টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

দলীয় ব্যানারে পৌর ও ইউপি নির্বাচন: পেছাতে পারে তফসিল

চট্টগ্রাম, ১০ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): পিছিয়ে যেতে পারে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠানে সরকারের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। ফলে এসব নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ব্যাপারে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্র জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরেই পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালার সংশোধনে কিছুটা সময়ের দরকার হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ২৪৫টি পৌরসভায় এবং আগামী বছরের শুরুতে কয়েক ধাপে ৪ হাজার ৫৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচনের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এরই মধ্যে নির্বাচনের উপযোগী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী মাসের প্রথম দিকেই পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সকল নির্বাচন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ও প্রতীকে অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় হোঁচট খেতে যাচ্ছে ইসির পরিকল্পনা।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনগুলোও রাজনৈতিক দলীয় পরিচয় ও প্রতীকে অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনীর খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে এক সপ্তাহের মধ্যে সংশোধনী আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য কেবল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইন নয়–স্থানীয় পর্যায়ের অন্য তিনটি অর্থাৎ সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের সংশোধনী আনার প্রয়োজন পড়বে।

আইন সংশোধনে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার সচিব আবদুল মালেক বলেন, দেশে আর কোনও স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হবে না। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের পর উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনও দলীয়ভাবে হবে। স্থানীয় সরকার আইনেও দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। আইনটি চূড়ান্ত হলে দলীয়ভাবে নির্বাচন করতে আর কোনও বাধা থাকবে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খোন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে করা হবে। এ জন্য আইনে কিছু ধারা সংযোজনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হবে। জাতীয় নির্বাচনের মতো এসব ক্ষেত্রেও পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী আমেজ আসবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবার আগে পৌরসভা আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী পৌর নির্বাচনই সবার আগে অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সংশোধিত আইনের শিরোনাম দেওয়া হয়েছে- স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) আইন, ২০১৫।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে দেখা গেছে, বিদ্যমান আইনের ২, ১৯ ও ২১ ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। ধারা-২ এ আইনের বিভিন্ন শব্দের সংজ্ঞা উল্লেখ রয়েছে। এ ধারায় ৭০ ও ৭১ উপধারা সংযুক্ত করা হয়েছে। ৭০ উপধারায় বলা হয়েছে- রাজনৈতিক দল অর্থ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত কোনও রাজনৈতিক দল। এবং ৭১ উপধারায় বলা হয়েছে- স্বতন্ত্র প্রার্থী অর্থ যিনি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনয়ন গ্রহণ করেন নাই বা তাহাকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনয়ন প্রদান করা হয়নি। অপর সংশোধনী আনা হয়েছে ১৯ ধারায়। এ ধারায় প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা শর্তগুলো উল্লেখ রয়েছে। এ ধারার সংশোধনীতে বলা হয়েছে- এতে নতুন দফা (ঙ) সংযোজিত হবে। এতে বলা হয়েছে- নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। অপর সংশোধনী আনা হয়েছে আইনের ২১ ধারা। এ ধারায় নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচনী বিরোধ সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও কমিশন সূত্র আরও জানিয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটি জাতীয় সংসদে পাস করা পরের কথা, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ আকারে পাস হলেও আগামী মাসের শুরুর দিকে পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আইনটির যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন করতে অন্তত সপ্তাহ দুয়েক লেগে যাবে। আর কেবল আইনের পরিবর্তন হলেই রাজনৈতিক দলের ব্যানারে এই নির্ব‍াচনের পথ উন্মুক্ত হবে না। এজন্য কমিশন কর্তৃক বিধিমালায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।

রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নির্বাচন হলেও দলীয় প্রতীক বরাদ্দে কিছুটা জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আরপিও’র বর্তমান বিধান মতে, জাতীয় নির্ব‍াচনের জন্য প্রতীকগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। অর্থাৎ এই প্রতীকগুলো অন্য কোনও নির্বাচনে ব্যবহার করা যাবে না বলে বিধান আছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব প্রতীকের ব্যবহার করতে হলে ওই বিধান অবলুপ্ত করতে হবে। এদিকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই সঙ্গে একাধিক পদে নির্বাচন হওয়ার কারণে সব পদেই দলীয় প্রার্থীদের একই প্রতীক থাকবে নাকি ভিন্ন কিছু হবে সেটা নিয়েও একটা বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

পৌরসভা নির্বাচন যদি কিছুটা পিছিয়ে যায় তাহলে এর ধারাবাহিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও পিছিয়ে যেতে পারে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরাও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠানে আইনী উদ্যোগের কথা শুনেছি। সেই অনুযায়ী আইন পরিবর্তন করা হলে নির্বাচনের অনেক বিধিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। আইন পরিবর্তন অনেক সহজ। মাত্র তিনটি ধারায় পরিবর্তন আনলেই হবে। কিন্তু এসংক্রান্ত বিধিগুলো পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনকে অনেক কাজ করতে হবে। এজন্য কমিশনকে সময় দিতে হবে। সেক্ষেত্রে পৌরসভা নির্বাচন ডিসেম্বরেই হবে–এ কথা জোর দিয়ে বলা যায় না।

বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচন করতে হলেও নভেম্বরের প্রথম দিকে তফসিল ঘোষণা করতে হবে বলেও ইসি সচিব জানান।

দলীয় ব্যানারে নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, সরকার দলীয় ব্যানারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে চাচ্ছে। এখনও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা মনে করি, সব নির্বাচন দলীয়ভাবে হওয়াটাই ভালো। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে এমন অনেক দেশেই এই ব্যবস্থা আছে।

তিনি বলেন, সামনে বড় দুইটি নির্বাচনের কথা শোনা যাচ্ছে। আমরা চাই এ দুটি নির্বাচন থেকেই এই প্রক্রিয়াটা ‍শুরু হয়ে যাক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন, সরকার আগামী পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় ব্যানারে করার কথা ভাবছে। এ ব্যাপারে কিছুটা আইনগত জটিলতা রয়েছে। আইন সংশোধন করে এ জটিলতা দূর করা হবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ আগামীতে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয়ভাবে করার পক্ষে তাদের মনোভাব জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।- বাংলা ট্রিবিউন

মতামত