টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কূটনৈতিক জোনের কড়া নিরাপত্তায় বিদেশিদের স্বাভাবিক জীবনযাপন

roneyচট্টগ্রাম, ০৬ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): দুই বিদেশি খুন হওয়ার পরপরই গুলশান ও বারিধারার কূটনৈতিক পাড়ায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বিদেশিরা। তবে কড়া নিরাপত্তায় ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল কিছুটা কমে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত তল্লাশি এড়াতে গাড়িগুলো সহসা ওই এলাকায় প্রবেশ করছে না।

সোমবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গুলশান ও বারিধারা এলাকার অবস্থা এমনই ছিল।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্য এলাকার কেউ গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করলে তাদের ফোন ও গাড়ি নম্বর লিখে রাখা হচ্ছে। রিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তবে অতিরিক্ত নিরাপত্তায় খুশি ওই এলাকার বাসিন্দারা। নিরাপত্তা জোরদার করায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন বিদেশিরা। ওই এলাকায় বিদেশিদের রাতের বেলাতেও পার্কে ও সড়কে হাঁটতে দেখা গেছে। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন না।

আরও দেখা গেছে, মহাখালী, বনানী ও হাতিরঝিল এলাকা দিয়ে গুলশান ও বাড্ডার দিকে যেতে প্রতিটি সড়কের মুখে পুলিশ একাধিক চেকপোস্ট বসিয়েছে। এসব চেকপোস্টে সন্দেহভাজন পথচারী ও যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে। গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। গুলশান-১ নম্বর দিয়ে গুলশান দুইয়ের দিকে যেতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পাড় হয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় প্রবেশ করতে হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘কূটনৈতিক পাড়ায় পুলিশের তিন ধরনের পেট্রোল টিম রয়েছে। ফুট পেট্রোল, মোটরবাইক পেট্রোল ও গাড়ি পেট্রোল। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা সদস্যরা নজরদারি বৃদ্ধি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সড়কেই পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গাড়ির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেও দেখা হচ্ছে।’

ইতালীয় নাগরিক তাভেল্লা যেখানে খুন হয়েছেন, সেই ৯০ নম্বর সড়কের বিপরীত মুখেই বসানো হয়েছে পুলিশের একটি চেকপোস্ট। সেখানে কর্তব্যরত ‍গুলশান থানার এসআই মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা আমরা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছি। সব ধরনের গাড়ি আগের মতোই চলাচল করছে। তবে রিকশা প্রবেশ করছে না। পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা। আমরা কাগজপত্রবিহীন গাড়ি পেলে মামলা দিচ্ছি। কোথায় যাচ্ছে তা নোট রাখছি।’

গুলশানের বাসিন্দা রেহমান আউব জানান, এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে তারা আর দেখেননি। এ ব্যবস্থা আগে থেকেই নেওয়া উচিৎ ছিল।

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে সবসময় এমনই থাকে।’

সোমবার বিকেলে ফ্রান্স অ্যাম্বাসির বিপরীতে পার্কে হাঁটতে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক যোসেফ হিন্স। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, তারা কোনও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন না। তিনি প্রায় আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশে আছেন। তবে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতার সমালোচনা করেছেন।

তার মতো অনেক বিদেশি নাগরিককে সন্ধ্যার পর গুলশান এলাকায় হাঁটতে দেখা গেছে। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তারা খুশি। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময় চেয়েছেন।

সুত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

মতামত