টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

বিদেশি হত্যা: পুলিশের টার্গেট মোটরসাইকেল!

hundaচট্টগ্রাম, ০৫ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): টার্গেট এখন মোটরসাইকেল। দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের পর এ বাহনটি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বৈঠকে মোটরসাইকেলের ওপর কড়া নজরদারি করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, যেখানে যে যানবাহনকে সন্দেহ হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানেই তল্লাশি চালাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল ছাড়াও যে মোটরসাইকেলে দুজন যাত্রী থাকবেন, তাতেও তল্লাশি চালানো হবে। আর তিনজন থাকলে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। গত এক সপ্তাহে দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেছে দুর্বৃত্তরা। আর ওই দু’টি হত্যাকাণ্ডের মিশনে তিনজন করে খুনি ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ শাখার সহকারী মহা-পুলিশ পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়াসহ সারাদেশে বিদেশি নাগরিকদের আবাস ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া দুই বিদেশির খুনি চক্রকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। দুর্বৃত্ত ও তাদের নেপথ্য হোতাদের শক্ত হাতে দমন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক। তিনি দুই বিদেশি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের মাধ্যমে এসব ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সদর দফতরের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকরা যে যেখানে আছেন, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সারাদেশের পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে সমন্বয় বাড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা ভিন্ন কৌশলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। তাই সারাদেশে পুলিশকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে যাকে ও যে যানবাহনকে সন্দেহ হবে, তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তি ও যানবাহনকে তল্লাশি করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এখন থেকে কোথায় কোথায় বিদেশি নাগরিকরা থাকেন, সেই তথ্যও সংগ্রহ করে তাদের বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখতে গোয়েন্দাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল রবিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পরিকল্পিতভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা বিদেশিদের হত্যা করতে পারে। এ ছাড়া, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত সময়ে যারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, হয়তো তারাই দেশের অগ্রগতিকে নস্যাৎ করতে ভিন্নপথ অবলম্বন করেছে। সবগুলো বিষয় নিয়েই গোয়েন্দারা তদন্ত করছে। কারণ, এদেশে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর কোনও অস্তিত্ব নেই। যখনই জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছে, তখনই তাদের দমন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ সবকিছুই সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পুলিশ সদর দফতরের জনসংযোগ শাখার সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহছান বলেন, সন্ত্রাসী ও দুর্বৃত্তদের নিয়ন্ত্রণে গত ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ওই সময় প্রায় দুই মাসের অভিযানে পুলিশ ৩৭ হাজার ৭৫১টি অবৈধ মোটরসাইকেল আটক করে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পুলিশ ৪৪ হাজার ৮৫৫টি মামলা করে।

বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশে এক লাখ ১২ হাজার ৮১৩টি মোটরসাইকেলের নিবন্ধন করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৬৪ হাজার ৭৬৭টি মোটর সাইকেলের নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বিআরটিএ-এর বিভিন্ন অফিস থেকে।-বাংলা ট্রিবিউন

মতামত