টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বন কেটে কক্সবাজারে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো


Cox.Pic-1চট্টগ্রাম, ১০ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):
বনবিভাগের জমি দখল করে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার দরিয়ানগরে নির্মিত হচ্ছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। বনভূমিজুড়ে পাহাড় কেটে ক্যাম্পাসটির স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালানো হচ্ছে। এতেকরে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি আড়াই’শ একর সরকারী বনভূমি হুমকির মুখে পড়বে বলে পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উর্ধ্বতনমহলে অভিযোগ করেছেন কক্সবাজার বন বিভাগ।

তবে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নুরুল আবছার খান বলেন, ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য সকল নিয়মতান্ত্রিকতা অনুসরণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি নিয়েই স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য সরকার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় ঝিলংজা মৌজার ২৫০০১ দাগের খাস খতিয়ানভূক্ত ৫ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে। এর মূল্য বাবদ ২ কোটি ৭৬ লাখ ৯০ হাজার ২৬২ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। আমরা কোন অবৈধ দখলদার নই।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বনের ভেতর নির্মাণাধিন ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ের পাশাপাশি কাটা পড়বে প্রায় দেড় হাজার গাছ। ইতিমধ্যে স্থানীয় একটি সংজ্ঞবদ্ধ সিন্ডিকেট পাহাড় ও গাছ কেটে বনভুমি দখলের প্রতিযোগীতায় নেমেছে। সব মিলিয়ে ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে ওই দাগের প্রায় আড়াই’শ একর বনভূমি হুমকির মুখে পড়েছে। এসব কিছু বিবেচনায় নিয়ে ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গত ১ অক্টোবর চিঠি দিয়েছেন কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো: আলী কবির।

চিঠিতে বলা হয়েছে, কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা মৌজার ৬৯২ নং আর এস দাগের (যার তুলনামুলক বিএস দাগ নং-২৫০০১) এ বন বিভাগের রক্ষিত বন। ১৯৩৫ সালের ১৩ জুলাই বন আইন, ১৯২৭ এর ২৯ ধারা মোতাবেক ঝিলংজা মৌজার ৬৯২ নং আর এস দাগসহ অন্যান্য দাগের ২১৪৫.০২ একর ভুমিকে রক্ষিত বন ঘোষণা করে সরকার। ঘোষণাকৃত এ রক্ষিত বনভুমির ৫ একর জমিতে ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়েরসাইনবোর্ড স্থাপন করে ইট দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যার কোন অনুমতি নেয়া হয়নি। তাই বনের এ জমিতে কোন প্রকার স্থাপনা নির্মাণ না করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকায় সড়ক থেকে আধা কিলোমিটার ভেতরে নির্মাণ করা হচ্ছে চট্টগ্রামের ভেটেরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। রাস্তা থেকে ক্যাম্পাসের জায়গা পর্যন্ত কয়েকটি সাইনবোর্ডও ঝুলানো হয়েছে। বনের ভেতর ক্যাম্পাসে যেতে ইতিমধ্যে রাস্তা নির্মাণে পাহাড়ও কাটা হয়েছে।

দেখা গেছে, কয়েকজন শ্রমিক সেমিপাকা একটি ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। এ এলাকায় ক্যাম্পাসটি পুরোপুরি বাস্তাবায়ন করতে কাটা পড়বে ২/৩ বছর মেয়াদী অন্তত দেড় হাজার গাছ। এর প্রভাব পড়বে আশ-পাশের বনেও। দখল-বেখল নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা হওয়ার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো: আলী কবির জানান, জাতীয় বন নীতিমালা-১৯৯৪ অনুযায়ী বনায়ন ছাড়া অন্য কাজে বনভূমি ব্যবহার করা যায়না। এ জন্য সরকার প্রধানের অনুমতির প্রয়োজন। জাতীয় ভুমি ব্যবহার নীতিমালা-২০০১ এর ১৭ অনুচ্ছেদে ভুমি ব্যবহার নীতিমালার মুখ্য দিক সমুহ বর্ণনা করা হয়েছে। যেখানে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক বনাঞ্চল বনভূমি হিসেবে চিহ্নিত থাকবে এবং বর্তমানে ব্যবহৃত বনভূমির সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং গেজেটভুক্ত সরকারী বন ভুমিতে স্থাপনা তৈরীর কোন সুযোগ নেই।

ইয়ুথ এনভায়রণমেন্ট সোসাইটি (ইয়েস)’র সভাপতি এম.ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, এমনিতেই নানা কারণে বনভূমি সংকোচিত হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে কক্সবাজারের বন, পাহাড় ও জীববৈচিত্র্য সংকটে পড়েছে। প্রকৃতি ধ্বংসের প্রভাব দিন দিন আমরা দেখতেই পাচ্ছি। তারমধ্যে বন কেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণ কোনভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে কয়েক’শ একর খাস জমি পড়ে আছে। অনেক জমিতে রোঙ্গিরা বসতি স্থাপন দখল করে আছে। বনভূমিদখল না করে কর্তৃপক্ষ চায়লে ওসব জমিতে ক্যাম্পাস করতে পারে। এতে পরিবেশ রক্ষা পাবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ড. অনুপম সাহা বলেন, গেজেটভুক্ত সরকারী বনভূমি কাউকে লীজ দেয়ার সুযোগ নেই। ভেটিরিনারী বিশ্ববিদ্যালয়কে কিভাবে লীজ দেয়া হলো তা কাগজপত্র না দেখে বলা যাচ্ছেনা।

মতামত