টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

অন্ধকারে আলোর দিশা মিরসরাইয়ের জাহাঙ্গীর মাষ্টার

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি 

Mirsarai-Jahangir-Hossain-Mচট্টগ্রাম, ০৩ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): সমাজে ভালো মানুষের বড়ই অভাব। অনেক মানুষ শত কোটি টাকার মালিক হয়েও অসহায় দরিদ্র মানুষের খবর নিচ্ছেনা। আবার কিছু কিছু নিবেদিত নিঃস্বার্থ সমাজসেবী মানুষ সামান্য টাকার মালিক হয়েও সমাজের সুবিধা বঞ্চিত অবহেলিত, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত নিজেকে উজাড় করে দেয়। এমনই একজন শিক্ষানুরাগী, নিঃ¯া^ার্থ সমাজ সেবক পরোপকারী জাহাঙ্গীর হোসাইন (মাষ্টার)। মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের শেখের তালুক গ্রামে জন্মগ্রহন তিনি। তার পিতার নাম মরহুম জহরুল হক। তিলে তিলে সংগ্রাম করে বেড়ে উঠা এ মানুষটি অসহায় ব্যক্তিদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। তিনি অজপাড়া গাঁয়ের সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়ে বিদেশে ব্যবসা করে শহরের অট্টালিকায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও মিশে গেছেন যে মাটিতে বড় হয়েছেন সে গ্রামের সাধারণ মানুষের সাথে। আলোর কোন সীমানা নেই। অন্ধকার দুর করাটাই আলোর ধর্ম। তেমনি শিক্ষা বিস্তার ও সমাজ সেবায় ব্রত হয়ে নিজ কর্ম গুনে সমাজের নারী পুরুষ সব বয়সের মানুষের কাছে সমান প্রিয়। দলমত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমাজের সকল মানুষের জন্য অবদান রেখে নিজেকে সব সময় জড়িয়ে রাখেন। একদিন অন্ধকার দুর হয়ে সমাজ আলোকিত হবে,সব মানুষ একসাথে হাসবে। সমাজের দরিদ্র অসহায় মানুষের জয় হবে এমনই স্বপ্ন এ গুনী মানুষটির। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে অসহায়, দরিদ্র, অবহেলীত মানুষ ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন । অসহায় মানুষরা ছুটে আসেন তার কাছে। দানের মাধ্যমে সমাজের মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়। এ কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলছেন তিনি। মনিষীদের বানী আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও আমি একটি শিক্ষিত জাতি দেবো।

Mirsarai-Jahangir-Photo-(1)এ শিক্ষিত মা তৈরির জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বাৎসরিক পড়া লিখার খরচ চালিয়ে আসছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন নোয়াপাড়া জামে মসজিদ, বদিউল্লাহপাড়া (শরিয়তপাড়া) ফোরকানীয়া মাদ্রাসা, বহদ্দারগ্রাম (ইছাখালী) ফোরকানীয়া মাদ্রাসা সহ একাধিক ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি চট্টগ্রামস্থ মিরসরাই এসোশিয়েশনের পৃষ্টপোষক ও আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম নাবিক কল্যান সমিতির উপদেষ্ঠা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ইতমধ্যে তিনি গত ২ সেপ্টেম্বর সমাজসেবা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ‘জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম সন্মাননা পদক’ পেয়েছেন। পিছিয়ে পড়া অবহেলিত জনপদের অসচ্ছল,অসহায় জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে তাদের এগিয়ে নিতে ছোট ভাই মরহুম বেলায়েত হোসাইনের নামে প্রতিষ্ঠা করেন বেলায়েত হোসাইন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার একক প্রচেষ্টায় মঘাদিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহযোগীতা করে আসছেন। বেলায়েত হোসাইন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর চলার পথ অনেক দুর লক্ষ একটাই দারিদ্রতা , যৌতুক ও মাদকের ছোবল থেকে মানুষকে মুক্তির পথ দেখানো এবং ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো পৌছে দেওয়া। ফাউন্ডেশনের অধিনে এলাকার গরীব মেয়েদের বিয়েতে আর্থিক সহায়তা, মেধা বৃক্তির মাধ্যমে প্রতিভাবান গরিব ছাত্র- ছাত্রীদের লেখা পড়ার খরচ প্রদান, দুস্থদের আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান অনুদানের মাধ্যমে এ ফাউন্ডেশন তাঁর লক্ষ পুরনে স্বনির্ভর সমাজ গঠনের জন্য অবদান রাখছে। আমাদের সমাজে যাদের অভাব অনটনের সংসার। একবেলা খেলে আরেক বেলা খাবার জুটেনা। এমন অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে রয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। তার কাছে গিয়ে কেউ কোনদিন খালি হাতে ফেরেনি। মঘাদিয়া ইউনিয়নের অনেক মসজিদে অনুদান দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মক্তব, মাদ্রাসা, মন্দির, অসহায় মানুষের চিকিৎসা, গরীব মেয়ের বিয়েতে অনুদান দিচ্ছেন নিয়মিত।

