোন করে জানান যে, আমার মা অসুস্থতার কারনে মারা গেছেন। এরপর আমি মাকে মরদেহ পরিবহনে রাখার কথা বলে আমি ২৩ সেপ্টেম্বর দেশে এসে মাকে দাফন করি। এরপর এলাকার অনেকে আমাকে বলতে থাকে যে, আমার মা’র গলায় দাগ ছিল, এ জন্যে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারেনা। এরপর আমি আমার স্ত্রী কুসুম আকতারের সাথে গভীর সখ্যতা করে আমার মা’র মৃত্যুও কারন জানতে চাই। বৃহষ্পতিবার রাতে আমার স্ত্রী আমাকে জানান যে, আমার মামাতো ভাই (নিহতের ভাতিজা) শেখ কামাল গলাটিপে আমার মাকে হত্যা করেছে। ওই সময় তার সাথে ছিল তার আরেক সহযোগি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর আমি স্থানীয় শফি মুন্সিসহ এলাকার বহু গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানাই এবং আমার স্ত্রীর মুখে সবাইকে ঘটনাটি অবহিত করে। এরপর স্থানীয় চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, মেম্বার ইসমাঈলসহ সবাইকে জানানো হয়।

এব্যাপারে নিহতের ছেলের স্ত্রী কুসুম আকতার সাংবাদিকদেও সকলের সামনে বলেন ‘২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে আমি ও আমার শ্বাশুরি ঘর থেকে একটু বের হলে সে সুযোগে আমার মামাতো দেবর শেখ কামাল তার অজ্ঞাত এক সহযোগি নিয়ে আমাদেও অজান্তে ঘওে ঢুকে বসে থাকে। রাত প্রায় ১০টার সময় শেখ কামালের অজ্ঞাত সহযোগি আমার মুখ চেপে ধরে এবং শেখ কামাল আমার শ্বাশুরিকে গলা টিপে হত্যা করে। এরপর কাউকে ঘটনাটি জানালে দু’জনেই আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসময় আমি আমার রুমে বসে থাকি ও শেখ কামাল ও তার সহযোগি আমার শ্বাশুরির লাশের পাশে বসে থাকে। ভোরে কেউ না দেখে মতো দরজা খুলে চলে যায়। আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় আমি কাউকে বিষয়টি জানাইনি।’ কি কারনে তার শ্বাশুরিকে মেওে ফেলা হতে পাওে সে ব্যাপাওে প্রশ্ন করলে নিহতের পুত্রবধূ কুসুম সে সম্পর্কে চুপচাপ ছিলেন। তবে নিহতের বেশ কয়েকজন আত্মীয় ও প্রতিবেশী বলেন ‘ওই রাতে নিহত নুর আয়েশার কয়েকবার চিৎকার শোনা গিয়েছিল। এই চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মহরম নামের একজন তাদের ঘওে গিয়ে দরজা খোলার জন্যে বললেও ঘর থেকে কোন সাড়াশব্দ করা হয়নি।

এদিকে নিহতের ছেলে মুবিন, পাড়ার শফি মুন্সি, চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, বেলাল মেম্বার, ইসমাঈল মেম্বারসহ অনেকে বলেন নিহতের পুত্রবধূ কুসুম সাংবাদিক যেভাবে বলেছেন ঠিক একই কথা বলেছেন আমাদেরও। এদিকে ঘটনা জানাজানির পর শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে ঘাতক শেখ কামাল। তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

তার বাবা মো. হানিফ বলেন ‘আমার বোনের ঘরে কোন পুরুষ না থাকায় দেখাশোনার জন্যে আমার ছেলে শেখ কামালকে তাদের বাড়িতে রেখেছিল। গত একবছর থেকে আমার ছেলে সেখান থেকে বাড়িতে চলে আসে। তবে কারো সাথে কোন ঝগড়া বিবাদ ছিলনা। এখন অনেকে বলছে আমার ছেলে আমার বোনকে হত্যা করেছে। এটা আল্লাহ দেখেছে।

জানা যায়, বৃদ্ধা নুর আয়েশার ঘাতক তার বড় ভাই হানিফের পুত্র শেখ কামাল। তারা তিন ভাই তিন বোন। আর নিহত নুর আয়েশার একমাত্র ছেলে মুবিন ছাড়া আর কেউ ছিলনা। এদিকে এলাকার মুখে মুখে রটেছে যে, ছেলে মুবিনের স্ত্রী কুসুম আকতারের সাথে ঘাতক শেখ কামালের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্ক সম্পর্কিত কোন ঘটনার জের ধরে এই খুনের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন জানান, এই ঘটনায় নিহতের ছেলে মুবিন শুক্রবার রাতে মামলার জন্যে প্রস্ততি নিয়েছে।

মতামত