টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

সহকারী অধ্যাপক দিয়ে চলছে চসিকের সবকটি কলেজ

ইব্রাহিম খলিল

cccচট্টগ্রাম, ০৮ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  সহকারী অধ্যাপক দিয়ে চলছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ১৮টি কলেজ। কিন্তু সহকারী অধ্যাপকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে করলেও এ জন্য তাদের মিলছে না অতিরিক্ত ভাতা।

দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলে আসলেও নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগে কোন উদ্যোগ নেই চসিকের। অথচ এসব কলেজে সহকারি অধ্যাপক পদ মর্যাদার ২০-২৫ জনেরও বেশি শিক্ষক রয়েছেন। যারা অধ্যক্ষ হিসেবে পদোন্নতি লাভের যোগ্য।এদের মধ্যে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে শিক্ষকতা করা সহকারী অধ্যাপকরাও আছেন। পদোন্নতি না পাওয়ায় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে নিজেদের ক্ষোভের কথা জানালেও নাম প্রকাশ করে কেউ কিছু বলতে রাজি হননি।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কয়েকজন সহকারী অধ্যাপক জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করা হলেও অতিরিক্ত কোন ভাতা বা সুবিধা পাচ্ছেন না তারা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, যোগ্য শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হলে কলেজগুলোতে নিয়মিত অধ্যক্ষ দেওয়া সম্ভব হতো। এ সমস্যা নিরসনে শীঘ্রই পদোন্নতির পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত কিছু সুবিধা পাওয়া উচিত। তবে সুবিধা না পেলেও এ অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অভিজ্ঞতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পদোন্নতির ক্ষেত্রে মূল্যায়িত হবে।

পদোন্নতি এবং নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আর বলেন, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারত সফরে রয়েছেন। ফিরে আসার পর তার সিদ্ধান্ত পেলেই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক সুমন বড়ুয়া বলেন, নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকায় এসব কলেজের একজন করে শিক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে ওই শিক্ষককে দুটি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের উপর অবশ্যই চাপ পড়ছে। স্বীকৃতি নবায়নের সময় আমরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগের জন্য বলেছি।প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অবশ্যই নিয়মিত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া উচিত।

চসিকের শিক্ষা শাখার একটি সূত্র জানায়, ২০১৪ সাল পর্যন্ত চসিক পরিচালিত কলেজের সংখ্যা ছিল ১৫টি।

এর সাথে রেলওয়ে হাসপাতাল কলোনি সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং হোসেন আহম্মদ চৌধুরী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন করে কলেজ শাখা চালু করা হয়।

শিক্ষা শাখার তথ্য অনুযায়ী, কলেজগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আছেন কুয়াইশ বুড়িশ্চর শেখ মোহাম্মদ সিটি কর্পোরেশন কলেজে মো. জয়নাল আবেদিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রিমিয়ার কলেজে মো. মোজাম্মেল হক, দেওয়ানহাট সিটি কর্পোরেশন কলেজে ঝিনু আরা বেগম, পাঁচলাইশ এস এম নাছির উদ্দিন সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজে জয়নাব বেগম, সরাই পাড়া সিটি কর্পোরেশন (সি.ক) কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রওশন আক্তার।

কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন মহিলা কলেজে জারেনা বেগম, জরিনা-মফজল সিটি কর্পোরেশন কলেজে হাজেরা খাতুন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কায়সার-নিলুফা কলেজে শেখ মো. ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কমার্স কলেজে আবু তৈয়ব, পোস্তারপাড় আছমা খাতুন সিটি কর্পোরেশন কলেজে লাভলী মজুমদার, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন কলেজে ইসমত আরা বেগম, কুলগাঁও সিটি কর্পোরেশন কলেজে মো. আমিনুল হক খান, আয়ুব বিবি সিটি কর্পোরেশন স্কুল ও কলেজে মো. মাহফুজুর রহমান।

অপর্ণাচরণ সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মমতা বেগম, কাট্টলী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মো. আবুল কাশেম, পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মনোয়ার জাহান, হোসেন আহম্মদ চৌধুরী সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এস এম এহসান উদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া ২০১৫ সালে নতুন করে ফতেয়াবাদ সিটি কর্পোরেশন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে কলেজ শাখা চালু করা হয়েছে। বিদ্যালয় শাখার প্রধান শিক্ষকই কলেজ শাখার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

মতামত