টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

মিরসরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারী খুনের ৫ দিনেও গ্রেফতার হয়নি আসামীরা

আতঙ্কে মামলার বাদী ও নিরাপত্তাহীনতায় প্রত্যক্ষদর্শী

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই প্রতিনিধি

Mirsarai-Forida-Photoচট্টগ্রাম, ০২ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস):  মিরসরাইয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মহিলা খুন হওয়ার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি পুলিশ। এদিকে আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিনাতিপাত করছেন মামলার বাদী, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। খুনের ঘটনার পর থেকে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজমান। যেকোন সময় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করছেন সচেতন মহল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ীর উঠানে গোবর (রান্নার উপকরণ) শুকানোকে কেন্দ্র করে খুন হয় ফরিদা বেগম। সে মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ধুম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম নাহেরপুর গ্রামের রমজান আলী বাড়ীর আওয়ামীলীগ কর্মী কবির আহম্মদের স্ত্রী। সে ২ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তানের জননী। ঘটনার দিন রাতে নিহতের স্বামী কবির আহম্মদ বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় দন্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩০২ ধারায় একটি মামলা (নম্বর ৪৫) দায়ের করেন।

এ বিষয়ে নিহতের স্বামী ও মামলার বাদী কবির আহম্মদ বলেন, ‘খুনীদের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জায়গার বিরোধ চলে আসছিল। দিনদুপুরে আমার স্ত্রীকে খুন করা হলো। অথচ মামলার আসামীদের ৫ দিনেও গ্রেফতার করা হয়নি। আসামীদের গ্রেফতার না করায় আমি আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিনযাপন করছি। আমি নিরীহ মানুষ। আমি আমার স্ত্রীর খুনিদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আসামীপক্ষের লোকজনের উপর্যুপুরী হুমকির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের প্রতিবেশী ফারুক হোসেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনারদিন সকালে নিহতের স্বামী আমাকে ফোন করলে আমি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে তাদের বাড়ীতে ছুটে যাই। এসময় ফরিদাকে মস্তাননগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। লাশ নিয়ে বাড়ীতে পৌঁছলে জয়নাল কোম্পানী, আমান উল্ল্যাহ বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে মিট করার জন্য চাপ দেয়। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান তারেক ইসমত জামশেদী ও মিট করার কথা বলে। আমি মিট করতে রাজি না হলে আমাকে গালমন্দ করে তারা। জানাযার পরপরই চেয়ারম্যানের মদদপুষ্ট আমান উল্ল্যাহ, দুলালসহ আরো কয়েকজন আমার উপর হামলা করে। স্থানীয় বাংলাবাজারে গেলে আমাকে গায়েব করে ফেলার হুমকিও দিয়ে আসছে তারা। আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি। অবিলম্বে আসামীদের গ্রেফতার করা হোক।’

আনীত অভিযোগ প্রসঙ্গে ধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক ইসমত জামশেদী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পুন্ন মিথ্যা। আমার সাথে ভূক্তভোগী পরিবারের হত্যাকান্ডের ঘটনায় মিমাংসার ব্যাপারে কোন কথা হয়নি। বরং আমিসহ থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করি। তিনি আরো বলেন, আপনি বাদিকে নিয়ে আমার বাড়িতে আসেন। এ বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করবো।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জোরারগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল করিম বলেন, ফরিদা হত্যাকান্ডের ঘটনায় ইতমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামীদেরও গ্রেপ্তারের জোর প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে উপজেলার ধুম ইউনিয়নের মধ্যম নাহেরপুর গ্রামের রমজান আলী বাড়ীর কবির আহম্মদের স্ত্রী ফরিদা বেগমের জ্যা রিজিয়া বেগম সাথে একই বাড়ীর ঘরজামাই হুদা মিয়ার স্ত্রী জাহেদা বেগমের সাথে উঠানে গরুর গোবর শুকানো নিয়ে বাকবিতন্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এসময় ঝগড়া থামাতে উঠানে যান ওই বাড়ীর আওয়ামীলীগ কর্মী কবির আহম্মদের স্ত্রী ফরিদা বেগম। এসময় জাহেদার স্বামী হুদা মিয়া ঘর থেকে রড এনে ফরিদার জ্যা রিজিয়া বেগমের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে ফরিদা তা প্রতিহত করলে এতে হুদা মিয়া উত্তেজিত হয়ে ওই রড দিয়ে ফরিদার মাথার শিরভাগে আঘাত করলে সাথে সাথে ফরিদা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এরপরও হুদা মিয়া এলোপাতাড়ি রড় দিয়ে আঘাত ও লাথি মারতে থাকে। এদিকে মায়ের এমনাবস্থা দেখে তার দুই ছেলে আবুল কালাম ও ফকির আহম্মদ এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে হুদা মিয়া এবং তার স্ত্রী জাহেদা বেগম, শ্যালক সাহাব উদ্দিন, নুর উদ্দিন, জিয়া উদ্দিন, শ্যালিকা বিবি কুলছুম, পারভীন আক্তার ঘর থেকে লাঠি, রড়, কাঠও গাছের গুড়ি নিয়ে এসে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। উপর্যুপুরী হামলায় নিহতের দুই ছেলেও মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফরিদা এবং তার ছেলেদের উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মস্তাননগর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফরিদাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মতামত