Mirsarai-Anudan-Photo যে প্রতিষ্ঠান গুলোতে তিনি অনুদান দিয়েছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শেখের তালুক হামিদ মুহুরীবাড়ী জামে মসজিদ ২ লাখ টাকা, মজুমদার হাট জামে মসজিদ ১ লাখ টাকা, খোরমাওয়ালা জামে মসজিদ ১ লাখ টাকা, সরকারটোলা ফোরকানীয়া মাদ্রাসা ১ লাখ টাকা, মিরসরাই রেল স্টেশন জামে মসজিদ ১ লাখ টাকা, কাজীর তালুক জামে মসজিদ ৫০ হাজার টাকা, কাজীর তালুক মাদ্রাসা ৫০ হাজার টাকা, সাধুর বাজার জামে মসজিদ ৫০ হাজার টাকা, শেখটোলা জামে মসজিদ ৫০ হাজার টাকা, শেখটোলা ফোরকানীয়া মাদ্রাসা ২০ হাজার টাকা,গাজীটোলা জামে মসজিদ ৫০ হাজার টাকা, সারেংপাড়া মাদ্রাসা ৩০ হাজার টাকা, সারেংপাড়া জামে মসজিদ ২০হাজার টাকা, আবুতোরাব ফোরকানীয়া মাদ্রাসা ২৮ হাজার টাকা, হাদী নগর তোরাব আলী হাজী মসজিদ ২০ হাজার টাকা, হাসিমনগর ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ৫০ হাজার টাকা, আবুতোরাব জগন্নাথ ধাম ২ লাখ টাকা, শফিউল্লাহ পাড়া জামে মসজিদ ২০ হাজার টাকা, শফিউল্লাহ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০ হাজার টাকা,মঘাদিয়া ইউপির সামনে মসজিদ ১৮ হাজার টাকা, সমিতিরহাট মসজিদ ২০ হাজার টাকা, জাফরাবাদ ফোরকানীয়া মাদ্রসা ২০ হাজার টাকা, তিনঘোরিয়াটোলা মসজিদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, উকিলটোলা জামে মসজিদ ৫০ হাজার টাকা, আবুতোরাব উত্তর বাজার মসজিদ ১০ হাজার টাকা।প্রচার বিমুখ এ মানুষটি নিজের নাম প্রকাশ না করে আড়ালে থেকে নিরবে নিভৃর্তে কাজ করতে বেশি পছন্দ করেন। এছাড়া তিনি প্রায় এক হাজারেরও বেশি বেকার মানুষকে বিদেশে নিয়ে কর্মসস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন। তার মধ্যে মিরসরাইয়ের প্রায় আড়াইশ।যারা দেশে অনেক কষ্টে জীবন যাপন করেছেন এখন তাদের প্রায় অনেকে এখন স্বচ্ছল। মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য এ বাস্তব উপলব্ধী তিনি মনে প্রাণে লালন করেন। যারা শত কোটি টাকার মালিক তারাও যেন সেবার মানসিকতা নিয়ে জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টারের মত সমাজের হত দরিদ্রদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিভাবান ফুলের মত শিশু গুলোকে ঝরে পড়ার আগে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে এগিয়ে আসেন । জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা আর মনোবল আজকে আমাকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন তাই আমি সমাজদের অসহায়, অস্বচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। ব্যবসার কারণে দেশের বাইরে থাকলেও প্রতিনিয়ত আমার মন পড়ে থাকে গ্রামে। তাই দুই-একমাস পরপর গ্রামে ছুটে আসি। তিনি আরো বলেন, সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষ গুলোর মলিন চেহারা আমাকে কষ্ট দেয়। সমাজের সেই সব মানুষ গুলোর হাতে কিছু টাকা দিলে হয়তো একবেলা ভালো করে বাজার করে পরিবার নিয়ে খাবে। কিন্তু পরদিন থেকে আবার অভাব তাদের পিছু নিবে। এভাবে সমাজে কোনদিন পরিবর্তন আসবেনা। যদি একজন একজন করে প্রতিটি পরিবারে শিক্ষার আলো পোঁছানো যায়। তা হলে একটি পরিবার, একটি গ্রাম একটি ইউনিয়ন এভাবে একদিন সমগ্র মিরসরাই শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। অভাব- দারিদ্রতা, মাদক, যৌতুক ও অপসংস্কৃতি এসব অন্ধকার দুর হয়ে যাবে। আমি যতদিন এ পৃথিবীতে বেঁচে থাকব ততদিন এ সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের কল্যানে নিজেকে উজাড় করে দেব।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত