টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ: মহেশখালীতেও লুপাটের আয়োজন!

Koila biddot_1ইমাম খাইর, কক্সবাজার ব্যুরো:
‘কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ নির্মাণ’ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় মাতারবাড়ীর পর এবার মহেশখালীতেও লুপাটের আয়োজনের গুঞ্জন ওঠেছে। ‘ফিল্ডবুক’ তৈরী কাজের শুরুতেই এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
এ নিয়ে ‘মাতারবাড়ীর ভূতের আঁচড় মহেশখালীতেও পড়ছে’ বলে ধারণা করছেন অধিগ্রহণ আওয়াতাভুক্ত জমির মালিকরা।
তবে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এম.এম মাহমুদুর রহমান বলছেন, প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে মাত্র। এখনো অনেক কাজ বাকী। শুরুতেই এমন অভিযোগ অবান্তর।
তিনি বলেন,স যে কেউ আবেদন জমা করতে পারে। যাচাই বাছাইয়ের পরই সিদ্ধান্ত। জমির প্রকৃত মালিক ছাড়া কাউকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবেনা।
জেলা প্রশাসনের রাজস্ব শাখা সুত্রে জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে অনুমোদিত এল.এ মামলা নং-০৪/২০১৩-২০১৪ মূলে মহেশখালী মৌজার হোয়ানক, হেতালিয়াঘোনা, কালারমারছরা, হরিয়ারছরা, পানিরছরা ও অমাবস্যাঘোনার ৫৬৪৬.৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। বিদ্যুৎ উন্নয়নবোর্ডের অধীনে সেখানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেখ ফরিদ আহমেদ’র নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে তিনি ছাড়াও রয়েছে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, অতিরিক্ত ভূমি দখল কর্মকর্তা, ৮ সার্ভেয়ার, ৩ কানুনগো ও বিদ্যুৎ উন্নয়নবোর্ডের একজন প্রতিনিধি। ‘ফিল্ডবুক’ তৈরী করতে ইতিমধ্যে ওই কমিটি বেশ কয়েকবার সরেজমিন গিয়েছে। তারা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাক্কলনের কাজ ৮০ শতাংশ এগিয়ে গেছে। আগামী সপ্তাহর মধ্যে বাকী কাজ সমাপ্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রের দাবী।
এ দিকে অভিযোগ ওঠেছে, জমির মূল মালিককে গোপনে রেখে জরিপদলকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে চিংড়িঘের ইজারাগ্রহীতারা। বিশেষ করে কালাপাড়াঘোনা, শুদ্ধখালীঘোনা, ডাউক্কাঘোনা, আজগরবরঘোনা, শিলখালীঘোনার ইজারাগ্রহীতারা এসব কুটচালের আশ্রয় নিয়েছে। তারা নিজেদের ভূয়া কাগজপত্র জমা করে জরিপদলকে বিভ্রান্ত করতে অপচেষ্টায় নেমেছে। এ নিয়ে জমির মালিক ও ইজারাগ্রহীতাদের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। বিষয়টি জেলা প্রশাসকহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ আকারে জানিয়েছে চিংড়িঘের জমির মূল মালিকরা।
ডাউক্কাঘোনার জমির মালিক রুহুল কাদের বাবুল জানান, আমরা কাউকে চিংড়িঘের ইজারা দিইনি। চিংড়িঘের আমাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এরপরও এলাকার একটি দখলবাজ ও সন্ত্রাসীচক্র জরিপদলকে ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা আত্নসাতের পাঁয়তারায় নেমেছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
শুদ্ধখালী ঘোনার জমির মালিক সরওয়ার জানান, চিংড়িঘের’র যাবতীয় অবকাঠামো নিজেদের অর্থেই নির্মাণ করেছি। এরপর চুক্তিপত্রের মাধ্যমে ৬ মাসের ইজারা দিয়েছি। ইতিমধ্যে ইজারাগ্রহীতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। কিন্তু আমাদের বাদ দিয়ে ইজারাগ্রহীতার নামেই ক্ষতিপুরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
একই অভিযোগ অন্যান্য ঘের মালিকদেরও। তারা বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ করেছেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সেখ ফরিদ আহমেদ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘দাগসচি’ তৈরীর কাজ চলছে। বি.এস রেকর্ড অনুসারে জমির মালিকের নাম ও জমির পরিমাণ নির্ণয় করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অধিগ্রহণকৃত জমির উপর নির্মিত অবকাঠামোই ক্ষতিপূরণের আওতায় আসবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে। সব তথ্য যাচাই বাছাই শেষে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হবে। জমির মূল মালিক ছাড়া অন্য কোন পক্ষ ক্ষতিপূরন পাওয়ার প্রশ্নই অসেনা।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত