টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পদ হারালেন মিরসরাইয়ে করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-delour-Chairmanচট্টগ্রাম, ১৪ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): দুর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় মিরসরাই উপজেলার ১নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ হারালেন দেলোয়ার হোসেন। সীমানা জটিলতায় নির্বাচন আটকে থাকায় তিনি দীর্ঘ ১২ বছর যাবৎ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। চেয়ারম্যান দেলোয়ারের দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ১২জন ইউপি সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব দেন। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যানের পদটি শূণ্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

ইউপি চেয়ারম্যানের পদশূণ্য হওয়ার পর আইনী জটিলতায় এখনো কাউকে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব না দেওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন করেরহাট ইউনিয়নবাসী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়া আহমদ সুমন জানান, দেলোয়ার হোসেন গত বছর একটি প্যানেল গঠন করেছিলেন। কিন্তু প্যানেলটি গোপনে করেছিলেন বলে ইউপি সদস্যরা সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জসীম উদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারের (১৫ অক্টোবর) মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তীতে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেম্বারদের থেকে সবার মতের ভিত্তিতে একজনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন জানান, গত ১২ জুলাই করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের দুর্নীতির অভিযোগ এনে সুর্নিদিষ্ট ৫টি কারণ দেখিয়ে অনাস্থা প্রস্তাব দেন ১২ জন ইউপি সদস্য। অভিযোগগুলো হলো ১. ভাতা বিতরণে অনিয়ম ও মহিলা মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল, ২. টিআর বিতরণে অনিয়ম, ৩. ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে এলজিএসপি-টু প্রকল্পের টাকা আত্মাসাৎ, ৪. ভূমি হস্তানন্তর ফি ১% দুর্নীতি, ৫. চল্লিশ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ। অভিযোগকারীরা হলেন- ইউপি সদস্য লায়লা বানু, স্বপ্না আক্তার, তাহেরা বেগম, নুরুল হুদা, মোঃ এমরান, মোঃ সোহাব, নুর আলম, কামাল উদ্দিন, মহি উদ্দিন, মোঃ সিরাজ, আবুল কাশেম ও মোজাম্মেল হক মিরু। তদন্ত শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২৬৩ পৃষ্ঠার যাবতীয় কাগজ দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২১ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শরীফা আহমেদ করেরহাট ইউপি চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য করে গেজেট প্রকাশের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারক দেন।

৮ অক্টোবর ৬ষ্ঠ খন্ডে প্রকাশিত গেজেটটি হুবহু : ‘তারিখ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫, নং ০০.৫০৪.০০২.০৪.১১.০০৫.২০১৫-৮১৭। চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলাধীন ০১ নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব দেলোয়ার হোসেন এর বিরুদ্ধে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১১ (এগার) জন সদস্যের আনীত অনাস্থা প্রস্তাব স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯(১৩) ধারা অনুযায়ী ‘স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এর ২১-৯-২০১৫ খ্রিঃ তারিখের ৪৬.০০.১৫৫৩.০১৭.২৭.০০১.১৫-১০১৬ নং স্মারকমূলে জারীকৃত অফিস আদেশে অনুমোদিত হওয়ার প্রেক্ষিতে উক্ত অফিস আদেশের নির্দেশনা মতে এবং উক্ত আইনের ৩৫ (২) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আমি জিয়া আহমেদ সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মীরসরাই, চট্টগ্রাম, মীরসরাই উপজেলার ০১ নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি ২২-৯-২০১৫ খ্রিঃ তারিখ হতে শূন্য ঘোষণা করছি।- জিয়া আহমেদ সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার।’

করেরহাট ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোয়াইব বলেন, আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলেও সৈরাচারী চেয়ারম্যান দেলোয়ারের কারণে আমরা জনগণের সেবা করতে পারে নি। তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকল সদস্যের অনাস্থা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গৃহীত হওয়ায় আমরা আনন্দিত। আমরা চাই তাকে পদ হারার পাশাপাশি সরকার তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।

করেরহাট ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কাশেম বলেন, দেলোয়ার হোসেন চেয়ারম্যান থাকাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে পরিশদকে অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছিলো। তার অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা অনাস্থা দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় চেয়াম্যান পদ শূণ্য হওয়ায় ইউনিয়নবাসী একজন দুর্নীতি বাজ চেয়ারম্যানের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে।

সদ্য চেয়ারম্যানের পদ হারানো দেলোয়ার হোসেন অনিয়ম দুর্নীতির কথা অস্বীকার করে বলেন, সরকার দলীয় নেতাদের চাপে পরিষদের সদস্যরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রাণালয়ে অনাস্থা দিয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত