টক অব দ্য চট্টগ্রাম
Ad2

চট্টগ্রামে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চামড়া সংগ্রহ

chamraচট্টগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বর (সিটিজি টাইমস): চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেক পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া সংগৃহীত হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয় প্রকাশ করেছে কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি। শরীকদার ভিত্তিক কোরবানির কারণে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সমিতির সদস্যরা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির সভাপতি সেকান্দর সর্দার জানান, গত বছরের মত এবারও চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ৫ লাখ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তন্মধ্যে গরুর চামড়া চার লাখ, মহিষ ২০ হাজার এবং ছাগলের চামড়া ধরা হয়েছিল ৮০ হাজার।
কিন্তু দেখা যায়, রবিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২ লাখ ১০ হাজারের মতো চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। তন্মধ্যে গরুর চামড়া ২ লাখের কিছু কম। মহিষ ও ছাগলের চামড়ার সংখ্যা ১০ হাজারেরও কিছু বেশি। চামড়া সংগ্রহের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
সমিতির সভাপতি সেকান্দর সর্দার আরও জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিনের মধ্যে পশুর চামড়া তিন চতুর্থাংশ সংগ্রহ হয়ে আসছিল। সেক্ষেত্রে এবার ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটছে। চামড়া আসা প্রায় কমে এসেছে। দাম বেশি দিয়েও এখন আর চামড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি জানান, সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৫০-৫৫ টাকা নির্ধারণ করলেও আমরা চামড়া কিনেছি প্রতি বর্গফুট ৭০-৭৫ টাকায়। শুরু থেকে চামড়া কম আসা দেখে আমরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছি। আমরা মনে করেছি, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনছে। ফলে আড়তে চামড়া আনছে না। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় চামড়ার সংখ্যাই মূলত কম ছিল।
সেকান্দর সর্দার জানান, চট্টগ্রামে এবার কোরবানির সংখ্যা হয়তো কমেনি। তবে পশু কোরবানির সংখ্যা কমেছে। বিশেষ করে অর্থাভাবের কারণে শরীকভিত্তিক কোরবানি দিয়েছে চট্টগ্রামের মানুষ। ফলে পশুর চামড়া অর্ধেকে নেমে এসেছে।
চট্টগ্রাম আতুড়ার ডিপোর আড়তে চামড়া বিক্রি করতে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষ যারা গত বছরও এককভাবে কোরবানি দিয়েছে তাদেরও এবার শরীকভিত্তিক কোরবানি দিতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম মোহাম্মদপুর আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান জানান, মানুষের আর্থিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে। ফলে মানুষ নিরূপায় হয়ে শরীকভিত্তিক কোরবানি দিয়েছে। অভাবে পড়ে আমিও এ বছর শরীকভিত্তিক কোরবানি দিয়েছি। অথচ আমার জীবনে কখনও এই অবস্থা হয়নি।

সিটিজি টাইমসে প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য

মতামত