টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

পর্যটকদের ঢল মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পট গুলোতে

এম মাঈন উদ্দিন
মিরসরাই  প্রতিনিধি 

Mirsarai-Porjotonচট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস):  এবাবের ঈদকে ঘিরে ভ্রমন পিপাসু মানুষের পদচারনায় মুখরিত মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পটগুলো। এর মধ্যে বেশি পর্যটক ভিড় করছে আট স্তর বিশিষ্ট জলপ্রপাত খৈয়াছড়া ঝর্ণা, নয়দুয়ারিয়া নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা, ওয়াহেদপুর হরিনাকুন্ড ঝর্ণা, মহামায়া ঝর্ণা। আবহাওয়া ভালো থাকায় ঈদের দিন বিকেল থেকে হাজার হাজার উপস্থিত হয়েছে এসব পর্যটন স্পটে।

প্রতিবছরের মতো এবারও ঘরে বসে থাকতে পারেনি ভ্রমন পিপাসু মানুষরা। তারা ছুটে এসেছেন দেশেরে দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম লেক মহামায়া, দেশের ষষ্ঠ সেচ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্ট, আট স্তর বিশিষ্ট খৈয়াছড়া ঝর্ণা ও নয়নাভিরাম বাওয়াছড়া লেকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার ঠাকুর দীঘি বাজারের এক কিলোমিটার পূর্বে। ছায়াঘেরা সড়ক। কিছুদূর পর দেখা মিলেছে রেলপথের। প্রাণের টানে ছুটে আসা পথ যেন ক্রমশই বন্ধুর হতে চাইছে মনের কোণে জাগা মৃদু উত্তেজনায়। দূর থেকে দেখা যায় প্রায় পাহাড়সম বাঁধ। উভয় পাশে শুধু পাহাড় আর পাহাড়। বাঁধে উঠতেই…! আহ, কি অপরূপ শোভা। বাঁধের ধারে অপেক্ষমান সারি সারি ডিঙি নৌকো আর ইঞ্জিনচালিত বোট। ১১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের লেক কেবল সুভা ছড়ায়। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে স্বচ্ছ পানিতে তাকাতেই দেখা যায় নীলাকাশ। কিছুদূরেই দেখা গেছে পাহাড়ের কান্না। অঝোরে কাঁদছে পাহাড়। অথচ তার কান্না দেখে নিজের কাঁদতে একটুও ইচ্ছে হয়নি। বরং কান্নার জলে গা ভাসিয়েছে অনেকেই। ঝর্ণা দেখার জন্য প্রতিজন থেকে নেওয়া হয় ইঞ্জিন চালিত বোডে ৩০ টাকা করে। আর ডিঙ্গি নৌকা রিজার্ভ ভাড়া নেওয়া হয় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। নৌকা বা বোডে করে যেতে হয় ঝর্ণা দেখার জন্য। বোডের ভাড়া কম হওয়াতে অনেকেই ছুটে যান ঝর্ণা দেখতে। এবারের ঈদে মানুষের ঢল নেমেছে অপরূপ সৌন্দর্য্যরে আট স্তর বিশিষ্ট ঝর্ণায়। বড়তাকিয়ায় খৈয়াছড়া সড়কে ঈদের দিন থেকে মানুষের ভীড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মিরসরাই উপজেলা ছাড়াও ঝর্ণার পানিতে নিজের ঘাঁ ভাসিয়ে দিতে দূর দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছে অনেক আবাল বৃদ্ধ বনিতা। নান্দনিক তুলিতে আঁকা সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে দেশের ভ্রমণ পিয়াসী মানুষ। প্রকৃতির অপরূপ সৃষ্টি সেতুবন্ধন করে, সবুজের চাদরে ঢাকা বনানী রূপের আগুন ঝরায়, যেখানে প্রকৃতি খেলা করে আপন মনে, ঝুম ঝুম শব্দে বয়ে চলা ঝর্ণাধারায় গা ভিজিয়ে মানুষ যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ থেকে নিজেকে ধুয়ে সজীব করে তুলছে খৈয়াছরা ঝরনায়। গ্রামের সবুজ শ্যামল আঁকা বাঁকা মেঠো পথ পেরিয়ে শরীরটা একটু হলেও ভিজিয়ে নেয়া যায় নিঃসন্দেহে। এছাড়া নয়দুয়ারিয়া নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায়ও ঢল নেমেছে মানুষের। দেশের ষষ্ঠ সেচ প্রকল্প ও প্রথম বায়ু বিদ্যুৎ প্রকল্প মুহুরী প্রজেক্ট প্রকৃতির আরেক নাম। এখানে আছে আলো-আঁধারির খেলা আছে জীবন-জীবিকার নানা চিত্র। মুহুরীর চর, যেন মিরসরাইয়ের ভেতর আরেক মিরসরাই। অন্তহীন চরে ছোট ছোট প্রকল্প। এপারে মিরসরাই, ওপারে সোনাগাজী। ৪০ দরজার রেগুলেটরের শোঁ শোঁ আওয়াজ শোনা যায় দূর থেকে। পশ্চিমে মৎস্য আহরণের খেলা, আর পূর্বে মন কাড়ানিয়া প্রকৃতি। নুয়ে পড়া মনোবল জেগে উঠবে পূবের জেগে ওঠা চরে। ডিঙি নৌকায় ভর করে কিছুদূর যেতেই দেখা মিলবে সাদা সাদা বক। এখানে ভিড় করে সুদূরের বিদেশী পাখি, অতিথি পাখি বলেই অত্যধিক পরিচিত এরা। চিকচিকে বালিতে জল আর রোদের খেলা চলে সারাক্ষণ। সামনে পেছনে, ডানে-বামে কেবল সৌন্দর্য আর সুন্দরের ছড়াছড়ি। এবারের ঈদে পর্যটকদের পদভারে মুখরিতম হয়েছে মুহুরী প্রজেক্ট। নয়নাবিরাম প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাওয়াছড়া সেচ প্রকল্প। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুর বাওয়াছড়া পাহাড়ীয়া এলাকায় যুগ যুগ ধরে ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। সবুজ শ্যামল পাহাড়ীয়া লেকে পাখিদের কলতানে আবাল, বৃদ্ধ, বণিতা সকলের প্রান জুড়িয়ে যাবে। এবার পর্যটক গত বছর গুলোর তুলনায় এক এসেছে বলে জানিয়েছেন বাওয়াছড়া প্রকল্পের উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন সেলিম ঈদের দিন থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় মানুষের ভিড় বেড়েছে দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

পর্যটন স্পটগুলোতে নিরাপত্তার বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) দিপাঙ্কার তালুকদার এবং জোরারগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার বিপুল দেবনাথ জানান, ঈদে মিরসরাইয়ের পর্যটন স্পট গুলোতে নিরাপত্তার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুলিশ উপস্থিতি ছিল। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান সহ মহাসড়কে পুলিশের টহল অব্যাহত রয়েছে।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত