টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ছিটমহলবাসী পেল বিদ্যুৎ সুবিধা

চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ কুড়িগ্রামের ছিটমহল দাসিয়ারছড়ার বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধন করলেন।আজ সকালে তিনি সংযোগের উদ্বোধন করেন।এর মধ্যদিয়ে ৬৮ বছর অন্ধকারে থাকা সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষগুলো বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলেন।এদিন সকাল ১১টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের মধ্যে বিদ্যুতের আলো ছড়িয়ে দেন।

এই উদ্যোগের ফলে কুড়িগ্রাম, নীলফামারি ও পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি ‍উপজেলার ২৫৬১ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রী এসময় পাঁচটি পরিবারের মাঝে সোলার হোপ সিস্টেম বিতরণ করেন।

বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর ইডকলের প্রোগ্রামের অধীনে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ করা হয়।

পরে স্থানীয় একটি সমাবেশে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, এখানকার প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছি।এ লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।যোগাযোগসহ অবকাঠামো নির্মাণ, স্কুল কলেজ রাস্তাঘাট পাকা করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।বাংলাদেশের মানুষ হিসাবে অন্যরা যে সব সুবিধা পেয়ে থাকে আপনারা তা পাবেন।এখানকার প্রত্যেক পরিবারের জন্য খাদ্য সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা হাতে নেয়া হয়েছে।

এরআগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার পর ফুলবাড়ী উপজেলায় নির্মিত হেলিপ্যাডে অবতরণ করে। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার পর দাসিয়ারছড়ার কালিরহাট বাজার সংলগ্ন প্রস্তাবিত গার্লস হাইস্কুল মাঠে পৌঁছান তিনি।এর আগে সকালে তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দাসিয়ারছড়ার কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফুলবাড়ী হেলিপ্যাডে ফিরে আসবেন। সেখান থেকে তিনি হেলিকপ্টারে কুড়িগ্রাম জেলা সদরে আসবেন। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগদান করবেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আনন্দে উদ্বেলিত ৬৮ বছর পর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বিলুপ্ত ছিটমহলের মানুষগুলো।

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে দাসিয়ারছড়াকে। গোটা এলাকার লোকজনের মধ্যে আনন্দের বন্যা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠের জনসভাকে ঘিরেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তোরণে তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো শহর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সফল করতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় পা রাখবেন। পরে কুড়িগ্রামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে দুপুর আড়াইটায় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুতের আলো জ্বালিয়ে এ এলাকার বিদ্যুৎ যাত্রার উদ্বোধন করবেন। এছাড়া ইন্দিরা-মুজিব দাসিয়ারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের ঘোষণা করবেন।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. জাফর আলী বলেন, ‘আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের মানুষকে ভালোবাসেন। তার আগমনে কুড়িগ্রামের মানুষ খুশিতে উদ্বেলিত হয়ে পড়েছে। আমরা তার কাছে কুড়িগ্রাম জেলার সার্বিক উন্নয়নের দাবি করব।’

কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তবারক উল্ল্যাহ্ বলেন, ‘সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলসহ সরকারি কলেজ মাঠে জনসভার জন্য নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।’

১৯৭৪ সালে ইন্দিরা-মুজিব স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দারা আন্দোলন করেছে দীর্ঘ ৬৮ বছর। অবশেষে শেখ হাসিনা সরকারের কুটনৈতিক সাফল্যে গত ১ আগস্ট ভারত-বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২ ছিটমহল মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত হয়।

ছিট বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশ পেয়েছে ১১১টি ছিটের ১৭ হাজার ২৫৮ একর এবং ভারত পেয়েছে ৫১টি ছিটের সাত হাজার ১০২ একর জমি।

মতামত