টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

আরাকান আর্মির শীর্ষ নেতা রেনিন ৫ দিনের রিমান্ডে

arkanচট্টগ্রাম, ১৪  অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  রাঙামাটির রাজস্থলী থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির শীর্ষ নেতা ডা. রেনিন সুকে পাঁচ দিনের রিমান্ড মমঞ্জুর করেছে আদালত।

বুধবার বিকেলে রাঙামাটির অতিরিক্ত বিচারিক হাকিম সাবরিনা আলী এই রিমান্ড আদেশ দেন।

ডা. রেনিন সুর বিরুদ্ধে রাঙামাটির রাজস্থলী থানায় মুদ্রা আইনে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোমিনুল ইসলাম বলেন, বিকেলে রেনিন সুকে আদালতে হাজির করে রাজস্থলী থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের করা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রাজস্থলী থানার ওসি ওহিদ উল্লাহ সরকার জানান, বুধবার মুদ্রা আইনে রেনিন সুর বিরুদ্ধে রাজস্থলী থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ।

এর আগে যৌথবাহিনী মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে রাজস্থলী উপজেলার ইসলামপুর এলাকা থেকে রেনিন সুকে গ্রেপ্তার করে। সে সময় ৪১,১২০ টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের ছয়টি ক্রেডিট কার্ড, নেদারল্যান্ডসের একটি পাসপোর্ট, একটি ল্যাপটপ ও একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়।

আরাকান আর্মি সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট বান্দরবানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সাঈদ তারিকুল হাসান জানান, গোপন সংবাদে যৌথবাহিনী রাজস্থলীর ইসলামপুরের একটি বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় সেখানে পালিয়ে থাকা আরাকান আর্মির শীর্ষ নেতা ডা. রেনিন সুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও সন্ত্রাস আইনে রাজস্থলী থানা পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রেনিন সু।

তিনি অন্তত ১০ বছর ধরে বাংলাদেশের রাজস্থলীতে নিজস্ব সুরম্য বাড়ি নির্মাণ করে স্থানীয় এক মার্মা তরুণীকে বিয়ে করে বসবাস করছিলেন এবং সেখান থেকেই আরাকান আর্মির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

চলতি বছরের আগস্টে বান্দরবানের থানচিতে বিজিবির একটি টহল দলের ওপর আরাকান আর্মির হামলার দুদিন পর রাজস্থলীতে আরাকান আর্মির এই নেতার বাড়ির খোঁজ পাওয়া যায়।

এরপর ওই বাড়ি থেকে ২৬ আগস্ট মং ইয়াং রাখাইন নামে তার এক সহকারীকে আটক করে যৌথ বাহিনী।

পরে ২৭ আগস্ট বাড়িটির দুই কেয়ারটেকারকেও আটক করা হয়। এদের মধ্যে আরাকান আর্মির সদস্য মং ইয়ং রাখাইন ও তার বাড়ির এক কেয়ারটেকার ইতোমধ্যেই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা তিনজনই বর্তমানে কারাগারে।

মিয়ানমারের আরাকান জনগোষ্ঠীর স্বায়ত্বশাসনের জন্য ২০০৯ সাল থেকে সশস্ত্র লড়াই চালাচ্ছে আরাকান আর্মি। সংগঠনটির প্রায় ৩০০০’র মত প্রশিক্ষিত যোদ্ধা রয়েছে।

মতামত