টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

রাজনীতি না করে প্রার্থী হওয়ার দিন শেষ

votচট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের মতে, এখন আর কেউ রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকতে পারবেন না। একই সঙ্গে ভোট কেবল নির্বাচন এলেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে পড়ার অভ্যাসও বন্ধ হবে। জনপ্রতিনিধি হতে হলে সারা বছর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। রাজনীতিবিদদের মতে, দলীয় ব্যানারে পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধান তৃণমূলের রাজনীতিকে চাঙ্গা করে তুলবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন মনোভাবের কথা জানা গেছে।

তৃণমূল নেতারা মনে করেন, দলীয় ব্যানারে স্থানীয় নির্বাচন একটি সময়পযোগী উদ্যোগ। কিন্তু এক্ষেত্রে যাকে-তাকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে দলকে। প্রকৃত রাজনীতিবিদদের যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে মনোনয়ন দিতে হবে। তবেই দলীয় রাজনীতি চাঙ্গা হবে। দলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির সুযোগ আরও প্রসারিত হবে।

বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ। তিনি বলেন, রাজনীতি না করে জনপ্রতিনিধি হয়ে যাওয়ার যে প্রবণতা তৈরি হয়ে এসেছে, তা বন্ধ হবে দলীয় ব্যানারে নির্বাচনের মাধ্যমে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আশায় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা দলের জন্যে সর্বোচ্চ শ্রম দেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে রাজনীতি চাঙ্গা হবে। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে যত বেশি রাজনীতিক নির্বাচিত হবেন, তত সেবার মানও বাড়বে।

প্রায় একই মত প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ। তিনি  বলেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হলে সব রাজনৈতিক দলেরই তৃণমূল রাজনীতি চাঙ্গা হবে। তিনি বলেন, তৃণমূলের রাজনীতিতে ত্যাগের সঙ্গে রাজনীতি করেন, এমন অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন। একটা সময়ে স্বপ্ন দেখে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হওয়ার। কিন্তু এ সব নির্বাচন দলীয় ব্যানারে না হওয়ায় অর্থবিত্তশালীরা প্রার্থী হয়ে যান। কারণে, টাকাওয়ালাদের সঙ্গে পেরে না ওঠায় ত্যাগী রাজনীতিকরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে যান। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হলে রাজনীতিকরা আরও বেশি রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন, চাঙ্গা হবে দলীয় রাজনীতি। এছাড়া, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বলেও তিনি মনে করেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কারও ভেতরে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা তেমন থাকে বলে মনে করেন গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমতউল্যাহ খান। তিনি  বলেন, নির্দলীয় এই নির্বাচনে প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি নিজেকে নির্দলীয় প্রমাণ করতে ব্যস্ত থাকতেন। দলীয়ভাবে মনোনয়ন নিয়ে জনপ্রতিনিধি হলে দলের প্রতি দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা থাকতে বাধ্য। এতে করে দলের ও সরকারের জনপ্রিয়তা দ্রুত সঙ্গে বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে মেধা-যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা যাচাই করে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার কারণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলীয় জনপ্রিয়তা নিয়ে ভাবতেন না। তাই সবসময় তৃণমূলে একটি শূন্যতা থাকত। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে এ পদক্ষেপ আরও অর্থবহ করে তুলবে।

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে নিশ্চয়ই তাকে সব সময় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের রাজনীতিকেরা। তাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার ফলে সারা বছর ঘরে বসে থেকে ভোট এলে নির্বাচন করার যে রেওয়াজ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এবার দলীয়ব্যানারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেটা আর সম্ভব হবে না। এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মজনু বলেন, দলীয় ব্যানারে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে স্থানীয় লোকজন রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট হবে। তবে, এক্ষেত্রে মেধাবী ও যোগ্যদের জায়গা দেওয়ার পক্ষে তিনি মত ব্যক্ত করেন। তার মতে, তদবির ও টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলীয় রাজনীতি ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে।

নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শিমুল বলেন, দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াটি তৃণমূলে রাজনীতি করার আগ্রহ বাড়বে। তাই দলীয় ব্যানারে এ নির্বাচন সব রাজনৈতিক দলের তৃণমূলের রাজনীতি চাঙ্গা করে দেবে।

কুষ্টিয়া জেলার সভাপতি সদর উদ্দিন খান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ার ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় স্থানীয় প্রভাবশালীরাই প্রভাব বিস্তার করে রাখত। নির্বাচন এলেই দাঁড়িয়ে পড়ে ওই মহলটি। দলীয় আধিপত্য না থাকায় ভালো-মন্দ যে কেউ প্রার্থী হয়ে যাওয়ার সুযোগ থেকে যায়। এর ফলে সেই সুযোগ থাকবে না। এটি ইতিবাচক হবে দলীয় রাজনীতির জন্যে।

সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, স্থানীয় নির্বাচনগুলো নির্দলীয় হওয়ার ফলে রাজনীতিক কাউকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তেমন খুঁজে পাওয়া যেত না। ব্যক্তি জনপ্রিয়তা দিয়ে তারা নির্বাচনি বৈতরণী পাড়ি দিতেন। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন করবে এমন আাশায় সবার ভেতরে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকবে। এর ফলে স্থানীয় রাজনীতি চাঙ্গা হবে।

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরুদ্দিন আহমেদ কামরান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় হওয়ার ফলে যারা নির্বাচিত হন, তাদের মধ্যে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ কম থাকে। যদি নির্দলীয়ভাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, তাহলে স্থানীয় জনসাধারণ দলীয় রাজনীতির জন্য সরাসরি কিছু করলে ভিন্নমতের লোকজন এ নিয়ে সমালোচনা করে। দলীয়ভাবে কেউ জিতে আসলে, সেই সমালোচনা করার কোনও সুযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, এর ফলে দলের জন্য খোলামেলাভাবে সক্রিয় থেকে কাজ করা সম্ভব হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নির্দলীয় হলে তৃণমূলে সরকারের ও দলের জনপ্রিয়তা বিস্তারে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার কেউ থাকে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি রাজনৈতিক দলের হয়ে বিজয়ী হয়ে আসলে সরকারের সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়। দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে বাধ্য থাকে। এর মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তৃণমূলে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।- বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত