টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডিজিটাল ডাটাবেজ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের

ইমাম খাইর
কক্সবাজার ব্যুরো

চট্টগ্রাম, ০৯ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  বাংলাদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের আনা হচ্ছে ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ এর আওতায়। এ লক্ষে কক্সবাজারে নিবন্ধিত ৩২ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিকের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এ সংক্রান্তে নির্দেশনা দুই দিন আগে জেলা নির্বাচন অফিসে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে জেলা নির্বাচন অফিস।

সুত্র মতে, জেলার উখিয়া ও টেকনাফের তিন ক্যাম্পে নিবন্ধিত ৩২ হাজার রোহিঙ্গা রয়েছে। এর বাইরে অনিবন্ধিত আরো অন্তত ৫ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক জেলার বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করছে। প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদেরকেই ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ এর আওতায় আনা হচ্ছে।

এতে করে রোহিঙ্গারা সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্রের ফ্রেমে বন্দি হওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মেছবাহ উদ্দিন জানান, ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের একটি চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে নিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের আলাদা ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ তৈরী করতে তথ্য প্রেরণের জন্য বলা হয়েছে। এ জন্য কাজ শুরু হয়েছে। একই নির্দেশনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, এনজিও ব্যুরো, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ডাজাবেজ-এ সাধারণ পরিচয়পত্রের চেয়ে আলাদা কিছু তথ্য সংযুক্ত হবে। সেখানে রোহিঙ্গাদের ছবি, আঙ্গুলের ছাপ, চোখের ছাপ, ডিজিটাল দস্তখত থাকবে। ডিজিটাল ডাটাবেজ এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের একটি দেয়াল আবদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ হলে রোহিঙ্গারা অপরাধ করেও পার পাবেনা। দেশের যে কোন প্রান্তরে রোহিঙ্গা পরিচয় সহাজেই শনাক্ত করা যাবে। তথ্য গোপন করে পাসপোর্ট কিংবা ভোটার আইডি বানাতে পারবেনা তারা।

এ সময় তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা বিরোধী গণসচেতনতা তৈরী করা প্রয়েজন বলেও মন্তব্য করেন।

অভিযোগ রয়েছে- জেলার বনভুমির বিরাট একটি অংশজুড়ে গড়ে ওঠে রোহিঙ্গাদের অবৈধ বসতি। চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, মানবপচার ও খুনসহ নানা অপরাধমূলক কাজে তারা জড়িত। ভুয়া ভোটার আইডিকার্ড ও বাংলাদেশী পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠির সঙ্গেও তারা সম্পৃক্ত। দেশীয় শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাবের জন্য রোহিঙ্গারা কম দায়ী নয়। আইন শৃঙ্খলা অবনতিতে তাদের হাত রয়েছে।

শুধু তাই নয়, স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি তাদের ‘ভোট ব্যাংক’ ভারী করতে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে ভোটার করছেন। এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদে জেলার বিভিন্ন এলাকায় টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার ফরম দেয়ার অভিযোগ অভিযোগও মিলেছে। এসব কারণে অবৈধ রোহিঙ্গাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্র কিংবা নীতিমালার আওতায় আনার দাবী দীর্ঘদিনের।

উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আলাদা ডাটাবেজ তৈরীর কাজ দেশ ও সরকারের জন্য মাইলফলক হবে। তবে শুধু নিবন্ধিত ৩২ হাজার রোহিঙ্গা ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ এর আওতায় আনলে হবেনা। আরো ৫ লাখ অবৈধ রোহিঙ্গাদেরও দ্রুত ‘ডিজিটাল ডাটাবেজ’ আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলেই প্রশাসন সুফল পাবে।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, রোহিঙ্গাদের কারণে সারাদেশের কাছে কক্সবাজার একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত। ডিজিটাল ডাটাবেজ এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণ হবে, অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।

মতামত