টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইইয়ে ১৩২০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চীনা কোম্পানীর সাথে চুক্তি

এম মাঈন উদ্দিন,
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Economic-Zoneচট্টগ্রাম, ১৪  অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল মিরসরাই উপজেলার ইছাখালীর চরে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ( Bangladesh Economic Zone Authority) কনপারেন্স রুমে বেজা ও চীনের জিজিয়াং জিনডোন হোল্ডিং গ্রুপ (zhejiang jindun holding group co.ltd) চুক্তি হয়। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী সদস্য আবদুস সামাদ ও চীনা কেম্পানীর চেয়ারম্যান জিনচেন জু ( ঔরধহপধহ তযড়ঁ) । চুক্তিতে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে জিনডোন হোল্ডিং গ্রুুপ (২.৫ বিলিয়ন ডলার) ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ কথা রয়েছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল চীনা এই কোম্পানীকে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিবে মর্মে প্রাথমিক সমঝোতা স্বারক (Jiancan Zhou) স্বাক্ষরের পর এখন জিনডোন গ্রুপ প্রকল্প এলাকা সার্ভে শেষে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (Bangladesh Power Development Board) (BPDB)) এর অনুমতি পেলে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করবে জিনডোন গ্রুপ।

এদিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মিরসরাইয়ের অর্থনৈতিক জোন এর কাজ। যা রূপান্তরিত হলে হলে পাল্টে যাবে মিরসরাই থেকে শুরু করে চট্টগ্রামের অর্থনীতির চিত্র।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক জোন দপ্তরের কনসালটেন্ট আব্দুল কাদের খান জানান, মিরসরাইয়ের ইছাখালীতে প্রায় ১৫ হাজার একর এলাকাজুড়ে ৩টি পরিপূর্ণ শিল্প শহর গড়ে তুলবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) কর্তৃপক্ষ। তনি আরো জানান,মিরসরাইয়ের ইছাখালীর চরে ৫লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এর প্রথম ধাপেই লক্ষাধিক লোকের কর্মচাঞ্চল্য শুরু হবে। দ্রুত গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া ২০ কিলোমিটার প্রসস্ত সড়ক নির্মাণের কাজও শীঘ্রই শুরু হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সমুদ্র উপকূল ও চরাঞ্চলে এই শিল্প জোন গড়ে উঠায় বন্যা, জলোচ্ছ্বাস থেকে সুরক্ষায় কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ২০ কিলোমিটার চার লেন বিশিষ্ট সড়ক, বেড়িবাঁধ, প্রতিরক্ষা বাঁধ, নতুন খাল খনন, পুরনো খাল পুনঃখনন ও ৯টি স্লুইচ গেট স্থাপন করা হবে। পানি উন্নয়ন বোডের (পউবি-২) নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন কুমার বড়ুয়া বলেন, এক হাজার ৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাসের পর একনেক কমিটির সভায় অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বেজার কাছে ৩০০ একর জমি চেয়েছে জিনডোন গ্রুপ। উৎপাদিত ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে শিল্প এলাকায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে। বাকি ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা)। শিল্প-কারখানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ জিনডোনে গ্রুপের কাছ থেকে কিনবে।

বেজার প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ জানান, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৫ হাজার একর খাস জমির মধ্যে ইতিমধ্যে ৬ হাজার ৫০০ একর বেজার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি নয় হাজার একর জমি আগামী দুই বছরের মধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হস্তান্তর করা ৬ হাজার ৫০০ একর জমির মধ্যে বর্তমানে দু’হাজার ৩০০ একর জমিতে তিনটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রকল্প এলাকায় পানি উন্নয়ন বোডের (পাউবো) মাধ্যমে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমি উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সূত্র আরও জানায়, তিনটির মধ্যে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে। এ দুটি অঞ্চলকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে বড়তাকিয়া থেকে বামন সুন্দর খাল পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২৪৫ কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে প্রকল্প এলাকার পীরের চর থেকে বামুন সুন্দর পর্যন্ত সড়কটি টেন্ডার আহবান করা হয়েছে ১৫কোটি টাকা। প্রকল্পের ভিতরে দুটি স্লইসগেইট,মাটি ভরাট ও বাউন্ডারি বাঁধ নির্মানের জন্য ৫০ কোটি টাকা টেন্ডার আহবান ঘোষনা করা হয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত