টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

নাফনদী থেকে অপহৃত ৬ জেলে ফেরত দেয়নি মিয়ানমার

ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
টেকনাফে নাফনদী থেকে মাছ ধরার সময় অপহৃত তিনটি নৌকাসহ ৬ জেলেকে ২৪ ঘন্টায়ও ফেরত দেয়নি মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। অপহৃতদের স্বজনদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। যে কোন মূলে অপহৃতদের ফেরত চান তারা।
অপহৃত জেলেরা হচ্ছে- টেকনাফ পৌরসভার দক্ষিণ জালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত এমদাদ হোসেনের ছেলে আলমগীর (৫৫), মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. আকবর (৩৫), আবুল মাহাজের ছেলে মো. হোসেন (৩৩), মো. ইউনুছের ছেলে আবদুল আমিন (২৮), মৃত কাদের হোসেনের ছেলে আবদুল্লাহ (১৪), হামিদ উদ্দিনের ছেলে শাহিদ উদ্দিন (৬৮)।
১১ অক্টোবর রবিবার সকালে টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া ১নং স্লুইচ গেট সংলগ্ন নাফনদীতে মাছ ধরাকালে এসব জেলে অপহরণের শিকার হন।
এ দিকে ঘটনার পরপরই মুক্তিপন দিয়ে ফিরে এসেছে দুই জেলে।
তারা হলো- একই এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে মো. আকবর (৩৫), আবুল মাহাজের ছেলে মো. হোসেন (৩৩)।
তবে কত টাকা দিয়ে তারা ফিরে এসেছে তা জানা যায়নি।
নৌকার মালিক মো. জাফর আলম জানান, ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় ১৫দিন ধরে সাগরে নামেনি জেলেরা। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষে রবিবার নাফনদীতে মাছ শিকার করতে যায় তারা।
বাংলাদেশ জলসীমানা শূন্য রেখার কাছাকাছি সাগরে মো. হোসেন, ছৈয়দ আকবর, মো. ইসলাম ও মো. আবুলের পাঁচটি নৌকা মাছ শিকার করছিল।
হঠাৎ করে মিয়ানমার থেকে একটি ট্রলারে করে ১০/১২ জনের সশস্ত্র লোক তাদের দিকে তেড়ে আসতে দেখে মো. ইসলাম ও মো. আবুলের নৌকা দুটি পালিয়ে আসলেও বাকী নৌকাসহ ছয়জন জেলেকে অপহরণ করে মিয়ানমার বাহিনী।
তিনি আরো বলেন, জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার খবরটি টেকনাফ সদর বিওপির বিজিবির দায়িত্বরত হাবিলদার মো. শামসুকে অবগত করি।
টেকনাফ ৪২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবুজার আল জাহিদ বলেন, নৌকাসহ ছয় জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপির) ২ নং সেক্টরের কর্মকর্তা সিং হং এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়টি তদন্ত করে তাদের ফেরত দেওয়ার আশ্বস্ত করেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশি জেলেদের মিয়ানমার সীমান্তে গিয়ে মাছ শিকার না করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও জেলেরা সীমানা অতিক্রম করে মাছ শিকার করছে। এ কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।

মতামত