টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

ফাঁসি কার্যকরে যে ধাপগুলো বাকি

bnp-bjiচট্টগ্রাম, ০১ অক্টোবর (সিটিজি টাইমস): ট্রাইব্যুনালের মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে শেষ আরও কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এর একটি ধাপে বিধি মোতাবেক রায় প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) করতে পারবেন আসামি ও রাষ্ট্র উভয়পক্ষই। সেটি খরিজ হয়ে গেলে প্রাণভিক্ষা চাওয়াই একমাত্র পথ। আর যদি আসামিরা তা চাইতে রাজি না থাকে সেক্ষেত্রে ফাঁসি কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে সরকার। তার আগে পরিবারের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার রীতি আছে।

আজ বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল থেকে লাল কাপড়ে মোড়া মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে পাঠানোর পর রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক জানান, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাইব্যুনালের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এরপর কিছু আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুটি মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ মৃত্যু পরোয়ানা হাতে পাওয়ার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের তা পড়ে শোনানো হবে। এরপর আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি-না অথবা রিভিউ আবেদন করবেন কি-না তা জানতে চাওয়া হবে।

দুজনের চূড়ান্ত রায় প্রকাশের পর পরই বুধবার বিকেলে তাদের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর তারা রিভিউ করবেন। তবে তার দাবি, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকে নয়, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর থেকে রিভিউ করতে ১৫ দিনের সময় পাবেন আসামিরা। যদিও তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আইন অনুসারে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর থেকেই দণ্ড কার্যকরে উদ্যোগ নিতে পারবে রাষ্ট্র এবং সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর আপিল বিভাগের দেওয়া সময় অনুসারে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদনের জন্য বুধবার ৩০ তারিখ থেকে ১৫ দিন সময় পাবেন আসামিপক্ষ। যখনই তারা পুনর্বিবেচনার আবেদন করবেন, তখনই মৃত্যু পরোয়ানা ও দণ্ড কার্যকর প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের প্রায় দেড় মাস পর কার্যকর হয়েছিল তার ফাঁসি। জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের এক সপ্তাহের মধ্যে ফাঁসি কার্যকর হয়। দুজনের কেউই রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাননি।

মতামত