টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কক্সবাজারে দূর্গা পূজায় নাশকতায় আশঙ্কা

Cox Puja Pic_1ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:

নাশকতার আশঙ্কা নিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর কক্সবাজারে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব ‘দূর্র্গা পূজা’। ৫ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে যাবতীয় প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তবে অন্যান্যবার পূজা পালনে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা পেলেও এবার পুলিশ সুপারের ভূমিকাকে ‘রহস্যজনক’ বলে অভিযোগ তুলেছেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা।

পূজার্থীদের নিরাত্তায় পুলিশ নয়, বিজিবি মোতায়েন দাবী তাদের। অন্যথায় জেলার ২৭৬ মন্ডপে বিক্ষোভের আভাস দিয়েছেন হিন্দু ধর্মীয় শীর্ষ নেতারা।

১৪ অক্টোবর বুধবার সকালে সংবাদকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে এমন আশঙ্কার কথা জানান জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট রনজিদ দাশ।

কক্সবাজার শহরের লালদীঘিপাড়স্থ ব্রাহ্মমন্দিরে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি অভিযোগ করেন, আগামী ১৯ অক্টোবর দূর্গা পূজা শুরু। কিন্তু পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন। একবারের জন্য তিনি আমাদের সাথে বৈঠক করেন নি। আমরা তার সাথে দেখা করতে গেলে ন্যুনতম সৌজন্যতাও দেখায়নি।

তিনি বলেন, পুলিশ সুপার যুদ্ধাপরাধী পরিবারের লোকজনের সাথে আঁতাত করে চলেন। জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি বানিয়েছেন যুদ্ধাপরাধীর ছেলেকে। তার আশপাশে থাকেন প্রশ্নবিদ্ধ লোকজন।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, পুলিশসুপার কক্সবাজারে আসার পর থেকে জেলায় খুন, ছিনতাইসহ অপরাধ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন অপরাধ ঘটে চলেছে। পুলিশের দূর্বলতার কারণে পূজায় নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ১৯ অক্টোবরের মধ্যে ‘অযোগ্য’ পুলিশ সুপারকে কক্সবাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।

সভায় জানানো হয়, এবারের পূজায় রঙ ছিটানো হবেনা। রাত ১২ টার পরে কোন ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে দেয়া হবেনা। নামাজের সময় মাইকসহ সমস্ত বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকবে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মার পরিচালনায় এতে বক্তব্য রাখেন জেলা জন্মাষ্টমি পরিষদের সাবেক সভাপতি দুলাল কান্তি চক্রবর্তি, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি রতন দাশ, জেলা জন্মাষ্টমি পরিষদের সভাপতি পৌর কাউন্সিল রাজ বিহারী দাশ, কক্সবাজার সদর উপজেলা সভাপতি দীপক দাশ, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বাপ্পি শর্মা, শহর সভাপতি চন্দন কান্তি দাশ, সাধারণ সম্পাদক স্বপন গুহ প্রমুখ।

১২ অক্টোবর পবিত্র মহালয়ায় চন্ডীপাঠের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে মর্তে বরণ করে নিয়েছেন ভক্ত-পূজারীরা। আগামী ১৯ অক্টোবর সোমবার ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা।

এবার জেলায় মোট ২৭৬টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এরমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা-সদর উপজেলায় ৪০টি প্রতিমা ও ৩২টি ঘট, রামু উপজেলায় ১৮টি প্রতিমা ও ৯টি ঘট, চকরিয়া পৌরসভা-উপজেলায় ৪১টি প্রতিমা ও ৩৫টি ঘট, পেকুয়া উপজেলায় ১১টি প্রতিমা ও ৬টি ঘট, কুতুবদিয়া উপজেলায় ১২টি প্রতিমা ও ২৭টি ঘট, মহেশখালী উপজেলায় ১টি প্রতিমা ও ৩১টি ঘট, উখিয়া উপজেলায় ৫টি প্রতিমা ও ৮টি ঘট এবং টেকনাফ উপজেলায় ৫টি প্রতিমা পূজার মন্ডপ স্থাপিত হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এ বছর ১৬টি পূজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেল ৩টায় কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতে ‘প্রতিমা বিসর্জন’ করা হবে। এর আগে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে উম্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত