টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ডিসেম্বরে শুরু টানেল নির্মাণ

চট্টগ্রাম, ০৩ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রাম নগরীর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহুল প্রত্যাশিত টানেল নির্মাণ কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হচ্ছে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তা শেষ হবে যার মধ্য দিযে চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হবে বলে জানিয়েছেন সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার সকালে বিএনএস ঈসা খাঁ ঘাঁটির ট্রেনিং ব্লকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদেও সাথে বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন,কর্ণফুলী টানেল নির্মাণে ৮হাজার ৫’শ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর মধ্যে চীন সরকার ব্যয় করবে ৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি ৩ হাজার ৫’শ কোটি টাকার যোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার ।

তিনি আরো বলেন,আগামী নভেম্বর মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে এ টানেলে নির্মাণ কাজের ভিত্তির প্রস্তর স্থাপন করবেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ের একটি গুরুতপূর্ণ অংশ হল কর্ণফুলী তলদেশে টানেল নির্মাণ। কর্ণফুলী টানেল ছাড়া এশিয়ান হাইওয়ে পূর্ণতা পাবে না। তাই এ টানেল নির্মাণ করা অপরিহার্য । চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিলো কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা । তাদেও এই স্বপ্ন পূরণ করতে সরকার বদ্ধ পরিকর।

মন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম থেকে সরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে যে অভিযোগ উঠছে তা ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এ সব রাজনৈতিক নেতারা টানেল ও সমুদ্র বন্দর বিষয়ে অনভিজ্ঞ। ছোট্ট একটি রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে অসংখ্য সমুদ্র বন্দর রয়েছে। তাহলে বাংলাদেশে কেন চার থেকে পাঁচটি সমুদ্র বন্দর থাকবে। মহেশখালীতেও সমুদ্র বন্দর নির্মাণ হবে , পায়রাতেও সমুদ্র বন্দর নির্মাণ হবে।

মহেশখালী সমুদ্র বন্দর বাদ দেওয়ার প্রশ্ন অবাস্তব । কারণ এশিয়ান হাইওয়ে রোডের অন্যতম অংশ মহেশখালী সমুদ্র বন্দর।

তিনি বলেন, চার লেইন বিশিষ্ট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক নির্মাণ কাজ সময়সীমা চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। প্রকৌশলীসহ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ৪ বার সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছিল। এ নিয়ে অনেক সমলোচনা হয়েছে তাই বর্ধিত সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না।

মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বন্ধ আদালতের সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর । আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তাবায়নে আমাদের সকলকে একত্রে অবদান রাখতে হবে। পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তায় থ্রি-হুইলার বন্ধে আমরা ৭০ভাগ সফল হয়েছি।

বাড়তি ভাড়া প্রসঙ্গে প্রতি কিলোমিটারে ১০পয়সার বেশি যাতে কেউ বাড়তি আদায় না করে তার জন্য পুলিশ বিভাগকে নিদের্শ দেয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো: শহিদুর রহমান, চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার একে এম হাফিজ আক্তার,চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য(প্রশাসন ও পরিকল্পা) জাফর আলম প্রমুখ।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত