টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

একটি জেলা কমিটিও করতে পারেনি বিএনপি

bnp-flagচট্টগ্রাম, ৩০ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস): নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার একটিতেও কমিটি করতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

ঢাকা মহানগর ছাড়া সারা দেশে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সবগুলো কমিটি পুনর্গঠনের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, যা আজ শেষ হচ্ছে।

এর মধ্যে কোথাও পুনর্গঠনের কাজ যে হয়নি তা নিশ্চিত করে দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, ৫০টি জেলা থেকে কমিটি গঠনে সময় বৃদ্ধির আবেদন পেয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর। এর মধ্যে ১৫টি জেলা লিখিতভাবে, অন্যরা মৌখিকভাবে সময় চেয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের গ্রেপ্তার, আত্মগোপন, সম্মেলনের জন্য নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হতে পুলিশের বাধা এবং ঈদ, হজসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের জন্য এসব জেলা থেকে সময় চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ছয় মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে ঢাকা জেলা কমিটি।

মাঠপর্যায়ে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, আবেদনকারী জেলাগুলোর সাংগঠনিক অবস্থা ও তৎপরতা দেখে এক থেকে দুই মাস সময় বৃদ্ধির কথা ভাবা হচ্ছে। কিছুসংখ্যক জেলার কমিটি গঠন করতে না পারার কারণ যুক্তিসংগত বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। তবে বর্ধিত সময় কোনোভাবেই নভেম্বর ছাড়াবে না বলে জানিয়েছেন এই নেতা।

দলের বিভন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, সম্মেলন করে কমিটি পুনর্গঠনের জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে চিঠি দেওয়ার দেড় মাসের মাথায় কেবল গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা, পাবনা, মেহেরপুর ও সিলেট জেলার অধিকাংশ থানা ও ইউনিয়নে কমিটি হয়েছে। তারা এখন জেলা কমিটির সম্মেলন করার পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে দু-তিনটি জেলা সম্মেলনের জন্য কেন্দ্রের কাছে দিন-তারিখ চেয়েছে।

ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ, নোয়াখালী, ফেনী, সুনামগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুরসহ ১৫টি জেলা লিখিতভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। এ ছাড়া ৩০ থেকে ৩৫ জেলা কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতার কাছে মুঠোফোনে সময় চেয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরের একজন নেতা বলেন, বরিশাল মহানগর ও জেলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পঞ্চগড়, রাজশাহী মহানগর, নাটোর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম মহানগর, খুলনা জেলা, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে কমিটি পুনর্গঠনের কোনো কাজ হয়নি। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে দল পুনর্গঠন-প্রক্রিয়া আবারও পিছিয়ে গেছে বলে মনে করছেন দলের অনেকে।

গত ৯ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর চিঠি দিয়ে ঢাকা মহানগর ছাড়া সব জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর কমিটিকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দিয়েছিল। তাতে বিগত আন্দোলনে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও দক্ষ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে বলা হয়।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান ওই চিঠি দেন। এ ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন যাওয়ার আগে দল পুনর্গঠনের কাজ জোরদার করতে তাগিদ দিয়ে যান।

কিন্তু দেড় মাসে একটি জেলায়ও কমিটি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. শাহজাহান বলেন, ‘নানা প্রতিকূলতার মধ্যে সারা দেশে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠনের কাজ এগিয়ে চলছে। অনেকে নানা সমস্যার মধ্যে আছেন। এরপরও বলব পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সন্তোষজনক।’

তিনি বলেন, সময় আবেদনকারী জেলার বক্তব্য যুক্তিযুক্ত হলে অবশ্যই তাদের সময় দেওয়া হবে। তবে ঘোষণা দিয়ে সময় বাড়ানো হবে না।

বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, জেলায় কমিটি পুনর্গঠনে পুলিশ নেতা-কর্মীদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে না। সম্মেলনের জন্য মিলনায়তন পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের হয়রানির পাশাপাশি নেতাদের অন্তঃকোন্দল কমিটি পুনর্গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় অনেক জেলায় নেতা-কর্মীরা আলোচনা করে কমিটি গঠনে কাজ করছেন। আবার অনেক জেলায় ‘নীরবে’ পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের তৎপরতা চালাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটি পুনর্গঠন হয়নি, এটা ঠিক। দলের নেতৃস্থানীয় অনেকে এখনো কারাবন্দি। মামলার কারণে অনেকে এলাকা ছাড়া। নইলে কমিটি গঠনে আরো অগ্রগতি হতো। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলন না হওয়ায় একটা জট আছে। তবে এই জট খুলতে শুরু করেছে।’

মতামত